kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

সপ্তম শ্রেণি
বিজ্ঞান

জলবায়ু ও এর পরিবর্তন

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



জলবায়ু ও এর পরিবর্তন

ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কয়েক শ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। এর অনেকগুলো স্তর আছে। প্রথম চারটি স্তর হলো ট্রপোস্ফিয়ার বা ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল ও তাপমণ্ডল। জীব বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসনের কাজ চালায়। শ্বসন প্রক্রিয়া শেষে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। আবার উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে খাদ্য তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। এভাবে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণে একটা ভারসাম্য বজায় থাকে।

 

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১। বায়ুমণ্ডল কাকে বলে? উত্তর : যে বায়বীয় অংশ পৃথিবীর পৃষ্ঠকে ঘিরে রেখেছে সেটিই বায়ুমণ্ডল।

২। বায়ুমণ্ডলের প্রথম স্তর কোনটি?

উত্তর : ট্রপোস্ফিয়ার বা ট্রপোমণ্ডল।

৩। ট্রপোমণ্ডল কাকে বলে? উত্তর : ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১১ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলকে বলা হয় ট্রপোমণ্ডল।

৪। স্ট্রাটোমণ্ডল স্তরে কী গ্যাস বিদ্যমান? উত্তর : ওজন।

৫। মেসোমণ্ডল স্তরের উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর তাপমাত্রার কী অবস্থা ঘটে? উত্তর : কমতে থাকে।

৬। বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটি প্রায় বায়ুশূন্য?

উত্তর : তাপমণ্ডল।

৭। পরিবেশে পানির চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে কিসের মাধ্যমে?

উত্তর : পানিচক্রের মাধ্যমে।

৮। পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানিচক্রের কী পরিবর্তন ঘটে? উত্তর : পানিচক্রের ব্যাঘাত ঘটে।

৯। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কী তৈরি করে? উত্তর : অক্সিজেন ও গ্লুকোজ।

১০। প্রাণী কিভাবে কার্বন গ্রহণ করে?

উত্তর : উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করার মাধ্যমে।

১১। আবহাওয়া বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : আবহাওয়া বলতে স্বল্প সময়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে বোঝায়।

১২। বায়ু প্রবাহের সৃষ্টি হয় কিভাবে?

উত্তর : বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে।

১৩। নিম্নচাপ কাকে বলে?

উত্তর : কোনো জায়গার তাপমাত্রা বেশি হলে সেখানকার বায়ু উত্তপ্ত হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়; ফলে ওই স্থানে বায়ু পাতলা বা ফাঁকা হয়ে যায়, এ অবস্থাকে নিম্নচাপ বলে।

১৪। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ কী?

উত্তর : বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি।

১৫। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস কাচের মতো কাজ করে কী? উত্তর : কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও জলীয় বাষ্প।

১৬। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য মূল কারণ কী?

উত্তর : বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।

১৭। গ্রিনহাউস কাকে বলে?

উত্তর : শীতপ্রধান দেশে তীব্র শীতে গাছপালা টিকে থাকতে পারে না। শীতে শাকসবজি ফলানোর জন্য কাচের ঘর তৈরি করা হয়, যার ভেতর তাপ ও জলীয়বাষ্প আটকে থাকে। এ কারণে একে গ্রিনহাউস বলা হয়।

১৮। পর্বতের চূড়া ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার মূল কারণ কী? উত্তর : পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

১৯। কোনো স্থানের আবহাওয়ার দীর্ঘ দিনের গড় অবস্থাকে কী বলে? উত্তর : জলবায়ু।

২০। প্রাণী শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপাদন করার সময় বায়ুমণ্ডল থেকে কী গ্রহণ করে?

উত্তর : অক্সিজেন।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন-১

ক) ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুস্তর কোনটি?

খ) উক্ত বায়ুস্তরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয় কেন?

গ) বায়ুমণ্ডল উদ্ভিদ ও জীবের জীবন ধারণের জন্য কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঘ) B চিহ্নিত অংশ ক্ষতির ফলে জীবজগতের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

 

উত্তর : ক) ট্রপোমণ্ডল।

উত্তর : খ) ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১১ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলকে বলা হয় ট্রপোমণ্ডল। এই স্তরে বায়ুর বেশির ভাগ প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ যেমন—অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প থাকে। এই স্তরে মানুষ ও অন্যান্য জীবের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সব ঘটনা ঘটে। যেমন—এই স্তরে মেঘ, বৃষ্টি, বায়ু প্রবাহ, ঝড়, কুয়াশা এসব তৈরি হয়। তাই ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

গ) জীব বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসনের কাজ চালায়। শ্বসন প্রক্রিয়া শেষে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। আবার উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে খাদ্য বানায় এবং অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। এভাবে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণে একটা ভারসাম্য বজায় থাকে।

