kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

এসএসসি ২০২০

দুটি ভাবসম্প্রসারণ

শরীফুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা), আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুটি ভাবসম্প্রসারণ

দণ্ডিতের সাথে

দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান

আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার

 

ন্যায়বিচারে বিচারককে থাকতে হয় নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষ বিচারে দণ্ডিতের জন্য তাঁর সহানুভূতি থাকলেও তা তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না।

আইনের চোখে সবাই সমান। তাই আইনের শাসন প্রয়োগকারী বা বিচারককে থাকতে হয় সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে গিয়ে বিচারককে হতে হয় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। কখনো কখনো দণ্ডিতের সঙ্গে সম্পর্ক, দণ্ডপ্রাপ্তের বয়স প্রভৃতি বিচারককে মানসিক দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে। কিন্তু সত্যাশ্রয়ী বিচারক মানসিকভাবে যতই বিপর্যস্ত এবং আবেগে যতই উদ্বেলিত হন না কেন, তিনি অন্যায়কারীর প্রাপ্য শাস্তিই বিধান করেন। কেননা সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও মানুষের অধিকার সংরক্ষণে তাঁর দায়িত্ব অপরিসীম। উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে সমাজের খারাপ লোকেরা বাধ্য হয়েই সংযত জীবনযাপন করে। পক্ষান্তরে সামাজিক প্রতিপত্তি বা ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ আশীর্বাদে যদি কোনো অপরাধীর বিচার বা শাস্তি না হয়, তাহলে সমাজে অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সে জন্য দায়িত্বশীল বিচারক আবেগতাড়িত হন না। তিনি চালিত হন ন্যায় ও আইনের দ্বারা। হজরত ওমর (রা.)-এর পুত্র আবু শাহমার বিরুদ্ধে মদ্যপান ও ব্যভিচারের অভিযোগ ওঠে। হজরত ওমর (রা.) নিজে পুত্রের শাস্তি বিধান করেন। নিজ হাতে বেত্রদণ্ড প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি পুত্রের প্রাণসংহার করেন। প্রিয় পুত্রের অকালমৃত্যুতে তাঁর হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল সত্য; কিন্তু পুত্রস্নেহ তাঁকে ন্যায়বিচার থেকে বিরত রাখতে পারেনি। অপরদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত হতে পারে; কিন্তু বিচারকের আন্তরিক সহানুভূতি ও অনুসন্ধান থেকে যেন সে বঞ্চিত না হয়, সে দিকটি বিচারককে খেয়াল রাখতে হয়। বিচারককে ভাবতে হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি একজন মানুষ, কারো পুত্র-কন্যা, কারো আপনজন। একজন মানুষ হিসেবে তার দুর্ভাগ্যে বিচারক যদি মর্মাহত হন, তাহলে সেটি একান্ত মানবিক। বিচার হিসেবেও সেটি শ্রেষ্ঠ।

ন্যায়বিচারে আবেগ ও সহানুভূতির কোনো স্থান নেই। বিচারকের হাত-পা আইনের অদৃশ্য সুতায় বাঁধা।

মিথ্যা শুনিনি ভাই

এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির কাবা নাই

 

সব উপাসনালয় থেকে শ্রেষ্ঠ মানুষের হৃদয় বা মন। কেননা পবিত্র হৃদয়েই অবস্থান করেন স্রষ্টা।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কারণ মানুষকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ বিবেক-বিবেচনা ও বুদ্ধি সহকারে অপর সব জীব অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ করে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ অন্য প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আর সে জন্য মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পুণ্য বিচার করে জীবন পরিচালনা করতে হয়। সব পাপ-পুণ্য, ভালো-মন্দ, ধর্ম-অধর্মের পার্থক্য নির্ধারণে মানুষকে পরিচালিত করে তার মন। এই মন বা হৃদয় দ্বারা পরিচালিত হয়ে মানুষ সৎ কাজ করে এবং মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন করে। মানুষ সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়নিষ্ঠা, দয়া প্রভৃতি সৎ গুণাবলির মাধ্যমেই কল্যাণের পথে বা মঙ্গলের পথে পরিচালিত হয়। অপরের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার যে প্রবণতা মানুষের মধ্যে জাগ্রত হয় তার উৎসস্থল হচ্ছে মন বা হৃদয়। স্রষ্টার আরাধনা করার পবিত্র ও উত্কৃষ্ট স্থান মসজিদ-মন্দিরে দিন-রাত অবস্থান করে প্রার্থনা করার তাৎপর্য এই যে, সুন্দর মোহমুক্ত পবিত্র পরিবেশে হৃদয়কে ষড়রিপুর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা এবং আল্লাহর নির্ধারিত পথে চলে তাঁর গুণকীর্তন করা। সুতরাং এ হৃদয়ই সব উপাসনালয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। হৃদয় কলুষিত করে দিন-রাত ভর উপাসনা করলেও কোনো ফল হবে না। কাজেই সব উপাসনালয় থেকেই শ্রেষ্ঠ হলো মানুষের হৃদয়। মানুষের নির্মল হৃদয়ই শ্রেষ্ঠ ইবাদতখানা। কলুষমুক্ত হৃদয় মানুষকে ন্যায়ের পথে, সত্যের পথে, ধর্মের পথে পরিচালিত করে মসজিদ-মন্দিরের উপাসনাকে সার্থক করে তোলে।

বহু অর্থ ব্যয়ে সুশোভিত অট্টালিকায় নির্মিত মন্দির বা মসজিদ অপেক্ষা নিষ্কলুষ হৃদয় বা নির্মল হৃদয়ের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা