kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজবাড়ী

রণসজ্জায় আ. লীগ, হতাশ বিএনপি

রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী রাজবাড়ী জেলা সদর, গোয়ালন্দ, বালিয়াকান্দি ও পাংশা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ মার্চ। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ মার্চ। গত বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর পর থেকে রাজবাড়ীতে নির্বাচনের ডামাডোল সজোরে বেজে উঠেছে।

উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কেন্দ্র থেকে উপজেলা নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা দেওয়ায় জেলা বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতাকর্মী হতাশ হয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে ইতিমধ্যেই রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলার সাম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতারা জানান, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে। তাই বেশির ভাগ প্রার্থী ঢাকায় অবস্থান করে দলীয় নেতাদের সঙ্গে লবিংয়ের চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় শুধু একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল মোর্শেদ আরুজের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তা ছাড়া পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা মাহমুদ হেনা মুন্সী ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সফুরা খাতুনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। চেয়ারম্যান পদে দলটি তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। তাঁরা হলেন রাজবাড়ীর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এস এম নওয়াব আলী এবং সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাস। ভাইস চেয়ারম্যান পদ দুটিতে পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খান মো. জহুরুল হক ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি মীর মাহফুজা খানম মলিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গোয়ালন্দে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মণ্ডল, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মণ্ডল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান মিয়ার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল বাতেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হক; নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ কর্মী নাজমা বেগম, নারগীস পারভীন ও সাহিদা আক্তারের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

বালিয়াকান্দিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম মিয়া সুফি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক ফকরুজ্জামান মুকুটের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সনজিৎ কুমার রায়; নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি খোদেজা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক বাসন্তী স্যানালকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে।

অন্যদিকে কালুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সাতজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা হলেন কাজী সাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাচিনা পারভীন, মোক্তার হোসেন, শহিদুজ্জামান সাগর, এ বি এম রোকনুজ্জামান ও জুলফিকার আলী। তবে এ উপজেলার নির্বাচন-পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম নওয়াব আলী জানান, এখন তাঁরা কেন্দ্রের দিকে চেয়ে আছেন। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে পরবর্তীতে তাঁর হয়ে কাজ করবেন।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হামিদুল হক বাবলু বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে। সে লক্ষ্যে দল গোছানোর পাশাপাশি আমরা নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে আছে। এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, ‘আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতাকর্মী হতাশ হয়েছে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা