kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

নৌকা নিয়ে সংঘর্ষ

আদিতমারীতে পুলিশসহ আহত ৪০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌকা নিয়ে সংঘর্ষ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে গতকাল মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের লাঠিপেটা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন না পেয়ে নিজের সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ইমরুল কায়েস ফারুক নামের এক মনোনয়নপ্রত্যাশী। প্রথম দফা অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে লালমনিরহাটের আদিতমারী থেকে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

গত শনিবার দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ইমরুল কায়েস ফারুক। এরই জের ধরে গতকাল রবিবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে দলীয় সূত্র ও স্থানীয়রা জানিয়েছে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলীর ভাতিজা।

গতকাল সকালে আদিতমারী উপজেলা সদরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাতে পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে ১২টি মোটরসাইকেল। এ ঘটনায় পুলিশ ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।

স্থানীয়রা জানায়, গতকাল দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়ে রফিকুল আলমের এলাকায় ফেরার খবরে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একজোট হয় ফারুকের সমর্থকরা। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আলমের সমর্থকরা প্রায় দেড় শ মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে আদিতমারী থেকে গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ওই বহরকে বাধা দেয় ফারুকের সমর্থকরা। এ সময় আশপাশেই ফারুক ও তাঁর চাচা অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়।

আহতদের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল বাবুসহ ছয়জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আদিতমারীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আহত মাইদুলের ভাই মাজেদ মাসুদ জানান, তাঁর ভাইকে রামদা দিয়ে কোপানো হয়েছে।

এ ঘটনায় জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী ও তাঁর ভাতিজা ফারুককে দায়ী করে মনোনয়নপ্রাপ্ত রফিকুল আলম অভিযোগ করেন, ‘মনোনয়ন না পেয়ে চাচা-ভাতিজাসহ তাঁদের লোকজন আমার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে জানানো হয়েছে।’ তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় শওকত আলী ও ইমরুল কায়েস ফারুকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদিতমারী থানার ওসি মাসুদ রানা পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে জানিয়ে বলেন, সংঘর্ষে তিন কনস্টেবল সামান্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন ইমরুল কায়েস ফারুক। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন।

মন্তব্য