kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

নবম-দশম
জীববিজ্ঞান

শ্বসনতন্ত্র

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্বসনতন্ত্র

একটু লম্বা সময় ধরে শ্বাস নাও। দেখবে শ্বাস নেওয়ার সময় ধীরে ধীরে বুক প্রসারিত হচ্ছে। তারপর আবার নিঃশ্বাস ছেড়ে দাও, দেখবে বুক সংকুচিত হয়েছে। বুক নয়, আসলে ফুসফুসটাই সংকুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে।

এই শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে মানবদেহে অক্সিজেন প্রবেশ করে আর নিঃশ্বাসের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়ে যায়। পুরো শ্বাসকার্য যেসব অঙ্গের সাহায্যে পরিচালিত হয় তাদের একত্রে বলে শ্বসনতন্ত্র। নাক থেকে শুরু করে ফুসফুস পর্যন্ত অঙ্গগুলো শ্বাসকার্যে সাহায্য করে থাকে।

শ্বসনতন্ত্রের প্রথমেই আসে নাসিকা। নাসিকাপথে লোম থাকে। ফলে বাতাসের ধূলিকণা, জীবাণু থাকলে তা আটকে যায়। তারপরের অংশটি গলবিল। স্বরযন্ত্র গলবিলের নিচে ও শ্বাসনালির ওপরে থাকে। শ্বাসনালি, ব্রঙ্কাস হয়ে বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে।

ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়। অন্যদিকে দেহকোষে পরিপাক হওয়া খাদ্যের সঙ্গে অক্সিজেন বিক্রিয়া করে, যার ফলে তাপ ও শক্তি উত্পন্ন হয়। সেই সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানিও উত্পন্ন হয়।

শক্তি আমাদের দেহে নানা কাজে ব্যবহূত হয় আর কার্বন ডাই-অক্সাইড চলে যায় ফুসফুসে। সেখান থেকে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে তা বেরিয়ে যায়। এই যে খাদ্যের সঙ্গে অক্সিজেন বিক্রিয়া করে তাপ, শক্তি, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উত্পন্ন হলো—এ প্রক্রিয়াটির নামই শ্বসন প্রক্রিয়া। অর্থাত্ যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রাণীদেহের খাদ্যবস্তুকে বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে জারিত করে ব্যবহারযোগ্য শক্তি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে তাকে শ্বসন বলে।

চলো বিক্রিয়াটি দেখে নিই।

C6H12O6 + 6O2                  6CO2 + 6H2O + ATP

এখানে গ্লুকোজ অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি ও অঞচ বা শক্তি উত্পন্ন করেছে।

জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

১। নিউমোনিয়ার জীবাণুর নাম কী?

উত্তর : নিউমোকক্কাস নামের ব্যাকটেরিয়া।

৩। শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ কী?

উত্তর : ফুসফুস।

৪। রক্তের কোন কণিকা অক্সিজেন পরিবহন করে?

উত্তর : লোহিত রক্তকণিকা।

৫। প্লুরা কী?

উত্তর : ফুসফুসকে আবরণকারী পর্দার নাম প্লুরা।

 

জ্ঞানমূলক কিছু প্রশ্ন

১। এপিগ্লটিস কী?

২। ডায়াফ্রাম কী?

৩। গ্যাসীয় বিনিময় কাকে বলে?

৪। ট্রাকিয়া কী?

৫। ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ কী?

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

১। রাতে বড় গাছের নিচে ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় কেন?

উত্তর : রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকার কারণে অক্সিজেন উত্পন্ন হয় না। অন্যদিকে শ্বসন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই চলতে থাকে। যার ফলে তখন গাছ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। বড় গাছে পাতা ও লেন্টিসেলের সংখ্যা বেশি থাকে। এ জন্য বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা শ্বাসরোধের কারণও হতে পারে। তাই রাতে বড় গাছের নিচে ঘুমানো ঠিক নয়।

২। হাঁপানি প্রতিরোধে করণীয় কী?

উত্তর : হাঁপানি প্রতিরোধে করণীয়—

ক। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করা।

খ। বায়ুদূষণ, বাসস্থান বা কর্মক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হতে পারে এমন বস্তুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

গ। হাঁপানি রোগীর শ্বাসকষ্ট লাঘবের জন্য সব সময় সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা ও প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। ক্রনিক ব্রংকাইটিস কেন হয়?

২। অক্সিহিমোগ্লোবিন বলতে কী বোঝায়?

৩। গ্যাসীয় বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

৪। ইমবাইবিশন বলতে কী বোঝ?

৫। নিউমোনিয়া রোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।

 

প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের জন্য টিপস—

১। হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ফুসফুস ক্যান্সার—এ রোগগুলোর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার প্রতিরোধ ভালো করে শিখে ফেলবে। এগুলো দিয়ে উদ্দীপক সাজানো থাকতে পারে এবং প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন আসতে পারে। কোনো একটি লক্ষণ বলে সেই রোগ প্রতিকারের কারণ জানতে চাওয়া হতে পারে।

২। মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব জানতে চাওয়া হতে পারে।

৩। গ্যাসীয় বিনিময়ের পুরো প্রক্রিয়াটি শিখে নেবে।

৪। মানবদেহে শ্বসনতন্ত্রের গুরুত্ব শিখে নেবে।

গ্রন্থনা : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য