kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কোন্দলের আগুনে দুই এমপির ঘি

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোন্দলের আগুনে দুই এমপির ঘি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আওয়ামী লীগের কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রার্থী ঘোষণার আগে এক দফা অসন্তোষের পর এখন ভোটের আগে আরেক দফা অসন্তোষ চলছে। এই অসন্তোষের গোড়ায় রয়েছেন বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে স্থানীয় এমপির পছন্দের প্রার্থী হাবিবুর রহমান স্টিফেনের নাম দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। তাঁর পক্ষে কাজ করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশও দেন এমপি। উল্টো চিত্র ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপির অনুসারীদের বেলায়। সে সময় নৌকার প্রস্তাবিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাবেক এমপির অনুসারীরা শক্তভাবে অবস্থান নেয়। সাবেক এমপি তখন কানাডায়। শেষ পর্যন্ত স্টিফেন দলীয় মনোনয়ন পাননি। তাঁর বদলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক কাজী জহির উদ্দিন ছিদ্দিক টিটুকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এখন গণেশ উল্টেছে। প্রার্থী বদলের পর বর্তমান ও সাবেক দুই এমপির অনুসারীদের অবস্থানও বদলেছে। বর্তমান এমপির অবস্থান এখন নৌকার বিপক্ষে। আর সাবেক এমপি নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন।

এ অবস্থায় নবীনগরে আবারও দুই ভাগে বিভক্ত সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ঢাকার মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। যে কারণে আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ভোটে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে দলটিতে চরম বিভক্তি দেখা দিলে দুই সপ্তাহ ধরে দুটি পক্ষের নেতারা নবীনগর ও ঢাকায় আলাদাভাবে একাধিকবার বেঠক করেছেন। কিন্তু সুরাহা করতে পারেননি।

সর্বশেষ গত রবিবার ঢাকায় এমপি এবাদুল করিম বুলবুলের অনুসারী নেতারা আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে এমপির অনুরোধে বিদ্রোহী প্রার্থী নাছির উদ্দিন আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনিরকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এ সময় এমপি ‘দোয়াত-কলম’ প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানানোর ঘোষণা দেন। এর ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়।

এদিকে পরদিন সোমবার নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে বিশাল এক নির্বাচনী পথসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার ‘উপজেলা নির্বাচনে নৌকার সঙ্গে যারা বেঈমানি করবে, আগামীতে নৌকার টিকিট তাঁরা পাবেন না’ বলে হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে এমপি এবাদুল করিম বুলবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শর্ত সাপেক্ষে দোয়াত-কলমের প্রার্থীকে আমি সমর্থন দিয়েছি। নির্বাচনের আগমুহূর্তেও যদি আমাদের মধ্যে একক প্রার্থী নিয়ে সমঝোতা হয়, তাহলে আবারও যেকোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান বাদল বলেন, ‘নৌকার বাইরে দলের কারো যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান এমপিও শেষ পর্যন্ত নৌকার পক্ষেই কাজ করবেন, এটি আমার বিশ্বাস। কারণ নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা