kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

সমনভাগ লেকে এক বেলা

দিগন্ত সৌরভ   

৩০ জুন, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমনভাগ লেকে এক বেলা

তখন রাত, উপবনে রওনা হলাম। সারা রাত দুলে দুলে ভোরে পৌঁছলাম কুলাউড়া। সিএনজি নিয়ে বড়লেখা গিয়ে একটা হোটেলে উঠলাম। ব্যাগ রাখলাম ঝটপট। ফ্রেশ হলাম চটপট। নাশতা খেলাম হালুম হুলুম। রওনা হয়ে গেলাম সমনভাগ। প্রথমে দক্ষিণভাগ নামলাম সিএনজি থেকে। সেখান থেকে গেলাম কলাজুরা বাজারে। রাস্তা এখানে সুবিধার নয়। রিকশাই বাহন। কাঁচা-পাকা রাস্তা উজিয়ে কিছুক্ষণ পর বাগানের ভেতর ঢুকে পড়লাম। একটা গেটের সামনে গিয়ে রিকশা দাঁড়িয়ে পড়ল। ভাড়া মিটিয়ে পায়ের ওপর চাপলাম। মোকারম ভাই বললেন, যেভাবেই হোক, চা ফুলের ছবি তুলতে হবে। খোঁজাখুঁজি করে একটা গাছে অবশেষে পেয়ে গেলাম। মোকারম ভাইয়ের খুশি আর ধরে না। ঠিকমতো লেন্স সেঁটে অনেকগুলো ছবি তুললাম। তারপর ঢুকে গেলাম বাগানের গভীরে। এবার আরো এক রকম ফুল পেলাম। দুজনেই ভেবেছিলাম, এটা বকফুল। কিন্তু পাপড়ি হাতে নিয়ে ভুল ভাঙল। বাগানের পাহারাদার জানালেন, এর নাম মেডলা। চা বাগানের ভেতর কয়েক ফুট দূরে দূরে মেডলা গাছ লাগানো হয়। এই গাছের মূল ও শাখা-মূল মাটিতে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

একটা খাদ পাড়ি দিয়ে একটা লেক পেলাম। বেশি বড় না। কিছু শাপলা ফুটে আছে। সমনভাগ লেকের দিকে পা বাড়ানোর সময় একটা চমৎকার সোনালি ফুল দেখলাম। খুব সুবাস দিচ্ছে। মোকারম ভাই নাম দিলেন পাথারিয়ার সোনালি ফুল।

হাঁটতে হাঁটতে খুব তৃষ্ণা পেল। সঙ্গে যে বোতলটি ছিল, তা আগেই শেষ হয়ে গেছে। এক গারো বাড়িতে গিয়ে পানি চাইলাম। বালতি দিয়ে কূপ থেকে পানি তুলে দিলেন এক মহিলা। লেকের কাছে চলে এসেছি। পাহাড়মতো বিশাল একটি টিলা পেলাম সামনে। টিলার ওপরের ছায়াবৃক্ষগুলোয় অনেক সাদা বক। টিলাটি পার হতেই সমনভাগ লেক ধরা দিল। সবুজ স্নিগ্ধতা এর চারধারে। বৃষ্টিতে এটি জলে টলমল। অনেক অনেক শাপলা ফুটে আছে। একধারে কয়েকটি পানকৌড়ি। ঝিরঝির বাতাস কাঁপন তুলছে এর বুকে। আমাদের চোখের সামনে এক অপার সৌন্দর্য। আমরা হারিয়ে যেতেও ভুলে গেলাম।

ছবি : লেখক

যাতায়াত

বুধবার ছাড়া প্রতিদিন রাত পৌনে ১০টায় উপবন এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এতে চড়ে কুলাউড়া নামতে পারবেন। ভাড়া ৬৬৯ টাকা (এসি আসন), ৩৯৫ টাকা (প্রথম শ্রেণি সিট ও চেয়ার), ২৯৫ টাকা (শোভন চেয়ার), ২৪৫ টাকা (শোভন সুলভ)। কুলাউড়া থেকে সিএনজিতে যেতে হবে দক্ষিণভাগ, সেখান থেকে কালাজুরা, তারপর হেঁটে সমনভাগ। কুলাউড়া ও বড়লেখায় বেশ কিছু মধ্যম মানের হোটেল আছে। ভাড়া শুরু হয় ২০০ টাকা থেকে।