kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

এসএসসি ২০২০ ♦ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : আমার শিক্ষায় ইন্টারনেট

ফাহাদ ইবনে হাই, প্রভাষক, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



এসএসসি ২০২০ ♦ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি  : আমার শিক্ষায় ইন্টারনেট

আইসিটি বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। এ অধ্যায় পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা যা জানতে পারবে—

 

১।        ডিজিটাল কনটেন্টের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।

২।        শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারবে।

৩।        পাঠ্য বিষয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পারবে।

৪।        ক্যারিয়ার উন্নয়নে আইসিটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারবে।

৫।        ইন্টারনেট ব্যবহার করে পাঠসংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারবে।

 

ডিজিটাল কনটেন্ট

১।        কোনো কনটেন্ট যদি ডিজিটাল উপাত্ত আকারে বিরাজ করে প্রকাশিত হয় কিংবা প্রেরিত-গৃহীত হয়, তাহলে সেটিই ডিজিটাল কনটেন্ট।

২।        লিখিত তথ্য, ছবি, শব্দ কিংবা ভিডিও ডিজিটাল কনটেন্ট হতে পারে।

৩।        ডিজিটাল কনটেন্ট প্রধান চারটি ভাগে ভাগ করা যায়—

ক.        টেক্সট লিখিত কনটেন্ট খ. ছবি গ. শব্দ বা অডিও এবং ঘ. ভিডিও ও এনিমেশন।

৪।        সব ধরনের লিখিত কনটেন্ট যেমন—নিবন্ধ, ব্লগ পোস্ট, পণ্য বা সেবার তালিকা ও বর্ণনা, পণ্যের মূল্যায়ন, ই-বুক সংবাদপত্র, শ্বেতপত্র ইত্যাদি টেক্সট বা লিখিত কনটেন্ট।

৫।        সব ধরনের ছবি, ক্যামেরায় তোলা বা হাতে আঁকা বা কম্পিউটার সৃষ্ট সব ধরনের ছবি যেমন—ফটো, হাতে আঁকা ছবি, অঙ্কনকরণ, কার্টুন, ইনফো গ্রাফিকস, এনিমেটেড ইত্যাদি ছবি জাতীয় কনটেন্ট।

৬।       যেকোনো বিষয়ের অডিও ফাইলই অডিও কনটেন্টের পাশাপাশি ইন্টারনেটে প্রচারিত ব্রডকাস্ট অডিও কনটেন্টের অন্তর্ভুক্ত।

৭।        ইন্টারনেটে কোনো ঘটনার ভিডিও সরাসরি প্রচারিত হয়ে থাকে। এটিকে বলা হয় ভিডিও স্ট্রিমিং।

ই-বুক : ১। ই-বুক বা ইলেকট্রনিক বুক বা ই-বই হলো মুদ্রিত বইয়ের        ইলেকট্রনিক রূপ।

২।        প্রচলিত ই-বুক রিডারের মধ্যে অ্যামাজন ডটকমের (amazon.com) কিন্ডল (Kindle) সবচেয়ে জনপ্রিয়।

 

ই-বুক ব্যবহারের সুবিধা

১।        ই-বুক ডাউনলোডের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া সম্ভব।

২।        ই-বুক সংরক্ষণের জন্য লাইব্রেরি বা কক্ষের প্রয়োজন নেই, কম্পিউটার বা রিডিং ডিভাইসে ই-বুক সহজে সংরক্ষণ করা যায়।

৩।        ই-বুক সহজে স্থানান্তরযোগ্য।

৪।        ই-বুকে তথ্য অনুসন্ধান সহজতর।

৫।        ই-বুক ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় বলে কোন ধরনের শিপিং বা প্যাকিং খরচ নেই।

৬।       ই-বুক সহজে বিতরণ ও বিক্রয়যোগ্য।

৭।        ই-বুক মুদ্রণযোগ্য বলে চাহিদা অনুযায়ী প্রিন্ট করা সম্ভব, ফলে আর্থিক সাশ্রয় হয়।

 

বিভিন্ন প্রকার ই-বুক

১।        ই-বুককে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়।

২।        PDF-এর পূর্ণরূপ হলো—Portable Document Format.

৩।        যে ই-বুকগুলো শুধু অনলাইনে তথা ইন্টারনেটে পড়া যায়, এগুলো সচরাচর HTML-এ প্রকাশিত হয়। এগুলোকে বইয়ের ওয়েবসাইট বলা যায়।

৪।        ই-পাব (EPUB) ফরম্যাটে প্রকাশিত ই-বুকে বইয়ের কনটেন্ট ছাড়াও পাঠকের নিজের নোট লেখা, শব্দের অর্থ জানা ইত্যাদি সুবিধা থাকে।

৫।        চৌকস ই-বুক বা বইগুলোতে লিখিত অংশ ছাড়াও অডিও, ভিডিও, এনিমেশন ইত্যাদি সংযুক্ত থাকে।

৬।       ই-বুকের অ্যাপস। এ ক্ষেত্রে ই-বুকটি নিজেই একটি অ্যাপস আকারে প্রকাশিত হয়। অ্যাপস ডাউনলোড করে কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে পড়া যায়। মুদ্রিত বইয়ের মতো ই-বুকও কপিরাইটের আওতায় প্রকাশিত হয়ে থাকে।

 

চৌকস ই-বুক

১।        চৌকস ই-বুকের কনটেন্ট মাল্টিমিডিয়াসমৃদ্ধ। এতে কুইজ থাকে। কুইজের উত্তর করার ব্যবস্থাও থাকে এবং উত্তর সঠিক হয়েছে কি না তা-ও ই-বুক থেকে জানা যায়।

২।        চৌকস ই-বুকে ত্রিমাত্রিক ছবি যুক্ত থাকে।

৩।        ওপেন কম্পিউটার্সের তৈরি আইবুক শুধু আইপ্যাড বা ম্যাক কম্পিউটারে ভালোভাবে পড়া যায়।

 

শিক্ষায় ইন্টারনেট

১।        ইন্টারনেট থেকে কোনো কিছু খুঁজে বের করে নিতে হলে দক্ষ সার্চ ইঞ্জিনের প্রয়োজন।

২।        সার্চ ইঞ্জিনগুলো ব্যবহার করার জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।

৩।        জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে তোমাদের জন্য সব বই প্রকাশ করা হয় এবং বিনা মূল্যে তোমাদের হাতে পৌঁঁছে দেওয়া হয়।

 

ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে আইসিটি

১।        তথ্য-প্রযুক্তির প্রধান উপকরণটি হচ্ছে কম্পিউটার

২।        কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, অফিস অটোমেশন সিস্টেম ডিজাইন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মোবাইল কমিউনিকেশন, ডাটা কমিউনিকেশন এমন হাজারটি ক্যারিয়ার প্রযুক্তির ফলে সৃষ্টি হয়েছে।

৩।        স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপস প্রগ্রামিংয়ের মাধ্যমেই করা।

৪।        রান্না থেকে স্যাটেলাইট পরিচালনা পর্যন্ত সব কিছুই মানুষের হাতের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে। এর সব কিছুই পরিচালিত হবে কম্পিউটার প্রগ্রামিংয়ের মাধ্যমে।

৫।        বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সাইটে আমাদের দেশের ভালো প্রগ্রামাররা দেশে বসেই গুগল, মাইক্রোসফট, ইন্টেল, ফেসবুক কম্পানিতে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

৬।       ফ্রিল্যান্সের কাজ করার জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা থাকলেই চলে।

৭।        তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ লোকের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পরবর্তী দুই-তিন বছরের মধ্যে এর চাহিদা দ্বিগুণ হবে বলে অনেকেই মনে করেছেন।

 

চতুর্থ অধ্যায় : আমার লেখালেখি ও হিসাব

১।        লেখালেখির জন্য রয়েছে ওয়ার্ড প্রসেসর আর হিসাবের জন্য রয়েছে স্প্রেডশিট অ্যানালিসিস সফটওয়্যার।

২।        মাইক্রোসফট অফিস হলো পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার।

৩।        ওয়ার্ড প্রসেসরে কাজ করতে গিয়ে আমরা অনেক সুবিধা পেয়ে থাকি। যেমন—

ক.        নির্ভুলভাবে লেখালেখির কাজ করা যায় এবং ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া।

খ.         সম্পাদনার সুযোগ থাকায় লেখার কাজ নান্দনিকভাবে করা যায়।

গ.        পুরো লেখা প্রথম থেকে শুরু না করে নতুন লেখা প্রবেশ করানো, লেখা মুছে ফেলা বা লেখাকে পুনর্বিন্যাস করার সুযোগ পাওয়া যায়।

ঘ.         ছবি, গ্রাফ, টেবিল চার্ট ইত্যাদি সংযোজন করে ডকুমেন্ট আরো আকর্ষণীয় করা যায়।

ঙ.        দরকারি তথ্য এক ডকুমেন্ট থেকে অন্য ডকুমেন্ট কপি করা যায়।

চ.         একই সঙ্গে একাধিক ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ করা যায়।

ছ.         ফাইন্ড রিপ্লেস কমান্ড ব্যবহার করে বড় কোনো ডকুমেন্ট অল্প সময়ে শব্দ খোঁজা যায় এবং প্রতিস্থাপন করা যায়।

জ.        যখন কোনো ডকুমেন্ট বারবার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তখন সেটিকে টেমপ্লেট আকারে সংরক্ষণ করে রাখা, যাতে সময় সাশ্রয় হয়।

ঝ.        বড় আকারের ডকুমেন্টে যেমন—গবেষণাপত্রে বিষয়বস্তুর সারণি, রেফারেন্স ছবির তালিকা, গ্রন্থপঞ্জি ইত্যাদি অনেক কাজ খুবই স্বল্প সময়ে সম্পাদন করা যায়।

ঞ.       বানান দেখার সফটওয়্যার বা স্পেল চেকারের সাহায্যে সহজেই বানান সংশোধন করা; স্বয়ংক্রিয়ভাবে বানান সংশোধনের ব্যবস্থাও ওয়ার্ড প্রসেসরে রয়েছে।

ট.         ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করে তা যেকোনো সময়, যতবার ইচ্ছা ততবার প্রিন্ট করার সুবিধা রয়েছে।

ঠ.         ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় ডকুমেন্ট প্রেরণ করা যায়।

ড.        কাগজের নথি বা ফাইলের পরিবর্তে প্রসেসরে তৈরি ফাইল খুব সহজেই সংরক্ষণ করা যায়।

ঢ.         ফাইলের ব্যবস্থাপনা সহজ, যা আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনায় অপরিহার্য।

৪।        মাইক্রোসফট অফিস হলো পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার।

৫।        ওয়ার্ড প্রসেসরে লেখালেখি করার জন্য বিভিন্ন স্টাইলের অক্ষর রয়েছে। এগুলোকে বলা হয় ফন্ট।

৬।       অনেক সময় বিভিন্ন রকমের তালিকা করে থাকি। এসব তালিকার ধারাবাহিকতা রাখার জন্য কোনো চিহ্ন, বর্ণ বা সংখ্যা ব্যবহার করে থাকি। এগুলোকে ওয়ার্ড প্রসেসরের ভাষায় বুলেট ও নম্বর বলা হয়।

৭।        হোম ট্যাবের প্যারাগ্রাফ গ্রুপে বুলেট ও নম্বরের আইকন কমান্ড পাওয়া যায়।

৮।        ডকুমেন্টে টেবিল, ছবি, ক্লিপ আর্ট, বিভিন্ন আকার-আকৃতি, চার্ট টেক্সট বক্স, ওয়ার্ড আর্ট যোগ করতে রিবনের ইনসার্ট ট্যাব ব্যবহার করতে হয়।

৯।        স্প্রেডশিট বিশ্লেষণের বৈশিষ্ট্যগুলো—

ক.        বিভিন্ন রকমের সংখ্যা বা অক্ষরভিত্তিক উপাত্ত নিয়ে কাজ করা যায়।

খ.         যেকোনো ধরনের হিসাবের জন্য সুবিধাজনক।

গ.        কলাম ও সারি থাকার কারণে উপাত্ত শ্রেণীকরণ সহজ।

ঘ.         সূত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকায় বেশি উপাত্ত নিয়ে কাজ করা যায়।

ঙ.        বিভিন্ন ফাংশন সূত্রাকারে ব্যবহার করে সহজে উপাত্ত বিশ্লেষণ করা যায়।

চ.         আকর্ষণীয় গ্রাফ, চার্ট ব্যবহার করে উপাত্ত উপস্থাপন করা যায়।

১০।      স্প্রেডশিটের কিছু ব্যবহার উল্লেখ করা হলো :

ক.        শিক্ষাক্ষেত্রে ফলাফল বিশ্লেষণে

খ.         আয়-ব্যয় হিসাবে

গ.        বাজেট তৈরিতে

ঘ.         কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসংক্রান্ত হিসাবে

ঙ.        এয়ারলাইনস রিজার্ভেশনে

চ.         আয়কর হিসাব ও বিশ্লেষণে

ছ.         নির্বাচনের ভোট গণনায়

জ.        খেলোয়াড়ের প্রদর্শিত ক্রীড়াকৌশল মূল্যায়নে।

১১। ভাগ করার ক্ষেত্রে A1 সেলকে B1 সেল দিয়ে ভাগ করার জন্য ফলাফল সেলে = A1/B1 সূত্র লিখতে হয়। এ ক্ষেত্রে / চিহ্নটি ভাগ চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা