kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

শিক্ষায় এগিয়ে জাকির সম্পদে আলকাছ

বিয়ানীবাজারে ছয় প্রার্থীর হলফনামা

শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার (সিলেট)   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শিক্ষায় এগিয়ে জাকির সম্পদে আলকাছ

প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদে আগামী ১৮ মার্চ ভোট। এবার ছয়জন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তাঁরা হলফনামা দাখিল করেছেন। এই হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, চারজন পেশাহীন, একজন মুরগির খামারি এবং একজন ফটোকপি ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষায় এগিয়ে জাকির হোসেন আর সম্পদে এগিয়ে আলকাছ আলী।

আতাউর রহমান খান (নৌকা)

পোল্ট্রি খামার ব্যবসায় জড়িত আতাউর রহমান খান। গত পাঁচ বছর মেয়াদে তিনি অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হননি। এই ব্যবসা থেকে তাঁর লাভ-ক্ষতি কিছুই হয়নি। ২০১৪ সাল থেকে ব্যবসা যেমন ছিল, ঠিক তেমনই আছে। এই সময়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ বাড়েনি। কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। নগদ ৩৫ হাজার টাকা আছে। দায়দেনা নেই। আইকম পাস। মামলা নেই। স্থাবর সম্পত্তি বলতে ১৫ লাখ টাকার একটি বাড়ি, ২০ লাখ টাকার কৃষিজমি, এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও দেড় লাখ টাকার আসবাব রয়েছে।

জাকির হোসেন (আনারস)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস পাস করে গ্রামে ফিরে আসেন মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তাঁর বাবা ও ভাই স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হন। পৌর শহরের নয়াগ্রামের শহীদ তাহির আলী ও ছয়দুন নেছা বেগমের ছেলে তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত আছে। তিনি ফটোকপি ও কম্পিউটার প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা করেন। বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে বার্ষিক দেড় লাখ টাকা আয় করেন। তাঁর কাছে ৭৫ হাজার টাকা আছে।

আবুল কাশেম (হেলিকপ্টার)

পেশার কথা উল্লেখ করেননি আবুল কাশেম পল্লব। তাঁর বার্ষিক আয় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। অন্যান্য খাত থেকে বার্ষিক আয় করেন এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা। তিনি বিএ পাস। লামার নিদনপুর গ্রামের হাজি আব্দুল করিম এবং মোছা. বদরুন নাহারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা ছিল। সবগুলো আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। তাঁর কাছে নগদ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা রয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে উপহার পাওয়া ২০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে ৪১ শতাংশ জমি আছে। ব্যাংকে দায়দেনা নেই। তিনি গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। সে সময় রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করা হলফনামায় রাফি এন্টারপ্রাইজ নামে ইট-বালু ব্যবসার কথা উল্লেখ করেন। নিজ নামে একটি প্রভক্স কার ছিল। এখন তাঁর কোনো গাড়ি ও ব্যবসা নেই। এ ছাড়া গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় পোল্ট্রি খামারের নামে ব্যাংকঋণ ছিল। তাঁর ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাব নেই। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শামীম আহমেদ (মোটরসাইকেল)

শামীম আহমদ বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর কাছে তিন লাখ ১০ হাজার টাকা রয়েছে। তিনি বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে লেখাপড়া করলেও হলফনামায় ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন। নিজ নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার আছে। ইলেকট্রনিক পণ্য কিংবা আসবাব নেই। কোনো পেশা নেই। দালানকোঠা ও জমিজমা নেই। মামলাও নেই। বিভিন্ন খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

আবুল হাসনাত (দোয়াত কলম)

আবুল হাসনাত তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বিকম পাস এই প্রার্থীর যৌথ মালিকানায় একটি ফ্ল্যাট আছে। মামলা নেই। কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় এক লাখ টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ৩০ হাজার টাকা। নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা আছে। নিজ নামে ব্যাংকে জমা আছে ৫০ হাজার টাকা। দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, ৭০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং আড়াই লাখ টাকার আসবাব রয়েছে। এ ছাড়া ১.৫ একর কৃষিজমি এবং ১৫ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। ব্যাংকঋণ নেই। পেশাগত কোনো কিছুতে জড়িত নন।

আলকাছ আলী (ঘোড়া)

আলকাছ আলী কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন। উপজেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি হলেও দলীয় প্রার্থী নন। স্বশিক্ষিত। পেশার সঙ্গে জড়িত নন। নগদ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা রয়েছে। কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্যান্য খাতের ভাড়া থেকে তিন লাখ টাকা আয় করেন। ব্যাবসায়িক খাত থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। ব্যাংকে আরো ৫০ হাজার টাকা জমা। প্রায় চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার রয়েছে। ১৩ একর কৃষিজমি, ৫০ শতাংশ অকৃষি জমি আছে। এ ছাড়া তাঁর দেড় লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও তিন লাখ টাকার আসবাব রয়েছে। ব্যাংকঋণ নেই, মামলাও নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা