kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

তৃতীয় শ্রেণি

জীবনের জন্য পানি

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে ‘জীবনের জন্য পানি’ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে চতুর্থ অধ্যায়ে। টোনা-টুনির কথায় কথায় পানির কথা জানাচ্ছেন নূসরাত জাহান

২১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবনের জন্য পানি

টোনা : অনেক তো ওড়াওড়ি হলো, চলো গিয়ে গাছের ডালে বসি।

টুনি : হ্যাঁ, চলো নদীর ধারে ওই গাছের ডালে বসি। টোনা দেখেছ চারদিকে পানি আর পানি।

টোনা : পদ্মা, যমুনা, মেঘনা কত নদী আমরা উড়ে উড়ে দেখে আসলাম। সাগরের তো কোনো কূলই নেই।

টুনি : জানো টোনা, পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগই পানি। নদী, সাগর, খাল-বিল, বৃষ্টি, হ্রদ আমাদের পানির উৎস।

টোনা : আচ্ছা টুনি, পানির কি শুধু প্রাকৃতিক উৎসই আছে?

টুনি : না, মানুষের তৈরি পানির উৎসও আছে। পুকুর, নলকূপ, কুয়া, পানির কলও মানুষের তৈরি পানির ইৎস।

টোনা : বৃষ্টিও কি খুবই দরকার আমাদের?

টুনি : হ্যাঁ টোনা। নদী, সমুদ্রের পানি সূর্যের তাপে বাষ্প হয়। এই বাষ্প আকাশে উড়ে গিয়ে মেঘ হয়। আর সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।

টোনা : ওওওও...আচ্ছা, তারপর এই বৃষ্টির পানি আবার নদী, সাগর, পুকুরে পড়ে। মাটিও শুষে নেয় পানি।

টুনি : আর আমরা যখন মাটি খুঁড়ে খাল করি, গভীর নলকূপ করি, বিশাল গর্ত করে কুয়া বানাই, সেখানে বৃষ্টির পানি আর মাটির নিচে জমে থাকা পানি আমরা পাই; যা নানা কাজে ব্যবহার করি।

টোনা : টুনি পানি আমাদের কী কী কাজে ব্যবহার হয়?

টুনি : আরে বোকা পানির অপর নাম হলো জীবন। আমাদের শরীরে ৭০ ভাগ পানি। শরীরে পানির অভাব হলে আমরা অসুস্থ হয়ে যাব।

টোনা : তাই নাকি টুনি!

টুনি : সকালে দাঁত মাজা থেকে শুরু করে, রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া সব কাজে পানির প্রয়োজন হয়।

টোনা : তাহলে পশু-পাখিরও পানি দরকার হয়?

টুনি : টোনা! তুমি তো একটা পাখি, তুমি পানি পান করো না? আবার যত প্রকার মাছ বা জলজ প্রাণীর বসবাস কোথায়?

টোনা : আমি পানি না পেলে তো মরেই যাব। আর জলজ প্রাণী তো জলেই মানে পানিতেই বাঁচে। ওহ! আমি এত বোকা কেন!

টুনি : জি! মানুষ, পশু-পাখির যেমন দরকার, গাছপালারও পানি দরকার। পানি হলো গাছের প্রধান খাদ্য। পানি খেয়ে গাছ বড় হয় আর তাতে ফুল আর ফল হয়। মানুষ, পশু-পাখি তা খায়।

টোনা : বুঝলাম পানির অপর নাম কেন জীবন। পানি ছাড়া আমাদের এই পৃথিবী মরুভূমি হয়ে যাবে।

টুনি : কিন্তু সব পানি আমরা পান করতে পারব না। নিরাপদ পানি পান করতে হবে। যেমন—পানি ফুটিয়ে, ফিল্টার করে নিতে হবে। তাতে পানিতে থাকা জীবাণু আমাদের অসুস্থ করতে পারবে না। বৃষ্টির পানিও বিশুদ্ধ, এ পানি রান্নার কাজে ব্যবহার করতে পারব।

টোনা : আচ্ছা টুনি, আর্সেনিক কী? অনেক সময় গভীর নলকূপের পানিতে নাকি আর্সেনিক পাওয়া যায়।

টুনি : ঠিক শুনেছ। যেসব নলকূপের পানিতে আর্সেনিক থাকে সেগুলোকে লাল রং করা হয়। আর যে নলকূপে থাকে না তাকে সবুজ রং করা হয়। আর্সেনিকযুক্ত পানি খেলে চর্মরোগ বা ক্যান্সার হতে পারে। তাই সাবধান।

টোনা : তাই আমরা দূষিত পানি ও আর্সেনিকযুক্ত পানি খাব না।

টুনি : পানিতে ময়লা-আবর্জনা ফেললে, তেল, কলকারখানার কেমিক্যালযুক্ত পানি পড়লে পানি দূষিত হয়ে যায়; যা খেলে আমাদের বিভিন্ন রোগ হয়। তাই আমরা এসব কাজ করা থেকে দূরে থাকব।

টোনা : চলো, এবার উড়াল দিই। অনেক বিশ্রাম হলো আমাদের; সাগর দেখা এখনো বাকি।        গ্রন্থনা : নূসরাত জাহান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা