kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

ফাইল ফ্যাক্ট

সাঁওতাল বিদ্রোহ

   

৩০ জুন, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাঁওতাল বিদ্রোহ

* ৩০ জুন সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৫৯তম বার্ষিকী। ১৮৫৫ সালের এই দিনে সাঁওতালরা বিদ্রোহ শুরু করে। এটি ছিল জমিদার, মহাজন আর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের সশস্ত্র বিদ্রোহ।

* রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও খাজনা প্রবর্তনের ফলে সাঁওতালরা আদি বাসভূমি ছেড়ে রাজমহল পাহাড়ের পাশে বসতি স্থাপন করে। জঙ্গল কেটে স্থানটিকে চাষাবাদের উপযোগী করে। ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সেখানেও হাজির হলে সাঁওতালরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সাঁওতালরা বিশ্বাস করত, যে ব্যক্তি প্রথম জঙ্গল কেটে জমি চাষের উপযোগী করে, জমি তারই।

* ভাগলপুরের ভগনাডিহি গ্রামের বাসিন্দা সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব- এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বে সংঘটিত হয় সাঁওতাল বিদ্রোহ।

* ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ভগনাডিহি গ্রামে ওই অঞ্চলের ৪০০টি গ্রামের ১০ হাজার সাঁওতাল কৃষক জমায়েত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, অত্যাচারী শোষকদের হাত থেকে রক্ষায় সবাইকে এক হয়ে লড়তে হবে, জমির খাজনা দেওয়া হবে না, প্রত্যেকের যত খুশি জমি চাষ করার স্বাধীনতা থাকবে। বিদ্রোহ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

* গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন করে সাঁওতালরা। মেজর বারোজের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভিযানকে পর্যুদস্ত করে সাঁওতালরা। এই বিজয়ে উৎসাহী হয়ে তাঁরা আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

* ১৮৫৫ সালের ১৯ জুলাই সামরিক আইন জারি করা হয়। সাঁওতালদের দমনে পাঠানো হয় তিনটি সৈন্যদল। সাঁওতালদের রক্তে সিক্ত হয় রাজমহল পার্বত্য এলাকা। ধ্বংস করা হয় তাঁদের সব কয়টি গ্রাম। বন্দি সাঁওতালদের শিকলবদ্ধ অবস্থায় রেলপথ নির্মাণের কাজে নিযুক্ত করা হয়।

* বিদ্রোহীদের অধিকাংশই ধরা পড়ে এবং লোকদেখানো বিচার করে তাঁদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৮৫৬ সালের মার্চে স্তিমিত হয়ে পড়ে এ বিদ্রোহ।

* সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসে আদিবাসীদের আজও গাইতে শোনা যায়, 'সিদো-কানহু খুড়খুড়ি চাঁদ-ভায়রো ঘোড়া ওপরে দেখ সে রে! চাঁদ রে! ভায়রো রে! খোড়া ভায়য়োরে মুলিনে মুলিনে।'