সব জীবদেহ গঠনে কার্বন দরকার হয়। এ কার্বন আসে বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকেই। পানি ও বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও গ্লুকোজ তৈরি করে। এই গ্লুকোজ উদ্ভিদের দেহ তৈরি করে। প্রাণী উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করার মাধ্যমে কার্বন গ্রহণ করে। আবার উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ মাটিতে পচে গেলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছেড়ে দেয়।

উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের কার্বন তিনভাবে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে ফিরে আসে। ফলে উদ্ভিদ ও জীব উভয়েরই জীবন ধারণের জন্য বায়ুমণ্ডল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঘ) B চিহ্নিত অংশটি স্ট্রাটোমণ্ডল। এই স্তর ট্রপোমণ্ডল থেকে শুরু করে ভূপৃষ্ঠের পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে ওজন নামের একটি গ্যাস থাকে। এই গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে আমাদের বাঁচায়। কোনো কারণে ওজন স্তর ধ্বংস হলে এর প্রভাব হবে মারাত্মক। জীবজগতের ওপর ওজন স্তর ক্ষতির নিম্নলিখিত প্রভাব পড়তে পারে।

মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর ওপর যে প্রভাব পড়বে—

১। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস পাবে।

২। চোখে ছানি পড়বে।

৩। ত্বকের ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগ বাড়বে।

৪। প্রাণীজগতের অনেক প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটবে।

৫। অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে কোষ নষ্ট হতে থাকবে। কোষের সৃষ্টি ও বৃদ্ধি ব্যাহত হবে।

৬। প্রজননক্ষমতা হ্রাস পাবে।

৭। গড় আয়ু হ্রাস পাবে।

৮। উভচর প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকবে।

 

উদ্ভিদের ওপর প্রভাব—

১। অতিবেগুনি রশ্মি খাদ্যশস্যের ক্ষতি করবে।

২। গাছপালা কমে আসবে।

৩। উদ্ভিদের পাতাগুলো আকারে ছোট ও হলুদ হয়ে যাবে। উদ্ভিদ ক্লোরোসিস রোগে আক্রান্ত হবে বেশি।

৪। বীজের উৎকর্ষ নষ্ট হবে।

৫। ফসলে আগাছা, রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ বাড়বে।

৬। ক্ষুদ্র মাইক্রো অর্গানিজম, সামুদ্রিক শৈবাল ও প্লাংকটন ধ্বংস হতে থাকবে।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন-২

ক) আবহাওয়া পরিবর্তনে মূল ভূমিকা রাখে কে?

খ) আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য কী?

গ) পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে চলার কারণ ব্যাখা করো।

ঘ) বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে আমাদের করণীয় কী হতে পারে, আলোচনা করো।

 

উত্তর : ক) সূর্যের তাপ।

উত্তর : খ) আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য—

১। কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পকালীন অবস্থাই আবহাওয়া। আর কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়া বা বায়ুমণ্ডলের গড় অবস্থা হলো জলবায়ু।

২। কোনো স্থানের আবহাওয়া অল্প সময়ের মধ্যে বদলে যেতে পারে। তবে জলবায়ু সহজে বদলায় না। জলবায়ু বদলাতে অনেক বছর লেগে যায়।

উত্তর : গ) বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। কার্বন ও অক্সিজেন চক্রাকারে বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে বলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে কলকারখানা ও যানবাহনে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো হচ্ছে। এসব জ্বালানি পোড়ার ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষিত হচ্ছে না, উল্টো আরো বেশি পরিমাণে বেরিয়ে আসে। অন্যদিকে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন কারণে গাছপালাও কমে যাচ্ছে। এতেও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের পরিমাণ কমছে। এতে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেশি থাকায় এরা গ্রিনহাউসের মতো কাজ করছে। বেশি তাপ ধরে রাখতে পারছে ওরা। এ কারণে বিশ্বের তাপমাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

উত্তর : ঘ) গ্লোবাল ওয়ার্মিং তথা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি। এ দুটি গ্যাসের নিঃসরণ কমিয়ে আনলেই উষ্ণায়ন অনেকটা কমে যাবে। আবার কোনোভাবে এদের বায়ুমণ্ডল থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারলেও কাজ হবে। কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে মিথেন গ্যাসকে বায়ুমণ্ডল থেকে সরানো যায় না। এর উৎপাদন বা নিঃসরণও বন্ধ করা কঠিন। কারণ এটি উৎপাদিত হয় কৃষিকাজ থেকে। বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় প্রধান কর্তব্য হলো কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ কমানো। কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো কমিয়ে তার বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি (যেমন—সৌরশক্তি, বায়ুপ্রবাহ থেকে বিদ্যুৎ ইত্যাদি) ব্যবহার করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ কমে। বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড কমানোর জন্য আরেকটি উপায় হলো বেশি করে গাছ লাগানো। কারণ গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে খাদ্য তৈরি করে। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড কমে আসে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা