kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ► জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র

চয়ন বিকাশ ভদ্র,সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ

১৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



উদ্ভিদবিজ্ঞান অধ্যায়-২ : কোষ বিভাজন

১.

ক) নিউক্লিওসাইড কী?

খ) ক্রোমাটিড বলতে কী বোঝো?

গ) উদ্দীপকের Stage-C চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা করো।

ঘ) উদ্দীপকের Stage-D-তে সংঘটিত প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করো।

 

উত্তর : ক)

নিওক্লিওসাইড—এক অণু নাইট্রোজেন ঘটিত ক্ষারক ও এক অণু পেন্টোজ সুগার যুক্ত হয়ে গঠিত গ্লাইকোসাইড যৌগকে বলা হয় নিওক্লিওসাইড।

 

উত্তর : খ)

ক্রোমাটিড—মাইটোসিস বিভাজনের প্রোফেজ পর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বিভাবে দুটি সূত্রে বিভক্ত থাকে। প্রতিটি সূত্রকে ক্রোমাটিড বলে।

 

উত্তর : গ)

উদ্দীপকের Stage-C হলো মিয়োসিস-১-এর প্রোফেজ-১-এর জাইগোটিন উপপর্যায়। নিচে জাইগোটিনের চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো—

চিত্র : জাইগোটিন

 

১. সমদৈর্ঘ্য ও গুণসম্পন্ন তথা সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে আকর্ষণ ঘটে। ফলে সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলো দৈর্ঘ্য বরাবর সমান্তরালে জোড় বাঁধে, জোড় বাঁধার এ পদ্ধতিকে সিন্যাপসিস বলে।

 

২. জোড়বদ্ধ দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম একত্রে বাইভ্যালেন্ট নামে পরিচিত।

 

৩. বাইভ্যালেন্ট কুণ্ডলী সৃষ্টির কারণে আপাতদৃষ্টিতে একটি খাটো, মোটা ক্রোমোজোম মনে হয়।

 

৪. নিওক্লিও পর্দা ও নিওক্লিওলাস সুস্পষ্ট থাকে। তবে সেন্ট্রিওলের বিভাজন শুরু হয়।

 

উত্তর : ঘ) উদ্দীপকের Stage-D হলো মিয়োসিস-১-এর প্রোফেজ-১-এর প্যাকাইটিন উপপর্যায়। নিচে প্যাকাইটিনে সংঘটিত প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো—

১. বাইভ্যালেন্টের প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রেমিয়ার অংশ ব্যতীত দৈর্ঘ্য বরাবর বিভক্ত হয়। এর ফলে প্রতিটি বাইভ্যালেন্ট থেকে চারটি ক্রোমাটিডের সৃষ্টি হয়। এ চারটি ক্রোমাটিড একত্রে টেট্রাড বলে পরিচিত।

 

২. একই ক্রোমোজোম থেকে প্রাপ্ত দুটি ক্রোমাটিড হলো পরস্পরের সিস্টার ক্রোমাটিড। আর ভিন্ন ক্রোমোজোম থেকে প্রাপ্ত দুটি ক্রোমাটিড পরস্পরের নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে পরিচিত।

 

৩. এন্ডোনিউক্লিয়েজের কারণে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি এক বা একাধিক স্থানে আড়াআড়িভাবে ভেঙে যায়। অতঃপর লাইগেজ এনজাইমের কারণে ভাঙা প্রান্তগুলো পরস্পর নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের সঙ্গে জোড় বাঁধে। ক্রোমোজোম অংশে এ বিনিময়কে ক্রসিংওভার বলে অভিহিত করা হয়। বাইভ্যালেন্টের যে স্থানে ক্রসিংওভার ঘটেছিল, পৃথকরত ক্রোমোজোমগুলো সেখানে একত্রে যুক্ত থাকে। এসব × (ক্রস) আকৃতির সংযুক্ত স্থানকে কায়জামাটা এবং একবচনে কায়জামা বলে।

 

২. শিক্ষার্থীরা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখল, ক্রোমোজোমসহ কোষের মাকু যন্ত্রের মধ্যরেখা বরাবর অবস্থান করছে। কোষ বিভাজনের একটি মডেলে লক্ষ করতেই নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ‘X’-এর মতো দৃশ্য চোখে পড়ল।

 

ক) গ্লাইকোলাইসিস কী?

খ) নিষেক ক্রিয়ার তাৎপর্য কী?

গ) উদ্দীপকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্ট কোষ বিভাজনের ধাপটির সচিত্র বর্ণনা দাও।

ঘ) উদ্দীপকের বর্ণিত মডেলে দৃশ্যমান অবস্থার ক্রিয়াকলাপ জীবকুলে বৈচিত্র্য আনে—বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর : ক) গ্লাইকোলাইসিস—যে প্রক্রিয়ার এক অণু গ্লুকোজ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক এসিডে পরিণত হয়, তাকে গ্লাইকোসাইসিস বলে।

 

উত্তর : খ) নিষেকের তাৎপর্য/গুরুত্ব নিচে উল্লেক করা হলো—

  ১. নিষেক ডিম্বাণুকে বিভাজিত হতে উদ্দীপ্ত করে।

  ২. নিষেক ডিম্বাণুর সুনির্দিষ্ট মেরুপ্রবণতা স্থির করে।

  ৩. নিষেকের পূর্বে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের চরিত্র হ্যাপ্লয়েড (n) থাকে। হ্যাপ্লয়েড (n) পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে উৎপন্ন জাইগোট।

  ৪. ডিপ্লয়েড (2n) চরিত্র ফিরে আসে। ডিম্বাণু প্রোটিন সংশ্লেষণ করতে এবং বিপাক হার বাড়াতে নিষেক সহায়তা করে।

  ৫. নিষেক জাইগোটে নতুন জিনগত গঠনের সূচনা করে।

 

উত্তর : গ) উদ্দীপকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্ট কোষ বিভাজনের ধাপটি হলো মাইটোসিসের প্রো-মেটাফেজ। নিচে প্রো-মেটাফেজ ধাপের সচিত্র বর্ণনা করা হলো—

চিত্র : প্রো-মেটাফেজ

     

 প্রোফেজ ও মেটাফেজ দশার পরবর্তী দশাকে প্রো-মেটাফেজ দশা বলে। এটি একটি সংক্ষিপ্ত দশা। নিচে এর বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো—

 ১. নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিওক্লিওলাস প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়, নিওক্লিওলাসটি বিন্দুর আকার ধারণ করে।

 ২. প্রোটিনজাতীয় কতগুলো দ্বিমেরু তন্তুর সৃষ্টি হয়ে মাকুতন্ত্র বা স্পিন্ডল যন্ত্র বা অ্যাস্টার রশ্মি গঠন করে।

 ৩. মাকুতন্ত্রগুলোর দুই মেরুর মধ্যবর্তী স্থানকে বিষুবীয় অঞ্চল বলা হয়।

 ৪. ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে।

 ৫. কিছু মাকুতন্ত্র এক মেরু থেকে অন্য মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, এদের অবিচ্ছিন্ন তন্তু বলে।

 ৬. প্রতিটি ক্রোমোজোম একটি আকর্ষণ তন্তুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রোমোজোমীয় নৃত্য প্রদর্শন করে।

 

উত্তর : ঘ) উদ্দীপকের বর্ণিত মডেলটি হলো মিয়োসিস-১-এর প্যাকাইটিন উপপর্যায়। নিচে প্যাকাইটিন উপপর্যায়ের দৃশ্যমান অবস্থার ক্রিয়াকলাপ জীবকুলের বৈচিত্র্য আনে তা আলোচনা করা হলো—

 ১. ক্রসিংওভারের সহায়তায় ক্রোমোজোমের দেহাংশের বিনিময় ঘটে। ফলে ক্রোমোজোমের দেহে জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে।

২. ক্রোমোজোমের জিনের নতুন বিন্যাসের ফলে জেনেটিক ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি হয়। জীবের অভিব্যক্তিতে জেনেটিক ভ্যারিয়েশন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কাজেই এককথায় বলা যায়, ক্রসিংওভার অভিব্যক্তির সহায়ক।

৩. ক্রোমোজোমদেহে জিনের সরলরৈখিক বিন্যাস ক্রসিংওভারের সাহায্যেই স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

৪. ক্রসিংওভারের হার নির্ণয় করে কোনো ক্রোমোজোমে জিনের অবস্থান নির্ণয় ও ক্রোমোজোমের ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব।

৫. কৃত্রিম উপায়ে ক্রসিংওভার ঘটিয়ে বংশগতির পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই প্রজননে ক্রসিংওভারের যথেষ্ট ভূমিকা বিদ্যমান।

 

৩. কোষের এক প্রকার বিভাজনে সৃষ্ট কোষে ক্রোমোজোমসংখ্যা সমান থাকে এবং অন্য প্রকার বিভাজনে সৃষ্ট কোষে ক্রোমোজোমসংখ্যা অর্ধেক হয়। উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

 

ক) হেটারোমর্ফিক জনুঃক্রম কী?

