kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

নবম-দ্বাদশ : বাংলা | পারিভাষিক শব্দ

শরীফুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা), আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা ব্যাকরণে পারিভাষিক শব্দ রয়েছে। আজ পারিভাষিক শব্দ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে।

‘ভাষা’ শব্দের আগে ‘পরি’ উপসর্গযোগে ‘পরিভাষা’ শব্দটি গঠিত হয়েছে। এর আক্ষরিক অর্থ বিশেষ ভাষা। অর্থাৎ পারিভাষিক শব্দের অর্থ হলো কোনো ভাষার মধ্যে বিশেষ অর্থে ব্যবহারযোগ্য শব্দ। অন্যভাবে বলা যায়, মূল শব্দের মৌলিক অর্থ ও ভাবের সঙ্গে সংগতি রক্ষা করে এক ভাষার শব্দকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত করে যে রূপ দান করা হয় তাকেই ‘পরিভাষা’ বলে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে জীবন ও কর্মের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিত্যনতুন ধারণা ও উপকরণ তৈরি হচ্ছে। এগুলো প্রকাশের জন্য প্রয়োজন নতুন শব্দ। সুনির্দিষ্ট বিষয়কে ধারণকারী এসব শব্দই পরিভাষা। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন বিদেশি শব্দকে বোঝার জন্য, অফিস-আদালত ও উচ্চশিক্ষায় ব্যবহৃত ইংরেজি শব্দের প্রতিশব্দ জানার জন্য, জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রকে আরো সুপরিসর করার জন্য এবং মূলত ভাষাকে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্যই পরিভাষার প্রয়োজন হয়। উদাহরণ : অম্লজান—oxygen, উদজান— hydrogen, নথি—file, প্রশিক্ষণ—training, ব্যবস্থাপক—

manager, বেতার—radio, সচিব—secretary, স্নাতক—graduate, স্নাতকোত্তর—post-graduate, সমাপ্তি—final, সাময়িকী—periodical ইত্যাদি।

পারিভাষিক শব্দের প্রয়োজনীয়তা

১. জ্ঞান-বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর যথাযথ অনুবাদ করার জন্য পরিভাষা ব্যবহার করতে হয়।

২. পরিভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাপর ভাষাগুলোর শব্দভাণ্ডারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়।

৩. পরিভাষার মাধ্যমে বাংলা শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়।

৪. অনুবাদের ক্ষেত্রে যথাযথ শব্দের দুষ্প্রাপ্যতা দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে পরিভাষাই হচ্ছে একমাত্র সহায়ক উপাদান।

৫. পরিভাষা ব্যবহার ভাষার গতিশীলতা বৃদ্ধি করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা