kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

কাজের মানুষ

দক্ষ প্রেজেন্টেশনের দশকাহন

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দক্ষ প্রেজেন্টেশনের দশকাহন

আধুনিক সৃষ্টিশীল ব্যবস্থাপনাজগতে প্রেজেন্টেশনকে আরো উচ্চতর প্রকাশ মাধ্যমে নিয়ে যেতে চলছে নিরন্তর চেষ্টা। একটি ভালো প্রেজেন্টেশনের গুরুত্ব কতখানি, তা দক্ষ নির্বাহী মাত্রই জানেন। প্রেজেন্টেশন তৈরি করার জন্য একটি গবেষণাপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলতে হয়। তাই প্রতিটি প্রেজেন্টেশনই আলাদা আলাদাভাবে গুরুত্ব বহন করে। প্রতিটি প্রেজেন্টেশনই একেকটি নতুন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আপনার জন্য দশ পরামর্শ—

 

এক.

প্রেজেন্টেশনের বিষয়, আঙ্গিক, উদ্দেশ্য আর গুরুত্বের ওপর প্রস্তুতি নির্ভর করে। লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আপনি প্রেজেন্টেশনে কী কী বিষয়ে বলতে চাচ্ছেন, সে বিষয়ে আপনার পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। শুধু ভাবনায় বা ধারণায় নয়, শুরু থেকেই কাগজে-কলমে পরিকল্পনা করুন।

 

দুই.

বিষয়গুলো গুরুত্ব অনুযায়ী সাজিয়েছেন, নাকি কৌশল অনুযায়ী সাজিয়েছেন? যেভাবেই সাজানো হোক না কেন, সাজানোর পেছনের কারণটা যুক্তিসংগত হওয়া দরকার। যা উদ্দেশ্য সফল করতে ভূমিকা রাখবে। প্রেজেন্টেশনের দুর্বল অংশগুলো কী কী আর শক্তিশালী জায়গাগুলো কোথায় কোথায়, তা-ও চিহ্নিত করে সাজান।

 

তিন.

বিষয়গুলো যেভাবে মনে আসে, সেভাবেই মনে মনে একবার বলুন। এবার গুরুত্ব অনুযায়ী ও কৌশল অনুযায়ী সাজিয়ে বলুন।  এবার সাজানো বিষয়গুলো ক্রমান্বয়ে লিখে ফেলুন। মাথা খাটাতে হবে—আপনি কেন এভাবে সাজাতে চাচ্ছেন। এভাবে সাজালে আপনার উদ্দেশ্য কতটা সফল হতে পারে?

 

চার.

যা বলতে চাইছেন, তাকে আরো হূদয়গ্রাহী করে তুলতে কৌশল ঠিক করুন। বক্তব্যের পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত, প্রমাণ, দলিল, উত্সসহ হাজির করুন। এ বিষয়গুলো একে একে লিখুন।

তারপর পরিকল্পনা করুন। প্রেজেন্টেশন যে শুধু পাওয়ার পয়েন্টেই হতে হবে—এমন তো কথা নেই! বিষয় ও লক্ষ্যভেদে হাজারো সৃষ্টিশীল উপায় ব্যবহার করতে পারেন। একঘেয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে যদি সৃষ্টিশীল কিছু যোগ করতে পারেন, তাহলে প্রেজেন্টেশন আরো হূদয়গ্রাহী ও উপভোগ্য হবে।

 

 

পাঁচ.

একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরির পর রিহার্সাল শুরু করুন। দেখবেন, কিছু জায়গায় ঠিক ভালো লাগছে না। সেগুলো আবার পরিবর্তন করুন। দ্বিতীয় খসড়া পরিকল্পনা করুন। আবার রিহার্সাল করুন। এবারও কিছু জায়গা পাবেন, যা ঠিক আপনার মনের মতো হলো না। এবার একটা বিরতি নিন। এক কাপ চা বা শরবত খান। ভাবনার ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা গান শুনুন; কিন্তু সাবধান, মনোযোগ যাতে পুরো বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। এবার তৃতীয় খসড়া তৈরির কাজে হাত দিন। নিজেই টের পাবেন পার্থক্যটা কোথায়।

 

ছয়.

তৃতীয় খসড়া রিহার্সাল করার সময় পুরো প্রেজেন্টেশন অডিও ট্র্যাকসহ ভিডিও রেকর্ড করুন। এবার দেখুন, দৃশ্যগত সম্পাদনার জায়গাগুলো কোথায় কোথায়। প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের বা সহকর্মীদের মতামত নিন, তারপর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করুন।

সাত.

খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন হলে আপনার সহকর্মীদের কয়েকজনকে মিটিংরুমে ডাকুন। অথবা একেবারে ভিন্ন ক্ষেত্রের বন্ধুর মতামত নিন। প্রথমে তাঁদের আপনার প্রেজেন্টেশনের বিষয় ও আপনার উদ্দেশ্য সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলুন। তাঁদের সামনে আপনার প্রেজেন্টেশন তুলে ধরে মতামত নিন। তাঁদের কাছে আইডিয়া-সাহায্যও নিতে পারেন। দেখবেন, কল্পনাও করেননি এমন কিছু দারুণ আইডিয়া দিয়েছেন তাঁরা।

 

আট.

সহকর্মী বা বন্ধুদের যেকোনো মতামত সহজভাবে নিন। ভাবুন কোনো কিছু নতুন পাচ্ছেন কি না, যা আপনার প্রেজেন্টেশনকে আরো শক্তিশালী করতে পারে। প্রশ্ন করুন তাঁদের। মতামত বিশ্লেষণ করে ভালোভাবে বুঝে নিন, কী করা দরকার।

 

নয়.

একটানা কাজ না করে চূড়ান্ত পর্যায়ের আগে কয়েক দিন বিরতি নিন। তখন এই প্রেজেন্টেশন নিয়ে একেবারে ভাববেন না। দু-এক দিন পরে আবার বসুন, দেখুন নতুন করে আরো কিছু মাথায় আসছে কি না।

 

দশ.

সবচেয়ে বেশি দরকার আত্মবিশ্বাস, যা প্রেজেন্টেশনের সময় আপনার কণ্ঠে, শব্দ চয়ন ও বাক্যবিন্যাসে চোখেমুখে ফুটে উঠবে। মনে রাখবেন, আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ, অঙ্গভঙ্গি, স্থান-কাল-পাত্র, যাঁর উদ্দেশে প্রেজেন্টেশন করছেন তাঁর মুড, রুমের তাপমাত্রা, শব্দ-মাত্রা, নির্ঝঞ্ঝাট যান্ত্রিক ব্যবস্থা—এ সব কিছুই প্রেজেন্টেশনের উপাদান। কোথাও এতটুকু হেরফের হলে তা আপনার প্রেজেন্টেশনের লক্ষ্য অর্জনে প্রভাব ফেলবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা