kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নৌকার প্রচার সভায় এমপি

চকরিয়ায় বিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নৌকার প্রচার সভায় এমপি

দলীয় প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম (ছাতার নিচে মাঝে)। ছবিটি চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে গত রবিবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দলীয় প্রার্থী চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জাফর আলম। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে এমপি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার ও ভোট চেয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

দলীয় প্রার্থীকে যেকোনো উপায়ে জেতাতে এমপি শক্ত অবস্থান নেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাঁদের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। খোদ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরাও বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। এই অবস্থায় তৃণমূল নেতাকর্মীর পাশাপাশি এমপির প্রতি ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপি কোনো প্রার্থীর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিক, তা তাঁরা চান না। কারণ জনসমর্থহীন কোনো প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে ভবিষ্যতে নিজের অবস্থানটা দুর্বল করবেন না। ‘জনতার জাফর, জনতার পক্ষে’ই থাকবেন, এমনটাই আশা তাঁদের।

তাঁদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দলের প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে নেই। দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী ও মোক্তার আহমদ চৌধুরী এবং শ্রমিক নেতা জহিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এ কারণে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে একক প্রার্থীর পাশাপাশি দলের অন্য কেউ নির্বাচন করলে তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। এই সিদ্ধান্তের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে দলের আরো দুজন নেতা প্রার্থী হন। কিন্তু জনসমর্থনহীন প্রার্থীর পক্ষে এমপি জাফর আটঘাট বেঁধে মাঠে নামায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে। এমপির এই তৎপরতায় খোদ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বিব্রতবোধ করছেন।

এদিকে আচরণবিধি না মেনে দলীয় প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে মাঠে নামায় এমপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

অভিযোগে এসব প্রার্থী উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা এমপিরা চালাতে পারবেন না। কিন্তু এই বিধি না মেনে দলীয় প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে উপজেলার বদরখালী, বিএমচর, হারবাং, কৈয়ারবিল, চিরিঙ্গা, পৌরসভাসহ বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করেছেন। এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের হুমকিধমকি দিচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যেতে। এ অবস্থায় স্বতন্ত্র এসব প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

এমপির আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগকারী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এমপির সঙ্গে আমিও জেল খেটেছি। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি আমাকে বলেছিলেন। মূলত এমপি এবং দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কারণে আমি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে এমপি যেভাবে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন এতে সাধারণ ভোটাররা শঙ্কিত। বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে এমপিকে বলার পরও তিনি মাঠে নেমেছেন যেকোনো উপায়ে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে। এতে ভোটের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে মনে হয় না।’

আরেক প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোক্তার আহমদ চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে অসংখ্যবার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটকেন্দ্রের ভেতর কাজ করতে বা এজেন্ট দেওয়ার জন্য ডামি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তাঁর নামে কোনো প্রচারণা বা পোস্টার দেখা যাচ্ছে না কোথাও।

নির্বাচন কমিশনে অভিযোগকারী আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘যেভাবে এমপি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন তাতে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নেই বললেই চলে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।’

অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমদ। তিনি বলেন, ‘সরকারি সুবিধাভোগী এমপি কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারবেন না। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় এমনটি উল্লেখ রয়েছে। তাই প্রথমবারের মতো কক্সবাজার-১ আসনের এমপিকে শোকজ করা হবে। আর যেসব প্রার্থী আচরণবিধি না মেনে যত্রতত্র পোস্টার ও মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের এমপি ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘আমি কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ভোট চাচ্ছি না। আমি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা