kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বৈশাখ বরণের সাজ

বৈশাখের সাজ নিয়ে নিরীক্ষা কম হয়নি। এবারের বৈশাখে প   

১৩ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বৈশাখ বরণের সাজ

মডেল : লিজা পোশাক : বিবিয়ানা ছবি : কাকলী প্রধান

বৈশাখ মানেই রঙের মেলা। উজ্জ্বল সব রং খেলা করে সাজ আর পোশাকে। শখ করে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ টপস বা কুর্তা-যা-ই পরুন না কেন, এর সঙ্গে সাজ আর গয়না কেমন হবে তা জানাটাই জরুরি।
 
গলায় গোল্ড প্লেটেড ছোট্ট লকেট ও কানে ঝোলানো দুল 
সারা দিন ভিড়ভাট্টায় ঘোরাফেরায় অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্য পান সালোয়ার-কামিজে। দিনের বেলায় উজ্জ্বল রঙের পোশাকের সঙ্গে সাজটা হালকা হওয়াই ভালো। ঠোঁটে উজ্জ্বল রঙের লিপস্টিক দিতে পারেন। মনোযোগী হতে হবে চোখের সাজের দিকে। সোনালি আর বাদামি রঙের আইশ্যাডো দিন। চোখের সাজ ফুটিয়ে তুলতে লাইনার, কাজল আর মাশকারা। লাইনার ব্যবহার না করে মোটা করে কাজল পরলেও বেশ একটা স্নিগ্ধ ভাব আসবে। দিনের বেলায় হালকা ব্লাশনের ছোঁয়া রাখুন সাজে। না দিলেও মন্দ লাগবে না। আর চুল আঁটসাঁট করে না বেঁধে একটু কার্ল করে একটা পনিটেল করে নিন। গরমে আরাম পাবেন। কানে ঝোলানো দুল পরুন। গলাটা না হয় খালিই থাকুক। হাত ভর্তি করে চুড়ি পরুন। বৈচিত্র্য আনতে এক থেকে বেশ কয়েকটি রঙিন পুঁতির ব্রেসলেটও পরতে পারেন। বৈশাখে ফুলের গয়নার জুড়ি নেই। চাইলে শুধু ফুলের গয়নায় হয়ে উঠুন আকর্ষণীয়া। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে গতানুগতিক ফুলের মালা-দুল ভালো মানায় না। ফুল-পাতার তৈরি রিং ব্যান্ড পরুন মাথায়। চুলটা সে ক্ষেত্রে ব্লো-ডাই বা কার্ল করে ছেড়ে রাখুন। কানে কিছু না পরলেও চলবে। গলায় একটা ছোট্ট লকেট থাকতে পারে। এক হাতে জড়িয়ে নিন কয়েক গুচ্ছ বেলি ফুলের মালা। অন্য হাতে রঙিন দু-একটি ব্রেসলেট বা চুড়ি থাকতে পারে।
 
মাটির গয়না কিংবা ছোট পুঁতির লহরি মালা 
বর্ষবরণের দিনে বিশেষ সাজ মানেই যেন শাড়ি। ব্লক প্রিন্ট, এমব্রয়ডারির নকশা করা সুতি শাড়ি। আর বৈশাখের শাড়িতে সাদা-লালের ছোঁয়া তো থাকবেই।
 
হোক গরমের দিন, উৎসব বলে কথা। শাড়ির সঙ্গে সাজে একটু জমকালো ভাব থাকাটা মোটেই দোষের হবে না। তবে বেইজ যতটা সম্ভব হালকা আর স্নিগ্ধ রাখুন। প্রাইমার, ফাউন্ডেশন আর প্রেসড পাউডার দিয়ে বেইজ করে নিন। চোখটা সাজান ইচ্ছামতো। গোল্ডেন ব্রাউন বা বাদামি রঙের যেকোনো শ্যাডো বেছে নিন। মোটা করে আইলাইনার দিয়ে অল্প টেনে নিন চোখটা। চোখের কোলে কাজল দিয়ে ম্যাশ করে নিন। আইব্রোর নিচে হাইলাইটার লাগান। ঠোঁটে লাল লিপস্টিক আর সঙ্গে কপালে লাল টিপ। বৈচিত্র্য আনুন চুলের সাজে। সামনে একটু পাফ করে চুলটা ছেড়ে রাখতে পারেন। আর বেণি বা খোঁপাও মানাবে। ছেড়ে রাখলে ফুলের গোল ব্যান্ড পরুন। কিংবা বেলি ফুলের মালা গোল করে ব্যান্ডের মতো লাগিয়ে নিতে পারেন। বেণি বা খোঁপা করলে কানের পাশে বড় একটা ফুল গুঁজে দিন। জমকালো ভাব চাইলে পুরো খোঁপা বা বেণিজুরে বেলি ফুলের মালা জড়িয়ে নিন। সাজ জমকালো হলে গয়নায় রাখুন ছিমছাম ভাব। এই সাজের সঙ্গে মাটির গয়না খুব ভালো মানাবে। চলতি ট্রেন্ড চাইলে ছোট পুঁতির লহরি মালা পরতে পারেন। এখন কডের গয়না বেশ চলছে। চাইলে অনেক লহরি লাল কডের মালা পরুন। তবে এ ধরনের মালায় লকেট না থাকলেই ভালো লাগবে। ইচ্ছামতো লাল রেশমি চুড়ি পরুন হাত ভরে।
 
কানে ঝুমকা বা কানপাশা আর হাতে মোটা বালা বা ঝুরা চুড়ি
ঐতিহ্যবাহী শাড়ির যেমন-জামদানি, কাতান কিংবা মসলিন শাড়ির সঙ্গে অনেকেই সাবেকিয়ানা সাজই পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে চোখের লাইনার একটু টেনে দিয়ে মোটা করে কাজল পরুন। ঠোঁটের লিপস্টিকেও রাখুন উজ্জ্বলতার ছোঁয়া। রঙের ক্ষেত্রে মভ, গোলাপি, বাদামি রংই মানানসই। তবে টকটকে লাল রঙের লিপস্টিকও হতে পারে বৈশাখের সাজের প্রতীক। জামদানি বা গরদের মতো ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরলে লাল লিপস্টিক আর হাতের আঙুলে আলতা পরুন। কপালে লাল টিপ কিন্তু থাকতেই হবে। চুলের সাজে চলতে পারে  খোঁপা কিংবা বেণি। খোঁপা করলে তাতে পরা যেতে পারে খোঁপার কাঁটা। বেণিতে কড়ির টারসেল বেঁধে নিলে পাওয়া যাবে উৎসবের আমেজ, সঙ্গে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। এই সাজে বেছে নিন মেটালের গয়না। হাসুলি, বালা, মাদুলি খুব মানাবে। কানে ঝুমকা বা কানপাশা। হাতে মোটা বালা, ঝুরা চুড়ি আর মাঝেমধ্যে দু-একটা পলার চুড়িও বেশ মানাবে।
 
গলায় লম্বা মালা আর পায়ে খাড়ু
বিদেশি পোশাক হলেও টপস-কুর্তা এখন আমাদের সংস্কৃতিরই একটা অংশ।  চাইলে বেছে নিতে পারেন জিন্সের বা লেগিংসের সঙ্গে ফতুয়া-টপস। সঙ্গে চাই সামঞ্জস্যপূর্ণ সাজ। বেইজ অবশ্যই হালকা আর ন্যাচারাল। চোখের পাতায় শ্যাডো দিন ইচ্ছামতো। একটু গাঢ় রং বেছে নিন। বাদামি, সোনালি, গাঢ় নীল, অ্যাশ ইচ্ছামতো শ্যাডো নিন। শ্যাডোর সঙ্গে আইলাইনার ব্লেন্ড করে দিন। সোনালি বা রুপালি রং দিয়ে হাইলাইট করুন। চোখের নিচেও শ্যাডোর হালকা ছোঁয়া দিন। কালোর পরিবর্তে একটু কালারফুল মাশকারা ব্যবহার করুন। তাতে আরো সুন্দর হয়ে উঠবে চোখ। লালের ছোঁয়া রাখুন ঠোঁটে। ঠোঁট এঁকে লাল, ম্যাজেন্টা, গোলাপি বা লালের যেকোনো শেডের লিপস্টিক লাগান। সাজ শেষ করুন মানানসই হেয়ারস্টাইল দিয়ে। তবে চুল সিল্কি হলে ব্লো-ডাই করে ছেড়ে রাখলেই মনে হয় বেশি ভালো দেখাবে। কার্লি লুকও ভালো মানাবে এ সাজের সঙ্গে। কিংবা কার্ল করে চুলটা একটু পেঁচিয়ে একটা পাঞ্চ ক্লিপ আটকে দিন। এবার পাঞ্চক্লিপের সঙ্গে পোশাক মিলিয়ে একপাশে একটা ফুল আটকে দিন। দেশীয় ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে সাজে দেশীয় ভাব আনুন গয়না দিয়ে। 
কুর্তা পরলে বাজু পরতে পারেন। সঙ্গে গলায় লম্বা মালা, পায়ে খাড়ু। প্যান্ট, লেগিংস বা ক্যাপ্রির সঙ্গে এটি আপনাকে আকর্ষণীয় করে তুলবে। হাতে আংটি ও কানে ছোট্ট দুলে পরিপূর্ণতা পাবে উৎসবের সাজ।

মন্তব্য