kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

বেলা বাড়লেও ভোটার বাড়েনি

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেলা বাড়লেও ভোটার বাড়েনি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী আলমশাহী ইনস্টিটিউট ভোটকেন্দ্র। দুপুর ১টায় তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেনীর চারটি উপজেলায় ভোটারদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। রবিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও সকাল ১১টা পর্যন্ত কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের দেখা মেলেনি। এ সময় নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীর এজেন্টদেরও কেন্দ্রে দেখা যায়নি। তবে নির্বাচন নিয়ে জেলার কোথায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ফেনী সদর উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১২৭টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটের আয়োজন হলেও ভোটারদের দেখা মেলেনি তেমন। সকালে ৯টার দিকে ফেনী শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এক ঘণ্টায় একটি ভোট পড়েছে। একই অবস্থা ফেনী সরকারি আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে দুই হাজার ৭১০ জন ভোটার থাকলেও সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ৬১টি। সকাল ১০টার মধ্যে একটিও ভোট পড়েনি মোহাম্মদ আলী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মঠবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বারাহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শর্শদী উচ্চ বিদ্যালয়, মেজর সালাহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অবস্থাও প্রায় একই রকম।

দাগনভূঞার পশ্চিম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলাইয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলগাজী উপজেলার আলী আজ্জম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ও সোনাগাজীর সেকান্তর মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়েও ভোটারশূন্য কেন্দ্র দেখা যায়।

কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনকালে ভোটাররা জানায়, ভোটকেন্দ্রে না যেতে তাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা। অনেক ভোটার কেন্দ্রের আশপাশে ঘোরাঘুরি করলেও তাদের ভোটকেন্দ্রের দিকে যেতে দিচ্ছে না তারা। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা।

ফেনী সদর উপজেলার মঠবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করেও ভোট দিতে পারেননি ৭০ বছরের ওবায়দুল হক। তাঁকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়নি বলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় ভোট দিতে সক্ষম হন তিনি।

মেজর সালাহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম স্বীকার করে তিনি বলেন, সকাল ১১টা পর্যন্ত তাঁর কেন্দ্রে ১১৮টি ভোট পড়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন পাটওয়ারী জানান, দুপুরের পর ভোটারদের উপস্থিতি অনেকটা বেড়েছে। আরেক রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পি কে এম এনামুল করিম জানান, কোনো রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ফেনীতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, বাগেরহাট

বাগেরহাটে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। কোনো কোনো কেন্দ্রের বুথ দীর্ঘ সময় ধরে ভোটারশূন্য ছিল। গতকাল রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে মোল্লাহাটের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সাতশিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর দেড়টার দিকে গিয়ে প্রায় ভোটারশূন্য মাঠ দেখা গেছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে দুই হাজার ৩৮৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮০২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

একই উপজেলার কাজী আজহার আলী কলেজ কেন্দ্রে এক হাজার ৭৭৭ জন ভোটারের মধ্যে সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৫৪টি ভোট পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান।

তবে জেলার মোল্লাহাট উপজেলার গারফা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে বেশ কিছু ভোটারের দেখা পাওয়া যায়। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হিমাংসু বিশ্বাস জানান, এখানে মোট ভোটার তিন হাজার ৬৮৬ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই হাজারের মতো ভোট পড়েছে।

মোল্লাহাটের খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শেখ আব্দুর রকিব জানান, তাঁর কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৬৫৪টি। দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে এক হাজার ৫২৫টি।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পাঁচটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও চারটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ফারাজী বেনজীর আহম্মেদ জানান, ভোট চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

মন্তব্য