kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

জাপাকে আওয়ামী লীগের না জামায়াতে বিএনপির অনীহা

এম আবদুল্লাহ আল মামুন, জকিগঞ্জ (সিলেট)   

২৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাপাকে আওয়ামী লীগের না জামায়াতে বিএনপির অনীহা

সিলেটের দুই সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট নিয়ে সিলেট-৫। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সেলিম উদ্দিন। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড় দেওয়ায় তিনি বিনা ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এবারও তিনি সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে জাপার মনোনয়ন চেয়েছেন। তবে সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবার দলীয় প্রার্থী চাইছে।

গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দলের নির্দেশে তা প্রত্যাহার করে নেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে গত বছর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই এবার দলীয় প্রার্থী চাইছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।’

এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ মজুমদার, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আব্দুল মোমিন চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোশতাক আহমেদ।

বৃহত্তর সিলেটে জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আসন সিলেট-৫। এ আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদারের কাছে ৩১ হাজার ৬৩ ভোটে পরাজিত হন।

১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করেও জামায়াত প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। বর্তমানে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম রোকবানী চৌধুরী জাবেদ।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে কানাইঘাটে একটিতে ও জকিগঞ্জে একটিতে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হন। সব হিসাবেই জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হচ্ছেন জামায়াতের ফরিদ চৌধুরী। জোটের কাছে জামায়াত এ আসনটি দাবি করে তা পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছে।

সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ২০ দলীয় জোটে রয়েছি। জোট যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দেবে।’

তবে বিএনপি নেতারা এ আসনে জামায়াতকে ছাড় দিতে বিন্দুমাত্রও রাজি নয়। তারা চাইছে দলীয় প্রার্থী।

কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, চাকসুর সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, প্রবাসী নেতা শরীফ লস্কর, জাকির হোসেন ও জাহিদুর রহমান প্রার্থী হতে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

চাকসুর সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘সিলেট-৫ আসন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির হাতছাড়া। অথচ বিএনপির ভোটে জামায়াত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয়ী হচ্ছে। তাই সিলেট-৫ আসনকে জামায়াতমুক্ত করার প্রত্যয়ে এবারের নির্বাচনে লড়তে চাই।’

জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ বলেন, ‘দুই উপজেলা চেয়ারম্যানই বিএনপির। এখানকার মানুষ জামায়াত নয়, বিএনপিকেই অধিক ভালোবাসে। দলের সব স্তর থেকে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি উঠেছে। যিনি ধানের শীষের প্রার্থী হবেন, তাঁর জন্য সবাই কাজ করবেন।’



সাতদিনের সেরা