kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

পঞ্চম শ্রেণি
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন বাংলাদেশে পাওয়া গেছে। পঞ্চম শ্রেণির বংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে এর সম্পর্কে জেনে নেব।

এ অধ্যায়ে কিছু ঐতিহাসিক স্থানের বর্ণনা আছে। এর মধ্যে আছে মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, ময়নামতী, সোনারগাঁ। এগুলো আমাদের অতীতের সংস্কৃতি, সে সময়কার জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা দেয়।

 

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

♦ মহাস্থানগড় খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে শুরু করে ১৫ শতকের বেশি সময়ের ইতিহাস বহন করে।

♦ মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক নিদর্শনটি বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।

♦ একসময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল। ২০১৬ সালে এটাকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

♦ মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন দুর্গ, প্রাচীন ব্রাহ্মী শিলালিপি, মন্দির, পোড়ামাটির ভাস্কর্য, মুদ্রা, পুঁথি, খোদাই করা পাথর ইত্যাদি।

♦ পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার নামেও পরিচিত।

♦ এই বৌদ্ধ বিহার তৈরি করেছিলেন পালবংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল। ৭৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দে এটি তৈরি করা হয়।

♦ ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম পাহাড়পুর আবিষ্কার করেন।

♦ পাহাড়পুরে ২৪ মিটার উঁচু গড় আছে।

♦ ময়নামতী নিদর্শনটি প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাচীন নগরী ও বৌদ্ধ বিহারের অবশিষ্ট অংশ।

♦ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে কুমিল্লা শহরে ময়নামতী নিদর্শনটির অবস্থান।

♦ ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা।

♦ লালবাগ কেল্লা একটি অসমাপ্ত মোগল দুর্গ।

♦ ১৬৭৮ সালে লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন আওরঙ্গজেবের ছেলে শাহাজাদা মোহাম্মদ আযম শাহ। কিন্তু শেষ করতে পারেননি।

♦ ১৬৮০ সালে সুবাদার শায়েস্তা খাঁ লালবাগ কেল্লা আবার শুরু করেন; কিন্তু তিনিও শেষ করতে পারেননি।

♦ লালবাগ কেল্লার মধ্যে রয়েছে শায়েস্তা খাঁর মেয়ের কবর, যা পরিবিবির সমাধি বা পরিবিবির মাজার নামে পরিচিত।

♦ তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ আছে লালবাগ কেল্লার ভেতর।

♦ সোনারগাঁ ঢাকার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। প্রাচীন মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল এটি। ১৬১০ সালে একটি যুদ্ধে ঈসা খাঁর পুত্র মুসা খাঁ পরাজিত হওয়ার পর সোনারগাঁয়ের পরিবর্তে ঢাকা রাজধানী হয়।

♦ সোনারগাঁয়ে ১৯ শতকে হিন্দু উচ্চবিত্ত বণিকদের সুতা ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল পানামনগর।

♦ পানামনগরের সুদৃশ্য প্রাচীন বাড়িগুলো এখনো আছে, যা এখন ধ্বংসের মুখে।

♦ সোনারগাঁয়ের মসলিন কাপড় সারা বিশ্বে সমাদৃত ছিল। বর্তমানে সোনারগাঁয়ে জামদানি শাড়ি তৈরি হয়।

♦ বুড়িগঙ্গার পারে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল। মোগল আমলে শেখ এনায়েতুল্লাহ এটি তৈরি করেন।   

♦ ফরাসি বণিকদের কাছে আহসান মঞ্জিল বিক্রি করে দিয়েছিলেন শেখ এনায়েতুল্লাহর ছেলে শেখ মতিউল্লা। পরে ১৮৩০ সালে খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে কিনে প্রাসাদে পরিণত করেন।

 

১। মহাস্থানগড় কোন জেলায়?

উত্তর : বগুড়া।

২। মৌর্য আমলে মহাস্থানগড়ের নাম কী ছিল?

উত্তর : পুণ্ড্রনগর।

৩। মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর : করতোয়া নদীর তীরে।

৪। প্রাচীন ব্রাহ্মী শিলালিপি কোথায় পাওয়া গেছে?

উত্তর : মহাস্থানগড়ে

৫। উয়ারী-বটেশ্বর কোন আমলের নিদর্শন?

উত্তর : খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৪৫০ সালের, মৌর্য আমলের নিদর্শন।

৬। পাহাড়পুর নিদর্শনটি কোন রাজার শাসনামলে নির্মিত?

উত্তর : ৬৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দে পাল রাজা ধর্মপালের শাসনামলে।

৭। পাহাড়পুর কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায়।

৮। পাহাড়পুরে কী কী নিদর্শন পাওয়া গেছে?

উত্তর : জীবজন্তুর মূর্তি ও টেরাকোটা।

৯। ময়নামতী কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : কুমিল্লায়।

১০। ময়নামতী কার স্ত্রীর নাম?

উত্তর : অষ্টম শতকের রাজা মাণিক চন্দ্রের।

১১। বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র কোনটি?

উত্তর : ময়নামতী।

১২। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে ভিক্ষুদের জন্য কতটি কক্ষ আছে?

উত্তর : ১৭৭টি।

১৩। সোনারগাঁ ও লালবাগ কেল্লা কোন সময়কার ঐতিহাসিক নিদর্শন?

উত্তর : ১৭ শতকের।

১৪। সোনারগাঁ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর : মেঘনা নদীর তীরে।

১৫। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহর মাজার কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : সোনারগাঁয়।

১৬। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন কত সালে সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর : ১৯৭৫ সালে।

১৭। লালবাগ কেল্লা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর : বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে।

১৮। কত সালে লালবাগ কেল্লা তৈরি করা হয়?

উত্তর : ১৬৭৮ সালে।

১৯। আহসান মঞ্জিল কে তৈরি করেন?

উত্তর : জমিদার শেখ এনায়েতুল্লাহ।

২০। কত সালে বাংলাদেশ সরকার আহসান মঞ্জিল তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেয়?

উত্তর : ১৯৮৫ সালে।

 

গ্রন্থনা : নূসরাত জাহান নিশা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা