kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

জামালপুরের চার উপজেলায় ভোটের আমেজ নেই

দুটিতে মৃদু বাতাস একটিতে উত্তেজনা

জামালপুর প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামালপুরের সাতটি উপজেলায় নির্বাচন আগামীকাল রবিবার। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় জেলার দুটি উপজেলায় বইছে ভোটের বাতাস। একটিতে আগেই ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। অন্য চারটিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় নেই কোনো ভোটের আমেজ।

সদর : এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আবুল হোসেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ফারজানা ইয়ামিন লিটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী।

সরিষাবাড়ী : এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন পাঠান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের জেলী আক্তার (ফুটবল) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী।

মেলান্দহ : এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. ইউছুফ আলী এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেসমিন আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।

মাদারগঞ্জ : এ উপজেলায়ও সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মো. ওবায়দুর রহমান বেলাল। ভাইস চেয়ারম্যান পদে হুমায়ুন কবির এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সামসাদ আরা বেগম নির্বাচিত হয়েছেন।

ইসলামপুর : এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীসহ তিনজন এবং অন্যান্য পদেও একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের এস এম জামাল আব্দুন নাছের বাবুল (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জিয়াউল হক জিয়া (আনারস) ও জাতীয় পার্টির মো. মশিউর রহমান বাদল (লাঙল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপজেলায় এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতা না ঘটলেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সরব থাকায় দলীয় কোন্দল ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে জিয়াউল অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলাল দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা এবং নানাভাবে প্রভাব বিস্তারসহ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।

দেওয়ানগঞ্জ : সাতটি উপজেলার মধ্যে এ উপজেলায় এরই মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় আব্দুল খালেক নামের একজন যুবলীগকর্মীর মৃত্যুতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা থমকে আছে। বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সোলায়মান হোসেনসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হওয়ায় তিনি এবং তাঁর কর্মী-সমর্থকরা গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকাছাড়া। গত বৃহস্পতিবার আব্দুল খালেক হত্যা মামলার আসামি বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক সাবেক পৌর মেয়র নূরুন্নবী অপুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সহিংসতা এড়াতে এরই মধ্যে দেওয়ানগঞ্জে পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।

বকশীগঞ্জ : তিনটি পদেই একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় এ উপজেলার নির্বাচন বেশ জমে উঠেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের সাইফুল ইসলাম বিজয় (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবদুর রউফ তালুকদার (মোটরসাইকেল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সদস্য আরিফুর রহমান পাভেল (আনারস)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা