kalerkantho

কাজের মানুষ

অফিসেই ইংরেজি চর্চা

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অফিসেই ইংরেজি চর্চা

যদি ভালো ইংরেজি জানা বন্ধুর সাহচর্যে থেকে চর্চা চালাতে পারেন, তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রয়োজন হবে না। আর নিজে সাহসী হয়ে না এগোলে কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না। প্রশিক্ষক আপনাকে পথ দেখাতে পারে মাত্র, অফিসে বা ব্যক্তিজীবনে সাহসের সঙ্গে প্রয়োগ আপনাকেই করতে হবে

 

ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলার জন্য সাধনার শেষ নেই। তবু এ যেন এক আতঙ্ক। এই আতঙ্কে বিধ্বস্ত হয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ারও কোনো উপায় নেই। এড়িয়ে গেলে চাকরিটাই হয়তো পাওয়া যাবে না। পেলেও কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো হারাতে হবে। এই বাধা ডিঙানোর জন্য রইল ১০টি পরামর্শ। শর্ত হলো, এই পরামর্শ পালন করতে হবে পুরোপুরি। বাদ দেওয়া যাবে না একটি অংশও।

 

এক.

মহা উদ্যমে অনেক ঘটা করে ইংরেজি শেখা শুরু করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাঝপথে থেমে যায়। এটাই সবচেয়ে বড় বাধা। মাঝপথে হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। সফল হতে সময় লাগতে পারে কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে। একাগ্রতা থাকলে একসময় না একসময় আপনি সফল হবেনই।

 

দুই.

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হতে পারেন, বই পড়তে পারেন কিংবা কোনো অভিজ্ঞের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। কিন্তু্তু এই চর্চার সময় ভীত-সন্ত্রস্ত বা সংকুচিত হওয়া যাবে না। এক কথায় লজ্জা পাওয়া যাবে না। লজ্জা বা সংকোচ ইংরেজি কথোপকথনের বড় বাধা। ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয়। সুতরাং বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিন। এই সমস্যা আপনার একার নয়, কমবেশি আমাদের সবার।

 

তিন.

অনেক ইংরেজি শব্দের অর্থ জানতে হবে। কিন্তু এই শব্দগুলো নিত্য প্রয়োজনে ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে। আপনার অফিসের কাজে সুবিধা হয় এমন একটা শব্দ ভাণ্ডারও তৈরি করতে পারেন, যা অফিসে আপনার কথোপকথনকে আরো সহজ করবে।

 

চার.

ইংরেজি বলা শুরু করতে হলে ব্যাকরণ অবশ্যই জানতে হবে। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই ব্যাকরণ লাগবে—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। চর্চা শুরু করুন। একসময় হয়ে যাবে। 

 

পাঁচ.

ভালো ইংরেজি বলতে পারে কিংবা আপনার চেয়ে অগ্রসর একজন বন্ধু খুঁজে নিতে হবে। যার সঙ্গে ভুল ইংরেজি বললেও কোনো সমস্যা নেই। বন্ধুটি আপনাকে শুধরে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করবে না। যদি কোনো কারণে এই বন্ধু আপনি না পান তবে একলা চলো রে নীতি অনুসরণ করুন।

 

ছয়.

অফিসের কাজে বড় ধরনের সমস্যা হবে না—এমন জায়গাগুলোয় ইংরেজি বলা অভ্যাস করুন। ভুল হোক, ধীরে হোক, অসুন্দর হোক তবু আপনাকে নিঃসংকোচে চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে আপনার সহকর্মীদের বলুন যেন ভুল হলে তারা শুধরে দেয়। খোলা মনে নিন। ধীরে ধীরে দেখবেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন। যেটুকু শিখেছেন সেটুকু দিয়েই বিরামহীন ইংরেজিতে কথা বলুন।

 

সাত.

কিছু শব্দ বা লাইন আছে, যা অফিসের কাজে বা কথায় বেশি ব্যবহার হয়। যেমন : ‘আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?’ ‘দুঃখিত, বুঝতে পারিনি আবার বলুন’ ‘যা বললাম আপনি কি বুঝতে  পেরেছেন?’ আপনার অফিসের কাজ অনুযায়ী এই রকম বাক্যের একটা তালিকা করুন। এই বাক্যগুলো ঠোঁটস্থ করে নিন। তবে বুঝেশুনে ঠোঁটস্থ করুন, না বুঝে নয়।

 

আট.

সময় পেলে নিজের ইংরেজিতে বলা কণ্ঠ রেকর্ড করুন এবং নিজেই আবার শুনুন। বোঝার চেষ্টা করুন, কোথায় ভুল হচ্ছে বা শুনতে খারাপ লাগছে।

 

নয়.

যদি ভালো ইংরেজি জানা বন্ধুর সাহচর্যে থেকে চর্চা চালাতে পারেন, তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রয়োজন হবে না। আর নিজে সাহসী হয়ে না এগোলে কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না। প্রশিক্ষক আপনাকে পথ দেখাতে পারে মাত্র, অফিসে বা ব্যক্তিজীবনে সাহসের সঙ্গে প্রয়োগ আপনাকেই করতে হবে।

 

দশ.

ভুল হোক, তবু কথা বলুন। সাময়িক সময়ের জন্য হয়তো লোকে মনে মনে ‘কিছু একটা’ বলবে। কিন্তু সংকোচ করে না শিখলে সারা জীবন অজ্ঞ থেকে যেতে হবে। সুতরাং সাময়িক এই লজ্জার ভয় কাটিয়ে একাগ্রচিত্তে শিখুন আর চর্চা করুন। শেখার সময় উচ্চারণ আর বানানের দিকে খেয়াল রাখলে বেশি ভালো করতে পারবেন।

মন্তব্য