kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আতঙ্কে বিদ্রোহীরা

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আতঙ্কে বিদ্রোহীরা

রাজশাহীর ৯টি উপজেলার মধ্যে আজ আটটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে দুটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর চারটিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এই বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোহনপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম এবং বাঘায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি লায়েব উদ্দিন লাভলু।

রাজশাহী নির্বাচন অফিস সূত্র মতে, আটটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ছয়জন। ফলে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে।

দুর্গাপুরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত নজরুল ইসলাম এবং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদ ও আব্দুল কাদের। পুঠিয়ায় রয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জি এম হিরা বাচ্চু ও জাতীয় পার্টির আনসার আলী। চারঘাটে রয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফকরুল ইসলাম, একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান ও জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন। বাগমারায় রয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত অনিল কুমার ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বাবুল হোসেন। তানোরে রয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত লুত্ফর হায়দার রশিদ ময়না ও ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত সাবেক যুবলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম। এ ছাড়া গোদাগাড়ীতে চারজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম, একই দলের বিদ্রোহী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান রবু, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন বিশ্বাস ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাইদুর রহমান।

দুর্গাপুরের মাড়িয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী জোহরুল ইসলাম বলেন, ‘তিনজনই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তবে আমরা বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করছি। আশা করছি, তিনিই জয়ী হবেন।’

দুর্গাপুরের ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোজাহার আলী বলেন, ‘আমাদের কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা মজিদের পক্ষে কাজ করছি বলে প্রশাসন দিয়েও নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা মাঠ ছাড়তে রাজি নই।’

বাগমারার হামির কুৎসা গ্রামের সোলেমান আলী বলেন, ‘দুইজন প্রার্থী চেয়ারম্যান। তবে ভোট দিব জনগণের জন্য যে কাজ করবে তাকে।’ নরদাসের আকবর আলী বলেন, ‘বাবুল হোসেনের সমর্থকরা আতঙ্কে আছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে বাবুল হোসেনই জিতবে। কিন্তু ভোট সুষ্ঠুভাবে হবে কি না, বলা মুশকিল।’

একই অবস্থা তানোর ও গোদাগাড়ীতেও। এ দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক, এমনকি প্রার্থীকেও নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিদ্রোহী প্রার্থী বদিউজ্জামান বলেন, ‘এমপি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমার কর্মী-সমর্থকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আমরা আতঙ্কে আছি। ভোট সুষ্ঠু হবে কি না, বলতে পারছি না।’

এদিকে রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে ভোট সুষ্ঠু করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম রাজশাহীতে এসে ঘোষণা দিয়ে গেছেন। কাজেই আমরা আশা করছি নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা