kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

সপ্তম শ্রেণি
বিজ্ঞান

নবায়নযোগ্য শক্তি

সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবায়নযোগ্য শক্তি

বায়ুপ্রবাহ কাজে লাগিয়ে বিদ্যুত্ তৈরি করে বায়ুকল

শক্তি কী? সহজে বললে, কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। যার যত বেশি শক্তি সে তত বেশি কাজ করতে পারবে। তোমাকে যদি তোমার সামর্থ্যের বাইরে কাজ দেওয়া হয় তখন বলে থাকো, তোমার শক্তিতে সম্ভব হচ্ছে না। কাজের একক আর শক্তির একক একই (জুল)।

শক্তির বিভিন্ন রূপ রয়েছে। রাসায়নিক শক্তি, বিদ্যুত্ শক্তি, তাপ শক্তি, চুম্বক শক্তি ইত্যাদি। আমরা কিন্তু শক্তিকে এক রূপ থেকে আরেক রূপে নিতে পারি। যেমন—ইস্ত্রিতে বিদ্যুত্ শক্তি দিয়ে তা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। এবার আসি শক্তির উত্স নিয়ে। প্রধানত আমরা দুই ধরনের উত্স থেকে শক্তি পাই। যথা—নবায়নযোগ্য শক্তি ও অনবায়নযোগ্য শক্তি। নবায়ন নাম থেকে সহজেই বুঝতে পারছ, এ ধরনের শক্তি নবায়ন করা যায়। তার মানে এ ধরনের শক্তির উত্সকে বারবার ব্যবহার করে শক্তি পাওয়া যায় বা উত্পন্ন করা যায়। আর অনবায়নযোগ্য শক্তির উত্স ব্যবহার করে নতুন করে শক্তি উত্পন্ন করা যায় না। আজকে আমরা আলোচনা করব নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে। নবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে অন্যতম বায়োগ্যাস, বায়ু প্রবাহ, জোয়ার-ভাটা, সৌরশক্তি।

সৌরশক্তি : সূর্য পৃথিবীর সব শক্তির আধার। গ্রামের বাড়িতে ঘরের ছাদে সোলার প্যানেল দেখেছ নিশ্চয়ই। আবার শহরের ল্যাম্পপোস্টে সোলার বসানো থাকে। এই সোলার প্যানেল সৌরশক্তি অর্থাত্ সূর্যের আলো থেকে তাপ নিয়ে তাকে বিদ্যুত্ শক্তিতে রূপান্তরিত করে; অন্যদিকে শীতকালে আমাদের ঘরবাড়ি গরম রাখতে সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বায়োগ্যাস : গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিষ্ঠা ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উত্পন্ন করা যায়। তা ছাড়া উদ্ভিজ্জ উপকরণও ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু টাটকা উদ্ভিজ্জ ব্যবহার করলে তা অন্তত ১০ দিন পচাতে হবে।

বায়ুপ্রবাহ : বায়ুপ্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়। তারপর সেই বিদ্যুত্ দিয়ে কলকারখানাও চালানো হয়। আগে মানুষ বাতাসকে কাজে লাগিয়ে কাঠ চেরাইয়ের মতো কাজও করেছে। গ্রামে গেলে আমরা দেখতে পাই, ধান আর চিটা আলাদা করার কাজেও বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করা হয়। 

জোয়ার-ভাটা : পানির জোয়ার-ভাটাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যায়।

 

নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা

নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের সুবিধা অনেক। আমরা যে কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুত্ উত্পাদন করি, সে কয়লার খনি থেকে একসময় কয়লা ফুরিয়ে যাবে। যদি সৌরশক্তিকে কাজে লাগানো যায় তাহলে সৌরশক্তি ফুরোবে না। বিভিন্ন পকেট ঘড়ি, ক্যালকুলেটর সৌরশক্তির সাহায্যে চালানো যায়। ফলে আলাদা করে ব্যাটারি কিনতে হচ্ছে না। ব্যাটারির চার্জ শেষ হওয়ার টেনশনও নেই। নবায়নযোগ্য শক্তির বড় সুবিধা হলো এটি পরিবেশবান্ধব। এরা বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ায় না। বায়ুপ্রবাহ ও সৌরশক্তি অফুরন্ত। ফলে নবায়নযোগ্য শক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; অন্যদিকে নবায়নযোগ্য শক্তি খুব সহজেই পাওয়া যায়। সাশ্রয়ীও বটে।

            গ্রন্থনা : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা