kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

পাহাড়ের আলোচিত ওয়াদুদ ভূইয়া ফের নির্বাচনে অযোগ্য!

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

২৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতির মামলায় ২০ বছরের সাজা স্থগিত চেয়ে খাগড়াছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়ার আবেদন হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালেও নির্বাচনে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। এ অবস্থায় খাগড়াছড়ি আসনের জন্য বিকল্প প্রার্থী খুঁজছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে নতুন করে তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির নেতারা অবশ্য জানিয়েছেন, ওয়াদুদ ভূইয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আপিলের প্রক্রিয়া চলছে।

গতকাল মঙ্গলবার আদালতের আদেশ ও পর্যবেক্ষণ শুনে ওয়াদুদ ভূইয়ার সমর্থক ও নেতাকর্মীরা হতাশা ব্যক্ত করলেও এখনই হাল ছাড়তে নারাজ। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু জানান, কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দিলেও অ্যাপিলেট ডিভিশন আবেদনটি ফয়সালা না করা পর্যন্ত এটা বলা যাবে না যে ওয়াদুদ ভূইয়া নির্বাচনে অযোগ্য হচ্ছেন।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু ইউছুপ ভূইয়া বলেন, ‘ওয়াদুদ ভূইয়ার মতো জনপ্রিয় একজন নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ। কী হবে তাও বলতে পারছি না। এ মুহূর্তে কে বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন তাও নির্ভর করছে ওয়াদুদ ভূইয়ার ওপরই।’

সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে ওয়াদুদ ভূইয়ার আবেদন খারিজ হওয়ায় ভাগ্য খুলতে পারে বিএনপির অন্য কোনো নেতার। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্যদের মধ্যে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য সমীরণ দেওয়ান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু ও ওয়াদুদ ভূইয়ার ভাতিজা রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফরহাদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে সমীরণ দেওয়ান ২০০৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। তিনজনই দলের মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়িতে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে ওয়াদুদ ভূইয়ার নামই ঘোষণা করা হয়েছিল। এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সংগঠন গণফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি আমজাদ হোসেনও প্রার্থিতার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এর আগে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে কারাবন্দি ওয়াদুদ ভূইয়া প্রার্থী হলেও নির্বাচনে অযোগ্য হন। বিএনপির মনোনয়ন পান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সমীরণ দেওয়ান। অভিযোগ রয়েছে, ওয়াদুদ ভূইয়া তখন জেলে থেকেই সমীরণ দেওয়ানের বিরুদ্ধে নিজের ভাতিজা দাউদুল ইসলাম ভূইয়াকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করান।

মন্তব্য