kalerkantho

পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা যুদ্ধংদেহি

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা যুদ্ধংদেহি

পার্বত্য চট্টগ্রামের চার আঞ্চলিক দলের আধিপত্য আর ভোটের মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এখন পাহাড়জুড়ে যুদ্ধের আবহ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে এ লড়াইয়ের বলি হয়েছেন বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলীর প্রভাবশালী এক নেতা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও আধিপত্যের লড়াইয়ে পুরো পার্বত্য জনপদে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাঙামাটির নানিয়ার চর, বাঘাইছড়ি, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি, দীঘিনালা, পানছড়িসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় এখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

রাঙামাটির নানিয়ার চর আয়তনে ছোট হলেও রাজনৈতিকভাবে বেশ আলোচনায়। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর থেকে ইউপিডিএফের চারণভূমি হয়ে উঠেছিল এ উপজেলা। তবে জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে হত্যার পর থেকে দৃশ্যত নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে ইউপিডিএফ। উপজেলা সদর ও এর আশপাশে নিয়ন্ত্রণ হারালেও তিনটি ইউনিয়নে এখনো বেশ দাপুটে দলটি। শক্তিমান চাকমার মৃত্যুর পর তাঁর দলের প্রগতি চাকমা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও এবারের নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দিতে পারেনি দলটি। এবারও প্রগতি চাকমা দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে চেয়ারম্যান পদে জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) সমর্থিত প্রার্থী রূপম দেওয়ান, জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী জ্ঞান রঞ্জন চাকমা ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচন করছেন জান্তিনা ও পঞ্চানন চাকমা। তবে এ উপজেলায় শেষ পর্যন্ত জনসংহতি আর গণতান্ত্রিক সমর্থিত রূপম দেওয়ান এবং জনসংহতি ও ইউপিডিএফ সমর্থিত জ্ঞান রঞ্জন চাকমার মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হবে। এর ফাঁক গলে তৃতীয় কারো বিজয়ী হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। তবে শেষ পর্যন্ত তুরুপের তাস হতে পারেন প্রগতি চাকমাও।

চেয়ারম্যান প্রার্থী রূপম দেওয়ান বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নানিয়ার চরে আমিই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। অন্য কেউ যদি পরিচয় দিয়ে থাকেন, তবে তিনি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন।’

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি। এ উপজেলায় এবার লড়ছেন দুই পক্ষের দুই প্রভাবশালী নেতা। এর মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত। সংগত কারণেই সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির প্রবল প্রতিপক্ষ তিনি। আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী জনসংহতি সমিতির প্রভাবশালী নেতা বড়ঋষি চাকমা। তাঁকে বিজয়ী করতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ।

বড়ঋষি চাকমা বলেন, ‘আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। যদিও সংস্কারপন্থীদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আমার ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। বিষয়টি আমি স্থানীয় প্রশাসনকেও অবহিত করেছি।’

বড়ঋষির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সুদর্শন চাকমা বলেন, ‘আমরা নয়, বরং সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র নেতাকর্মীরাই বাঘাইছড়ির প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে গিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে চারটি আঞ্চলিক দলের বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র কর্মী উপজেলার নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ইউনিয়নগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনকেও তোয়াক্কা করছে না তারা। ফলে আগামীকাল ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে সাধারণ পাহাড়িরা।

 

মন্তব্য