খ) ক্রসিংওভার বলতে কী বোঝো?

গ) উদ্দীপকের প্রথম প্রকার বিভাজনের শেষ তিনটি ধাপের চিহ্নিত চিত্র আঁকো।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ বিভাজন দুটি উদ্ভিদের জীবনে অপরিহার্য—বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর : ক) হেটারোমর্ফিক জনুঃক্রম—Pteris-এর স্পোরোফাইটিক জনু দীর্ঘ; কিন্তু গ্যামেটোফাইটিক জনু বেশ সংক্ষিপ্ত। জনু দুটি আকার-আকৃতিতেও স্বতন্ত্র ও ভিন্ন ভিন্ন। এ ধরনের জনুঃক্রমকে হেটারোমর্ফিক জনুঃক্রম বলা হয়।

 

উত্তর : খ) ক্রসিংওভার—এক জোড়া সমসংস্থ ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় হওয়াকে ক্রসিংওভার বলে। মায়োসিস কোষ বিভাজনের প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে ক্রসিংওভার সংগঠিত হয়। এর ফলে ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের যে বিনিময় ঘটে, সঙ্গে সঙ্গে জিনের বিনিময়ও ঘটে। ফলে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিনিময় হয় এবং জীবে চারিত্রিক ও বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন সাধিত হয়।

 

উত্তর : গ) উদ্দীপকের প্রথম প্রকার বিভাজনটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। যেখানে অপত্য কোষের ক্রোমোজোমসংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সমান থাকে। নিম্নে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের শেষের তিনটি ধাপ যথা—মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজের চিহ্নিত চিত্র আঁকা হলো—

উত্তর : ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ বিভাজন দুটি হলো—মাইটোসিস ও মিয়োসিস। উদ্ভিদের জীবনে এদের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—

 

উদ্ভিদের জীবনে মাইটোসিসের গুরুত্ব

১. উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি গঠন — উদ্ভিদের জীবন শুরু হয় জাইগোট নামের একটি মাত্র কোষ থেকে; এ কোষটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজনের মাধ্যমে বহুকোষী উদ্ভিদদেহ গঠন করে।

 

২. উদ্ভিদের নির্দিষ্ট আকার-আয়তন রক্ষা — মাইটোসিস প্রক্রিয়ার ফলে উদ্ভিদ কোষের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি, আয়তন ইত্যাদি গুণাগুণ বজায় থাকে।

 

৩. উদ্ভিদকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের ভারসাম্য রক্ষা — উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বিভিন্ন ক্ষুদ্রান্ত্র ও রাসায়নিক উপাদানের পরিমাণগত ও নিয়ন্ত্রণগত ভারসাম্য মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে রক্ষিত হয়।

 

৪. উদ্ভিদ ক্ষতস্থান পূরণে — উদ্ভিদের কোনো স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে সে ক্ষতস্থান পূরণ হয়।

 

উদ্ভিদের জীবনে মায়োসিসের গুরুত্ব

 

১. উদ্ভিদ জনুঃক্রমে—যেসব উদ্ভিদের জীবনে জনুঃক্রম আছে, সেসব উদ্ভিদে মায়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।

 

২. উদ্ভিদে ক্রোমোজোমসংখ্যা ধ্রুব রাখা — উদ্ভিদের ডিপ্লয়েড (2n) পরাগ মাতৃরেণু মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) পরাগরেণু সৃষ্টি করে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মায়োসিস না ঘটলে পিতা-মাতা থেকে সন্তান-সন্ততিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষাণুক্রমে ক্রোমোজোমসংখ্যা দ্বিগুণ, চার গুণ, আট গুণ, ষোলো গুণ—এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন ঘটে যেত এবং পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেত।

 

৩. উদ্ভিদ প্রজাতির স্বকীয়তা ঠিক রাখা — মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোমসংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি উদ্ভিদ প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হচ্ছে।

 

৪. অভিব্যক্তি — মায়োসিস আনে বৈচিত্র্য, আর বৈচিত্র্য আনে অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ।

 

৫. গ্যামেট সৃষ্টি, বংশবৃদ্ধি — ডিপ্লয়েড জীবে মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় গ্যামেট। আর গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমেই যৌন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা