kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

নবম-দশম। বিজ্ঞান

জীব-প্রযুক্তির ব্যবহার

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীব-প্রযুক্তির ব্যবহার

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখন করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যস্ত। এই ভ্যাকসিন তৈরিতেই কিন্তু জীব-প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রয়োগ করে হাম, যক্ষ্মাসহ নানা ধরনের সংক্রামক রোগের প্রতিরোধক তৈরি করা হচ্ছে।

সুতরাং, বুঝতেই পারছো ওষুধশিল্পে জীব-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগের জন্য ইনসুলিন, মানুষের দেহ বৃদ্ধির হরমোনসহ অন্যান্য হরমোন তৈরি করা হচ্ছে; অন্যদিকে কম সময়ে অধিক পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করতেও জীব-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

ইন্টারফেরন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রোটিন অণুর সমন্বয়ে গঠিত। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বেশ সহায়ক। জীব-প্রযুক্তির কল্যাণে বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারফেরন উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি উন্নয়নেও জীব-প্রযুক্তি পিছিয়ে নেই। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুইডেনের এক বিজ্ঞানী ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ‘সুপার রাইস’ উদ্ভাবন করেছেন। বন্য উদ্ভিদের উৎকৃষ্ট জিন ফসলি উদ্ভিদে স্থাপন করে অধিক ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ফসলি উদ্ভিদ যেমন—ধান, পাট, গম ইত্যাদিতে ফলন বাড়বে। জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে যেখানে ভিটামিন ‘সি’, বিটা ক্যারোটিন ও ফলিক এসিড পাওয়া যাবে। প্রায় ৬০টি উদ্ভিদ প্রজাতিতে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে এগুলো পতঙ্গ, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হবে এবং পরিবেশের প্রতিকূলতা মানিয়ে নিতে পারবে।

গৃহপালিত পশু উন্নয়নেও জীব-প্রযুক্তি কাজ করে যাচ্ছে। ট্রান্সজেনিক ভেড়া উদ্ভাবন করা হয়েছে, এ জাতের ভেড়ায় প্রতি লিটারে ৩৫ গ্রাম পর্যন্ত হিউম্যান আলফা অ্যান্টিট্রিপসিন প্রোটিন পাওয়া যায়। দুধ থেকে খাদ্যসামগ্রী তৈরি করতেও জীব-প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। সুতরাং বুঝতেই পারছো, বর্তমান পৃথিবীতে জীব-প্রযুক্তির গুরুত্ব কতটা!

 

জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

১। জিন প্রকৌশল কী?

উত্তর : একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন জীবে স্থানান্তরের কৌশলকে জিন প্রকৌশল বলে।

২। জিন ক্লোনিং কী?

উত্তর : একই জিনের অসংখ্য হুবহু কপি তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে।

৩। মানুষের প্রতিটি দেহকোষে কয়টি ক্রোমোজোম থাকে?

উত্তর : ৪৬টি।

৪। পৃথিবীর প্রথম ক্লোন জীবের নাম কী?

উত্তর : ডলি।

৫। অটোসোম কী?

উত্তর : যেসব ক্রোমোজোম জীবের দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাদের অটোসোম বলে।

 

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

১। জিন কী?

২। সেল ক্লোনিং কী?

৩। টিস্যু কালচার কী?

৪। ট্রান্সফরমেশন কী?

৫। মানুষের অন্ত্রে কোন ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে?

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

১। জিনকে বংশগতির একক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : এক বংশ থেকে আরেক বংশে বা প্রজন্মে অর্থাৎ বংশপরম্পরায় জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক এককই হলো জিন। এটি জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন—দেহের রং, চুলের রং, জীবের আচার-আচরণ, স্বভাব ইত্যাদি ধারণ করে এবং মাতা-পিতা থেকে সন্তানে স্থানান্তর করে। তাই  জিনকে বংশগতির একক বা ধারক ও বাহক বলা হয়।

২। ডিএনএ টেস্ট বলতে কী বোঝো?

উত্তর : ডিএনএ টেস্ট এক ধরনের পরীক্ষা, যার মাধ্যমে সন্তান ও মাতা-পিতার ডিএনএর প্রফাইল দেখে তাদের সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। গবেষণাগারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই ডিএনএ প্রফাইল তৈরি করা হয়। মাতা-পিতার ডিএনএ প্রফাইলের সঙ্গে সন্তানের প্রফাইল ৫০ শতাংশ মিলে গেলে তাদের প্রকৃত মাতা-পিতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। জীব-প্রযুক্তি ব্যাখ্যা করো।

২। মানব ক্লোনিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে কেন?

৩। হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট বলতে কী বোঝায়?

৪। মানুষের জেনেটিক বিশৃঙ্খলা কেন ঘটে?

৫। জীব-প্রযুক্তিকে সমন্বিত বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

 

প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তর লেখার টিপস

১। কৃষি উন্নয়নে, ওষুধশিল্পে, গৃহপালিত পশু উন্নয়নে জীব-প্রযুক্তির ভূমিকা শিখে নিতে হবে। এখান থেকে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নে জীব-প্রযুক্তির ব্যবহার জানতে চাওয়া হতে পারে।

২। কৃষি আধুনিকায়নে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি শিখে নেবে।

৩। ডিএনএ টেস্টের প্রক্রিয়া ও সুফল জেনে নেবে।

৪। বংশগতিতে ক্রোমোজোমের ভূমিকা আলোচনা করো—এ প্রশ্ন আসতে পারে।

 

গ্রন্থনা : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা