kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

এসএসসি ২০২০

অভিভাবকদের বলছি

তাসনুভা হক মনোসামাজিক কাউন্সেলর ও প্রভাষক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিভাবকদের বলছি

আপনিই যে আপনার সন্তান বা কাছের মানুষটির ভালো কিছু হবে বলে ভাবছেন বা তাকে উৎসাহিত করছেন, সে জন্য আপনাকে অভিনন্দন। একজন ছাত্র (যেকোনো বয়সেরই হোক না কেন) পড়াশোনা নিয়ে মানসিকভাবে কেমন থাকবে তা অনেকটা মা-বাবা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রত্যাশা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিক্রিয়ার ধরনের ওপরে নির্ভরশীল। অভিভাবক হিসেবে আপনার আচরণে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কখনো কখনো তিরস্কার বা সমালোচনাও প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রে আপনার উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই, তবে সাহায্য করার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কিছু সচেতনতা হয়তো শিক্ষার্থীকে আরো ভালো করতে সাহায্য করবে। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো একজন শিশু বা ছাত্রের সঙ্গে আচরণের সময় অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন।

পড়াশোনা বা পরীক্ষার ফলাফলকে সন্তানের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের মাঝে নিয়ে আসবেন না। শিক্ষাজীবনে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার, সব সময় এর ধারাবাহিকতা থাকে না, তবে এর জন্য আপনার সম্পর্কে চিড় ধরলে, তা ঠিক করা অনেক কঠিন এবং প্রভাবটাও অনেক বেশি।

আপনার সন্তানটিকে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখুন। তার সব বৈশিষ্ট্যই অনন্য ও বিশেষ। তার সম্ভাবনাগুলোও যেমন অনন্য, তেমনি এমন অনেক কিছু থাকতে পারে, যা অন্যরা পারে; সে পারে না। এটা খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। তাই তাকে অন্যের সঙ্গে কখনো তুলনা করবেন না। আমরা অনেক সময় বলে ফেলি, ‘তোমার বন্ধু পারছে, তুমি পারছ না কেন’ এই তুলনাটা কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না; বরং কষ্টের কারণ হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে মনে হতে পারে কাজ হয়, তবে দীর্ঘস্থায়ীভাবে তা ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

সন্তানের সঙ্গে নেতিবাচক দিক নয়; বরং ইতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করুন, উৎসাহ দিন, বলুন ‘আমি জানি তুমি পারবে’, ‘আমি তোমাকে ভরসা করি, বিশ্বাস করি’, ‘তুমি দায়িত্বশীল’। যখন তাকে আপনি দায়িত্ব দিয়ে দেবেন, সে তা পালনে উদ্যোগী হবে। অন্যদের সঙ্গে সন্তানের গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করুন সন্তানের সামনেই, নেতিবাচক দিক নয়।

নিজের যত্ন নিন। আপনি ভালো থাকলে সন্তানের যত্নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটিও সহজভাবে করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ওপরে উল্লিখিত ব্যায়ামগুলো আপনি নিজেও করতে পারেন।

আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটি কেমন তা সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই সম্পর্কের সুস্থতা সন্তানকে চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।

 

          ► শ্রুতলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা