kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

সপ্তম শ্রেণি
সপ্তবর্ণা

শ্রাবণে

সুকুমার রায়ের কবিতা

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

 

১। ‘শুধু যেন বাজে কোথা নিঝুম ধুকধুক’—কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : প্রকৃতিতে বিদ্যমান অবিরাম বর্ষণ ধারা সম্পর্কে বলা হয়েছে। শ্রাবণ মাসে অবিরাম বৃষ্টি ধারা ঝরে পড়ে। মুহূর্তের জন্য সেই ধারা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় না। শুধু শোনা যায় বৃষ্টির ঝমঝমানি। অবিরাম বৃষ্টির নিঝুম শব্দে হঠাত্ যেন বুক ভয়ে ধুক ধুক করে ওঠে।

২। ‘নদীনালা ঘোলাজল ভরে উঠে বরষায়’- কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : বর্ষার বারিধারায় নদীনালা পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্ষার দিনগুলোতে প্রকৃতিতে শুরু হয় অবিরাম বারিধারা। নদী-নালা, খাল-বিল জলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।  নদীতে গিয়ে নামে উজানের পানি। সেই পানি হয়ে যায় ঘোলাটে।

৩। ‘শেষ নাই শেষ নাই বর্ষার প্লাবনের’—চরণটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : বর্ষায় প্রকৃতিতে যে অবিরাম বারিধারা নেমে আসে সে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য বর্ষা প্রতিনিয়তই নতুনরূপে আবির্ভূত হয়। বর্ষায় প্রকৃতিজুড়ে চলে জলের খেলা। মাঠ-ঘাট, নদী-নালা সবকিছু জলে থৈ থৈ করে। প্রকৃতি সজীব ও প্রাণবন্ত রূপ ধারণ করে। দিন-রাত ধরে চলে বারিধারা।

৪। ‘ধরণীর আশাভয় ধরণীর সুখ-দুঃখ’—এ দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : এ চরণে কবি শ্রাবণের দিনে রিমঝিম বৃষ্টি দেখে অতীতের সুখ-দুঃখের কথা মনে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝিয়েছেন। আবহমান কাল থেকে মানবমনে সুখ-দুঃখের  অনুভূতির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্ক রয়েছে। বৃষ্টি আমাদের স্বভাবতই অতীতের স্মৃতি চোখের সামনে ভাসিয়ে তোলে। স্মৃতিবন্দি সেই দিনগুলো কারো সুখের, কারো বা দুঃখের। কবি শ্রাবণের ঘনঘোর বরষায় সেই স্মৃতিমাখা সুখ-দুঃখের দিনগুলোই স্মরণ করেছেন।

উদ্দীপক: গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে বর্ষায় গাছে সবুজ পাতা গাঢ় হয়। নানা ফুল ফোটে। প্রকৃতির রূপ দেখে মানবমনে আনন্দের দোলা লাগে।

ক। ‘বারিধারা’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘বারিধারা’ অর্থ জলের ধারা।

খ। ‘প্রাণখোলা বরষা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : শ্রাবণ মাসে বরষার অবিরাম বা বিরতিহীন ধারাকে প্রাণখোলা বরষা বোঝানো হয়েছে। শ্রাবণ মাসে দিন-রাত বৃষ্টির শেষ নেই যেন। সেই অবিরাম বৃষ্টিতে স্নান করতে থাকে গাছপালা, মাঠ-প্রান্তর। শ্রাবণ মাসে বর্ষার এমন প্রাণখোলা একটানা বৃষ্টিকে ‘প্রাণখোলা বরষা’ বলা হয়েছে।

গ। ‘শ্রাবণে’ কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের ভাবগত সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ। ‘প্রকৃতি মানবমনকেও প্রভাবিত করে রয়েছে’—উদ্দীপক ও কবিতায় সেই সত্যের নিরূপণ করো।

গ ও ঘ এর উত্তর সংকেত : প্রকৃতিতে নতুন প্রাণসঞ্চারের দিক থেকে ‘শ্রাবণে’ কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের ভাবগত সাদৃশ্য রয়েছে। এই সাদৃশ্য বাস্তবে কোথায় কোথায় ধরা পড়ে তা ভেবে নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রথমে কবিতার আলোকে প্রকৃতির রূপবদলের বর্ণনা লেখার পর উদ্দীপকের সঙ্গে এর মিল দেখাতে হবে।

অন্যদিকে প্রকৃতি মানবমনকে প্রভাবিত করে রয়েছে—উদ্দীপক ও কবিতায় এই সত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। বর্ষার আগমনে প্রকৃতির যে পরিবর্তন হয় সেটা তুলে ধরতে তোমাকে প্রকৃতির পরিবর্তন সম্পর্কে আরো জানতে হবে। কোন ঋতুতে কোন ফুল ফোটে বা কখন গাছের পাতা গাঢ় সবুজ হয়, কখন পাতা ঝরে যায় সেটাও জানতে হবে। তারপর প্রকৃতির রূপ বদলে মানুষের মনে কেমন পরিবর্তন হয় সেটা জানার জন্য কবিতার চরণগুলো অর্থ বুঝে পড়তে হবে।

গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

মন্তব্য