kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গুরুদাসপুর

নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী এমপিপুত্র

আলী আক্কাছ, গুরুদাসপুর (নাটোর)   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী এমপিপুত্র

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম। তাঁর বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের পালিত পুত্র মো. আনোয়ার হোসেন। এলাকায় তিনি এমপির ছেলে হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর বাবার নাম মো. আহসান সরকার।

এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে আলোচনায় রয়েছেন জাহিদুল ও আনোয়ার। আলোচনার উত্তাপ থাকায় দুই প্রার্থীকে নিয়ে গুরুদাসপুর আওয়ামী লীগে আবারও কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহিদুল গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আর তাঁর ছোট ভাই অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একজন প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা। তাঁর বাবা মরহুম হাকিম সরকার গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও স্বাধীনতা-পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের পক্ষে নির্বাচন করে বিজয় সুনিশ্চিত করেন। তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পছন্দের প্রার্থী জাহিদুলকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তাঁর বিপরীতে আনোয়ারকে বিদ্রোহী প্রার্থী করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এমপি।

অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস প্রার্থী আনোয়ারকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করে তাঁর আদর্শে বড় করেছেন। আনোয়ার এলাকার একজন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার। আবার তিনি জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক।

অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এমদাদুল মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৩০ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৪ সালেও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলের দুর্দিনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁরও নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে কর্মী-সমর্থকরা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে এমদাদুল হক বলেন, ‘আমি নির্বাচনী মাঠে আছি, থাকব।’ দলীয় প্রার্থীকে সমর্থনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সময়ই কথা বলবে।’

দলীয় প্রার্থী জাহিদুল বলেন, ‘শেখ হাসিনার মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করে এমপি তাঁর পালিত পুত্র আনোয়ারকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। এ ছাড়া আব্দুল কুদ্দুস পরে তাঁর মেয়েকে এমপি বানাবেন এবং ছেলেকে মেয়র বানিয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েম করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। মানুষ আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।’

অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি বলেন, ‘জাহিদুল ইসলাম ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার বিপক্ষে এশারত আলীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু আনোয়ারকে আমি না, জনগণই প্রার্থী করেছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা