kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

এসএসসি ২০২০

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

ব্যাংকের ধারণা

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে দ্বাদশ অধ্যায়ে ব্যাংক নিয়ে আলোচনা আছে।

ছোটবেলায় মাটির ব্যাংক অনেকে কিনেছে, তাতে টাকা জমিয়ে রাখতে আবার একটা সময় কোনো খেলনা কিনতে গিয়ে ব্যাংক ভেঙে টাকা নিতে। অর্থাৎ তোমার টাকা জমিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনে টাকা ব্যবহার করার জন্যই ব্যাংকে টাকা-পয়সা জমাতে। আরেকটু বড় করে বললে, ব্যাংক হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে মানুষের টাকা জমা রাখা হয় এবং প্রয়োজনে তোলা যায় কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করা যায়। ধরো, তোমার বাবা চাকরি করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পান। তোমার পরিবারের ভরণপোষণ, পড়াশোনাসহ ব্যয় হয় ৩৫ হাজার টাকা। বাকি পাঁচ হাজার টাকা রয়ে যায়। সে টাকা ব্যাংকে জমা রাখতে পারবে এবং সুদ লাভ করা যাবে। আবার তুমি বড় হয়ে উদ্যোগতা হতে চাও কিংবা ব্যবসা করতে চাও। মূলধন প্রয়োজন। হাতে অত টাকা নেই। ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদে টাকা ঋণ নিতে পারবে। ব্যাংকে সঞ্চয় করা অর্থের ওপর ব্যাংক যে সুদ দেয়, তা ঋণগ্রহীতা থেকে ব্যাংক যে সুদ নেয় তার থেকে কম। সুদের হারের এই কমবেশিই ব্যাংকের মুনাফা। উদ্দেশ্য ও কাজের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক : প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নিজের দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকিং পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের মুদ্রা প্রচলন, সুদের হার নিয়ন্ত্রণের কাজ করে থাকে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশি কাগজি মুদ্রার প্রচলনের অধিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই আছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংক : তুমি মা-বাবার সঙ্গে কখনো ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে থাকতে পারো বা চেক দিয়ে টাকা তুলেছ। কিংবা তোমার বাবা অমুক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। সেগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। এখন অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংকে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। তুমি চাইলে নিজের একটি অ্যাকাউন্টও খুলে নিতে পারবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো এমন এক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা জনগণের আমানত জমা রাখে এবং ঋণ প্রদান করে। বর্তমানে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা আধুনিক হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকে এটিএম, টাকা জমা, উত্তোলন, ঋণসুবিধা, ডেভিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, এসএমএস ব্যাংকিংসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ইত্যাদি বাণিজ্যিক ব্যাংকের উদাহরণ।

বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান : বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের জন্য এসব ব্যাংক যেমন—কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ রকম ব্যাংককে বলা হয় বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এ রকম বেশ কিছু ব্যাংক বা বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে।

 

কিছু প্রশ্ন :

ব্যাংক কী?

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলতে কী বোঝো?

বাণিজ্যিক ব্যাংক বলতে কী বোঝো? উদাহরণগুলো থেকে এমসিকিউ প্রশ্ন আসতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।

ব্যাংকের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা করো।

আগামী সংখ্যায় আমরা ব্যাংকের আমানত নিয়ে আলোচনা করব।

 

            গ্রন্থনা : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা