kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জয়পুরহাট

বিএনপির ভোট নিয়ে চিন্তিত নৌকার মাঝিরা

আলমগীর চৌধূরী, জয়পুরহাট   

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ রবিবার। এর মধ্যে প্রার্থী না থাকায় বিনাভোটে জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। আর কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত তিনজন, জাসদের দুজন এবং স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী আছেন তিনজন। আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট ছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীরা সমর্থন দেওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাই নৌকার প্রার্থীরা আতঙ্কিত বিএনপির ভোট নিয়ে। বিএনপির নেতাকর্মীদের নৌকাবিরোধী অবস্থান স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য আশীর্বাদই হতে পারে।

প্রথম ধাপে জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এরই মধ্যে জয়পুরহাট সদরে আওয়ামী লীগ মনোনীত পদপ্রার্থী সোলায়মান আলী এবং পাঁচবিবিতে মুনিরুল শহীদ মণ্ডলকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।

কালাই উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে মিনফুজুর রহমান মিলন তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাসদের তারেকুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম। এ উপজেলায় নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লজিক তালুকদার এবং উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লজিক তালুকদার।

ক্ষেতলালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম মণ্ডল। স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী হিসেবে আনারস মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা তাইফুল ইসলাম তালুকদার। দলের নবীনরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে আছেন শুরু থেকেই। এলাকার বেশির ভাগ প্রবীণ সমর্থন দেয় স্বতন্ত্র পদপ্রার্থীকে। তবে আওয়ামী লীগের একটি অংশ এবং বিএনপির বেশির ভাগ কর্মী-সমর্থকরা পক্ষে থাকায় মাঠে শক্ত অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী তাইফুল। নির্বাচনে সমর্থন জানানো প্রসঙ্গে ক্ষেতলাল পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর ও ছাত্রদল নেতা মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে আমাদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এর প্রতিশোধ নিতেই আমরা এবার স্বতন্ত্র পদপ্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছি।’ স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী তাইফুল বলেন, ‘মাঠে আমার ব্যাপক জনসমর্থন দেখে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন হুমকিধামকি দিচ্ছে। এরপরও প্রচারণা থেমে নেই। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয় আমাদের সুনিশ্চিত।’ পক্ষান্তরে নৌকার প্রার্থী মোস্তাকিম মণ্ডল বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন আমার নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। অথচ উল্টো এখন আমার বিরুদ্ধেই তারা নালিশ করছে, যা আদৌ সত্য নয়।’

আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিনজন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের মোকছেদ আলী, জাসদের আবুল খয়ের মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) আব্দুস ছালাম আকন্দ। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুস ছালাম আকন্দকে মনোনয়ন দেওয়ার এক দিন পরই মোকছেদ আলীকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয় দলটি। পরে ছালাম আকন্দ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামেন। দলের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ছালামের পক্ষ নেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ।

এ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস ছালাম বলেন, ‘দলের কুচক্রীমহল প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে আমার নৌকাকে ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি একটাই, তা হলো ভোট যেন নিরপেক্ষ হয়।’

জেলা রিটার্নিং ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট শতভাগ নিরপেক্ষ হবে। এর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’ জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় মোট ভোটার সাত লাখ ছয় হাজার ২০৬ জন। জেলায় এবার ভোটকেন্দ্র ২৮৭টি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা