kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নীরস মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা

ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচ উপজেলা

পার্থ সারথী দাস, ঠাকুরগাঁও   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগামীকাল ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপে আসন্ন এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে তেমন আমেজ না থাকলেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরাও। দিচ্ছে এলাকার উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি। এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর, রানীশংকৈল ও পীরগঞ্জে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৫৯ জন। তাঁরা শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। চলছে মাইকিং। আর পাড়া-মহল্লার অলিগলি ও হাট-বাজারগুলো পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। তবে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলেও এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অন্যান্যবারের মতো উপজেলাগুলোতে নেই নির্বাচনী জৌলুস। তার পরও বসে নেই প্রার্থীরা। নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দিনরাত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটে জয়ী হতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও।

সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অরুণাংশু দত্ত টিটো জানান, নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। একই উপজেলার ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি মার্কার প্রার্থী গোলাম সারোয়ার সম্রাট জানান, এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তাদের নীরব ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। নির্বাচনে সাধারণ মানুষ যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহসান হাবীব বুলবুল জানান, এ উপজেলার মানুষ কিছু সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির হাতে জিম্মি হয়ে রয়েছে। সব ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত। তিনি নির্বাচিত হলে উপজেলাকে মাদকমুক্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। একই উপজেলার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলী আসলাম জুয়েল জানান, এ উপজেলার সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধা কখনো ভোগ করতে পারেনি। সরকার থেকে জনগণের জন্য যে বরাদ্দ আসে তা কোথায় যায়, তা তারা জানতেও পারে না। তিনি নির্বাচিত হলে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, কৃষি কার্ডসহ সব সরকারি বরাদ্দ জনগণের মধ্যে বিতরণ করবেন।

হরিপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন দুজন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম শামীম ফেরদৌস টগর জানান, সীমান্তবর্তী এ উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষিজীবী। এখানে তেমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। 

পীরগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আক্তারুল ইসলাম জানান, তিনি নির্বাচিত হলে এই উপজেলার উন্নয়নে আরো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবেন। এলাকার উন্নয়নে মানুষ তাঁকেই ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদী। অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রাজেন্দ্র নাথ রায় জানান, নৌকার প্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের তেমন আস্থা ও বিশ্বাস নেই। তাই যাঁর ওপর মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে না তাঁকে তারা ভোটও দেবে না। মানুষ তাদের যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবে।

সদর ও হরিপুর উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম জানান, জেলার সব উপজেলায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। যেকোনো মূল্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা