kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে মাঠে এমপি, বেকায়দায় নৌকা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, (ময়মনসিংহ)   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে মাঠে এমপি, বেকায়দায় নৌকা

তৃণমূল পর্যায়ে সভা ডেকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত তুলে তাঁকে সমর্থন জানান। নান্দাইল সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে গতকাল তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপনই এবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য গতকাল রবিবার সমাবেশ ডেকে তাঁর পছন্দের প্রার্থী হাসান মাহমুদ জুয়েলকে তৃণমূলের প্রার্থী দাবি করে নির্বাচনে তাঁর পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থী আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপন নৌকা প্রতীক নিয়ে বেকায়দায় পড়বেন বলে অনেকেই মনে করছে।

গতকাল সকালে স্থানীয় সরকারি নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতি ছিলেন ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার অবস্থা শাঁখের করাতের মতো। নান্দাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মালেক চৌধুরীকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দিয়েছেন নেত্রী। কিন্তু নেত্রীর নির্ধারণ করা প্রার্থীর পরিবর্তে আমাকে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী মো. হাসান মাহমুদের পক্ষে থাকতে হচ্ছে।’ তবে নেত্রী তাঁর এ অবস্থানকে মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ৯ জন বর্তমান ও তিনজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। তাঁদের অনেকে সমাবেশে বক্তব্যও দেন।

চেয়ারম্যানদের পক্ষে বক্তব্য দেন গাংগাইল ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. আশরাফুজ্জামান খোকন। তিনি বলেন, ‘আমরা সব চেয়ারম্যানই স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েলের পক্ষে কাজ করব।’ এ সময় উপস্থিত চেয়ারম্যানরা দুই হাত তুলে তাঁর কথায় সায় দেন।

নান্দাইল পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রফিক উদ্দিন ভুইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য আমাকে মনোনীত করার পর বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছি। তখনো আমার বিপক্ষে আওয়ামী লীগের অন্য একটি পক্ষ অবস্থান নিয়েছিল।’

সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মাহমুদ জুয়েল বলেন, ‘আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মাঠে সমাবেশ করে প্রার্থী হিসেবে আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তারই ভিত্তিতে আমার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি দলের মনোনয়ন পাইনি। এ অবস্থায় যেহেতু দলের নেতাকর্মীরা আমাকে দাঁড়াতে বলেছে, তাই ৩১ মার্চ নির্বাচনে আমাকে জয়ী করার দায়িত্বও দলের কর্মী-সমর্থকদের হাতেই।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। তখন থেকেই সাবেক সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে একটি পক্ষ তাঁর বিরোধিতায় নামে। তবে দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়নের কারণে এবং দলের একটি শক্তিশালী অংশ সঙ্গে থাকায় তাঁকে বেকায়দায় ফেলা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে আনেন।

এদিকে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপন, সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম ভুইয়াসহ দলের ছয়জন নেতাকর্মী মনোনয়ন চান। সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে গত ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা হয়। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে হাসান মাহমুদ জুয়েলকে একক প্রার্থী মনোনীত করে তাঁর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিন্তু দলের মনোনয়ন লাভ করেন বর্তমান চেয়ারম্যান। তাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়।

এ ব্যাপারে আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপন বলেন, ‘দল আমাকে যোগ্য হিসেবে প্রার্থী করেছে। কেউ আমার বিরোধিতা করলে সেটা দলেরই বিরোধিতা করা হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা