kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

অন্য কোনোখানে
মেরিন ড্রাইভ রোড

ভ্রমণপিপাসুদের দেয় হাতছানি

আবু আফজাল মোহা. সালেহ   

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভ্রমণপিপাসুদের দেয় হাতছানি

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জেলা শহর কক্সবাজার সদর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে ইনানি বিচ। পূর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়, পশ্চিমে পাথরে আঁচড়ে পড়া নীল সাগরের বিশাল ঢেউ, সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, লাল কাঁকড়ার হুড়াহুড়ি, সৈকত সংলগ্ন ছোট-বড় খালে জেলেদের মাছ শিকারের দৃশ্য, সবুজ গ্রাম—যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অপরূপ মেলবন্ধন। প্রকৃতির এই রূপ অবলোকন করতে ছুটে গিয়েছিলাম ইনানিতে।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী হয়ে যাত্রীবাহী বাস, মোটরবাইক, ব্যাটারিচালিত টমটম গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে ইনানি বিচে আসা যায়।

বিজ্ঞাপন

তবে মেরিন ড্রাইভ সড়কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ব্যাটারিচালিত টমটমের কোনো বিকল্প নেই। স্বল্প গতি বলে মেরিন ড্রাইভ সড়কের চারপাশের সৌন্দর্য সুন্দরভাবে অবলোকন করা যায়। কক্সবাজার থেকে ইনানি ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরো রয়েছে দরিয়ানগর, হিমছড়ির ঝরনা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্টের গড়ে তোলা নিজস্ব পার্ক, বিশাল বিশাল সুপারি বাগান, পাহাড়, দৃষ্টিনন্দন সারি সারি ঝাউবাগান, বিদেশি চিংড়ি উৎপাদনকারী হ্যাচারি। যেন একই সঙ্গে সমুদ্র-পাহাড়-জঙ্গল ভ্রমণের সুযোগ। মাঝপথেই রয়েছে হিমছড়ির ঝরনা।

কক্সবাজার কলাতলী বা লাবনী বিচ থেকে টেকনাফগামী ৮০ কিলোমিটার নান্দনিক মেরিন ড্রাইভ রোড। দুই দিকে সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। কলাতলী থেকে ইনানি বা টেকনাফ যাওয়ার পথে ডান দিকে ফেনিল সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন কানে ভেসে আসে। দূরে থাকালে জেলেদের মাছধরার দৃশ্য। সমুদ্রটাকে তখন একেবারেই রাস্তার কাছে হয়। যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর দিয়ে ছুটে চলেছি আমরা। বাম দিকে পাহাড়, তার গায়ে ছোট ছোট গাছপালা। মাঝেমধ্যেই পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়া ছোট ছোট ঝরনা। হিমছড়ি পর্যন্ত বাম পাশে পাহাড় থাকায় এমন ছোট আকারের ঝরনার দেখা মেলে বেশ কয়েকটি।

খানিকপর পর নারকেল বা সুপারিগাছের সারি! তার মধ্য দিয়ে নয়রাভিরাম কালো পিচের সরু মেরিন ড্রাইভ সড়ক। দারুণ নান্দনিক ও মোহনীয় সে দৃশ্য! একবার এই পথ দিয়ে গেলে বারবার যেতে মন চায়। আরো কিছুটা পথ পারি দেওয়ার পর আবার নারকেল বাগান। তারপরই চোখের সামনে দিগন্তজোড়া বঙ্গোপসাগর। আমরা যত এগিয়ে যাই সাগর তত শান্ত হতে থাকে। মেরিন ড্রাইভের শেষ মাথায় দেখা দেবে টেকনাফের পাহাড়, নাফ নদ। এ পথেই আরো চোখে পড়বে জেলেদের ঘরবাড়ি, পাহাড়িদের বাড়িঘর। ভ্রমণ ক্লান্তি পেয়ে বসলে খানিকটা অবসর নিয়ে নেমে যেতে পারেন কোনো শুটকি পল্লীতে। বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে সারি সারি মাচায় শুকানো হচ্ছে হরেক রকম মাছ। দূর থেকেই নাকে ভেসে আসে শুটকি মাছের গন্ধ। সড়কের দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে নভেম্বরের এক বিকেলে সিএনজি-অটোরিকশায় পৌঁছে গেলাম শান্ত আর পাথুরে সি বিচ ইনানিতে। লাবনী বা কক্সবাজারসংলগ্ন সি বিচ থেকে অনেকটাই শান্ত ও নিরিবিলি ইনানি। সাগরের তীর ঘেষেই বালির নিচে কুড়েঘর বানিয়ে জেলেরা বাস করে। ঢুঁ মারতে পারেন সেখানেও।

 

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন ও বিমানে কক্সবাজার। সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে মেরিন ড্রাইভ রোডে খোলা জিপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটো পাওয়া যায়। সুবিধামতো যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। মেরিন ড্রাইভ রোডের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে খোলা জিপ অথবা সিএনজিতে যাওয়াই ভালো। সঙ্গে যদি ইনানি বিচও ঘুরে আসতে চান তাহলে দ্রুত চলে এমন যানবাহনে চেপে বসুন 



সাতদিনের সেরা