kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

নবম-দ্বাদশ : রসায়ন

একনজরে পর্যায় সারণি

১৮ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একনজরে পর্যায় সারণি

পৃথিবীতে আবিষ্কৃত ও স্বীকৃত মোট মৌল ১১৮টি। ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মৌলগুলোর প্রতিটি মৌলের গঠন, ধর্ম ও ব্যবহার সম্পর্কে আলাদা করে জানা কষ্টসাধ্য। তাই মৌলসমূহের মধ্যে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে কতগুলো পর্যায় ও গ্রুপে ভাগ করা হয়। আজকের আলোচ্য পর্যায় সারণির ব্লক ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক। 

 

পর্যায় সারণির মৌল সমূহ ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপে বিস্তৃত থাকে। আর কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে তার সর্বশেষ ইলেকট্রনটি যে অরবিটালে প্রবেশ করে তাকে মূলত সে ব্লক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সবগুলো মৌলকে মোট চারটি ব্লক তথা— s-ব্লক, p-ব্লক, d-ব্লক, f-ব্লকে ভাগ করা হয়।

 

s-ব্লক

এ ব্লকে মৌল ১৪টি। পর্যায় সারণির যে সকল মৌলের সর্বশেষ শক্তিস্তরে এক বা দুটি ইলেকট্রন থাকে অর্থাৎ গ্রুপ-১ ও গ্রুপ-২ এর মৌলগুলো এ ব্লকের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে গ্রুপ-১ ক্ষার ধাতু এবং গ্রুপ-২ মৃত্ক্ষার ধাতু হিসেবে পরিচিত। এরা নরম ধাতু এবং কিছু ব্যতিক্রম মৌল ছাড়া বেশিরভাগ মৌলের লবণগুলো শিখা পরীক্ষায় বিভিন্ন বর্ণ ধারণ করে।

 

p-ব্লক

এ ব্লকে মৌল ৩৬টি। পর্যায় সারণির ১৩ থেকে ১৮ নং গ্রুপের মৌলসমূহ এ ব্লকের অন্তর্ভুক্ত। এ ব্লকের মৌলগুলো আদর্শ বা প্রতিরূপী মৌল হিসেবে পরিচিত। এর বেশিরভাগ মৌল তড়িৎ ঋণাত্নক। তাছাড়া এদের অধাতব অক্সাইড অম্লধর্মী হয়। 

 

d-ব্লক

এ ব্লকে ৪১টি মৌল। সারণির ৩ থেকে ১২ নং গ্রুপের মৌলসমূহ এ ব্লকে অন্তর্ভুক্ত। এরা উত্কৃষ্ট ধাতু হিসেবে পরিচিত। এ ব্লক মৌলসমূহ জটিল লবণ (কমপ্লেক্স সল্ট) গঠন করে। এরা রঙিন যৌগ গঠন করে। চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা আকর্ষিত হয় এরা।

 

f-ব্লক

এ ব্লকে মৌল আছে ২৭টি। ল্যানথানাইড ও অ্যাকটিনাইড মৌলগুলো এ ব্লকের অন্তর্ভুক্ত। এর মৌলসমূহ অন্তঃঅবস্থান্তর মৌল হিসেবে পরিচিত। আর অ্যাকটিনাইড শ্রেণির বেশিরভাগ মৌলই তেজষ্ক্রিয় হয়।

 

অবস্থান্তর মৌল

d-ব্লকের মৌলসমূহ যাদের সুস্থিত আয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস d1 থেকে d9 কাঠামোর মধ্যে থাকে তাকে অবস্থান্তর মৌল বলে।

যেমন Fe2+ = 1s22s22p63s23p63d6

এখানে Fe2+ আয়নের ইলেকট্রন বিন্যাসে d অরবিটালে ৬টি ইলেকট্রন আছে। অর্থাৎ এটি অবস্থান্তর মৌল।

 

কর্ণ সম্পর্ক

পর্যায় সারণিতে কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের একটি মৌলের সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের পরের গ্রুপের অর্থাৎ কোণাকুণিভাবে অবস্থিত মৌলের রাসায়নিক ধর্মে কিছুটা মিল পাওয়া যায়। একে কর্ণ সম্পর্ক বলে।

কোনো একটি মৌলের সঙ্গে কার কর্ণসম্পর্ক রয়েছে তা সহজে বের করা যায়। মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৯-এর বেশি হলে ৯ বিয়োগ অথবা পারমাণবিক সংখ্যা ৯-এর কম হলে ৯ যোগ করে যে মৌল পাওয়া যায় সেটা তার কর্ণ সম্পর্ক (শুধু পর্যায় ২ ও ৩ মৌলগুলোর জন্য)। যেমন অক্সিজেন (৮)-এর সঙ্গে কর্ণ সম্পর্ক ৮+৯= ১৭ অর্থাৎ ক্লোরিন।   

 

মনে রেখো

১। ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ হলো—Fe, Co, Ni

২। প্যারাম্যাগনেটিক পদার্থ হলো—Cu, Ti, V

 

            গ্রন্থনা : মাহবুব আলম রিয়াজ



সাতদিনের সেরা