kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

একাদশ-দ্বাদশ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : অধ্যায়-১

বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

এস এম হাবিবুল্লাহ
প্রভাষক, আইসিটি, রাউজান সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদানগুলোর ওপর উদ্দীপকনির্ভর প্রশ্নোত্তরের উদ্দীপকগুলো পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

১। হামিদ সাহেব নিজের ল্যাপটপ ব্যবহার করেই বহির্বিশ্বের বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখেন এবং আমেরিকাপ্রবাসী ছেলের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলেন। প্রতিবেশী তারেক তাঁর প্রয়োজনীয় কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ ও সেবা কৃষিবিদদের কাছ থেকে হামিদ সাহেবের মাধ্যমে সংগ্রহ করেন। হামিদ সাহেবের মেয়ে মিনা ল্যাপটপের মাধ্যমেই বিদেশি লাইব্রেরি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করেন এবং ঘরে বসেই একটি বিদেশি ডিগ্রি অর্জন করেন।

(শুধু গ ও ঘ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে)

গ. উদ্দীপকে হামিদ সাহেবের ক্ষেত্রে বিশ্বগ্রামের ধারণা সংশ্লিষ্ট কোন উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকে হামিদ সাহেবের ক্ষেত্রে বিশ্বগ্রামের যে ধারণা সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ উপাদানটি প্রতিফলিত হয়েছে—বিশ্বগ্রাম ধারণার মূল বিষয় হচ্ছে বিশ্বের মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা যোগাযোগব্যবস্থা। উন্নত ও দ্রুত গতিসম্পন্ন যানবাহনের উদ্ভাবন ও ব্যবহারের স্থলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানুষের যাতায়াত অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের মানুষের পক্ষে একে অপরের কাছে আসা সহজ হয়েছে।

 

ঘ. আমাদের দেশের শিক্ষায় মিনার কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : হামিদ সাহেবের মেয়ে মিনা ঘরে বসেই যে পদ্ধতিতে বিদেশি ডিগ্রি অর্জন করেন তা হলো ই-লার্নিং বা ই-এডুকেশন। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ক্লাসে উপস্থিত না হয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন। অনলাইনের মাধ্যমে এই শিক্ষাব্যবস্থাকে ই-লার্নিং বা ই-এডুকেশন বলে। মিনা নিজের ল্যাপটপ ব্যবহার করে ঘরে বসে বিদেশি লাইব্রেরি থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন; এমনকি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘরে বসেই ডিগ্রিও অর্জন করেন। ঘরে বসে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মিনার সহপাঠীসহ অন্যরাও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনে উৎসাহিত হবেন।

 

২। আকাশ কানাডায় বসবাস করে। মাঝেমধ্যে মায়ের কথা মনে পড়লে মায়ের সঙ্গে কথা বলে এবং সঙ্গে সঙ্গে মায়ের ছবিও দেখতে পায়। মা ছেলেকে প্রশ্ন করেন, ‘এটি কিভাবে সম্ভব?’ আকাশের ব্যবহৃত প্রযুক্তি ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে; অন্যদিকে সাকিব বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত তাঁর অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একসঙ্গে কথা বলে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

গ. উদ্দীপকে আকাশ তাঁর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির ব্যাপারে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : বিভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থান করে ব্যক্তিরা যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তরের মাধ্যমে যোগাযোগ বা সভার কার্যক্রম পরিচালনা করার কৌশল হলো ভিডিও কনফারেন্সিং। উদ্দীপকে আকাশ যখন তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে, তখন অডিওর পাশাপাশি মায়ের ছবিও দেখতে পায়। অর্থাৎ আকাশ তার মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগ করে। স্কাইপি, ফেসবুক মেসেঞ্জার ইত্যাদির মাধ্যমে খুব সহজেই ভিডিও কনফারেন্সিং করা যায়। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব সহজেই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়। তাই বর্তমানে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে।

 

ঘ. উদ্দীপকে আকাশ ও সাকিবের ব্যবহৃত প্রযুক্তি দুটির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর : বিভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থান করে ব্যক্তিরা যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তরের মাধ্যমে যোগাযোগ বা সভা কার্যক্রম পরিচালনা করার কৌশল হলো ভিডিও কনফারেন্সিং। উদ্দীপকে আকাশ যখন তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে, তখন অডিওর পাশাপাশি মায়ের ছবিও দেখতে পায়। অর্থাৎ আকাশ তার মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগ করে।

অন্যদিকে বিভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থান করে বিভিন্ন ব্যক্তির টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি যেমন—টেলিফোন, মোবাইল ইত্যাদি ব্যবহার করে সভা কার্যক্রম পরিচালনা করার কৌশল হলো টেলিকনফারেন্সিং। টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থায় কোনো সভায় অনুমোদিত সবাইকে সশরীরে উপস্থিত না থেকেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে উক্ত সভায় অংশগ্রহণ করতে পারে। উদ্দীপকে সাকিব বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত তাঁর অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একসঙ্গে কথা বলে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অর্থাৎ সভা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাই বলা যায়, সাকিব সাহেব টেলিকনফারেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।

এ ক্ষেত্রে দুটি প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য হলো— টেলিকনফারেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা একে অপরকে দেখতে পারে না। অপরপক্ষে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা একে অপরকে দেখতে পারে।

 

৩। শাহাদাত কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ নেয়। বিদেশে যাওয়ার লক্ষ্যে সে ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করে। তথ্যকেন্দ্রে থেকেই সে তার যাবতীয় তথ্য, ছবি ইত্যাদি প্রেরণ করে। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির খবর এসব তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সহজেই পেয়ে যায় এবং এভাবে সে একদিন মালয়েশিয়ার একটি কলসেন্টারে চাকরি পেয়ে যায়। তার পাঠানো অর্থেই বাড়িতে এ বছর পাকা ঘর উঠেছে। বন্ধকি জমি ছাড়িয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া শাহাদাতের ছোট ভাই এবার বিএ পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করছে।

গ. উদ্দীপকে বিশ্বগ্রামের কোন অবদানটি প্রতিফলিত হয়েছে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : বিশ্বগ্রামের অনেক অবদানের মধ্যে কর্মসংস্থান অন্যতম। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কল্যাণে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। এসব কর্মক্ষেত্রের খবরাখবর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষ জানতে পারে। শাহাদাত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত চাকরির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরি পায়। বিশ্বগ্রাম ব্যবস্থার কারণে তথ্যের অবাধ আদান-প্রদান হয়, এতে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। ওই কর্মক্ষেত্রের একটিতে শাহাদাত নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করে। এভাবে উদ্দীপকে বিশ্বগ্রামের কর্মসংস্থান অবদানটি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

ঘ. শাহাদাতের বর্তমান অবস্থার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে—তুমি কি একমত? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে। শাহাদাতের প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং তা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পেছনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় সুবিধা ব্যবহার করে দেশের বাইরে যোগাযোগ করে এবং কলসেন্টারে চাকরির আবেদন ও চূড়ান্তভাবে চাকরিপ্রাপ্তির প্রতিটি পর্যায়ে শাহাদাতকে ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করতে হয়েছে। এভাবে ব্যক্তিজীবনে তথা সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার অনস্বীকার্য। তাই শাহাদাতের বর্তমান অবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

৪। মকবুল অনার্স পাস করার পর চাকরি না পেয়ে হতাশ। এমন সময় তাঁর এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলেন, অনলাইনের মাধ্যমে অর্থ আয় করা যায়। তখন মকবুল ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ভিডিও টিউটরিয়াল দেখে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হন।

 

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মকবুল যে পদ্ধতিতে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখেন, তার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ঘরে বসে শিক্ষা গ্রহণ বা দেশি-বিদেশি ডিগ্রি লাভ করাকেই বলা হয় দূরশিখন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষাবিস্তারে একটি শক্তিশালী টুলস। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিস্তারের ফলে, শিক্ষা গ্রহণের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে গ্রাম থেকে শহরে কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হয় না—অর্থাৎ ঘরে বসেই শিক্ষা গ্রহণ বা দেশি-বিদেশি ডিগ্রি লাভ করা যায়। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই শিক্ষা গ্রহণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। অনলাইনেই পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে যাচাই করতে পারে; এমনকি ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের যেতে হয় না নির্দিষ্ট গন্তব্যে। উদ্দীপকে উল্লিখিত মকবুল ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ভিডিও টিউটরিয়াল দেখে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখেন। অর্থাৎ এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়। তাই বলা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে দূরশিখনের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মকবুলের অর্থ আয় করার পদ্ধতিটি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে—সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর : কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি না করে, স্বাধীনভাবে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং। বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে বসে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা যায়। যদি কোনো ব্যক্তির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা থাকে তাহলে খুব সহজেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আয় করতে পারেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত মকবুল ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আয় করেন। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তাই বলা যায়, মকবুলের অর্থ আয় করার পদ্ধতিটি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা