kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

সপ্তম শ্রেণি

প্রবীণ ব্যক্তি ও নারী অধিকার

মো. শামীম হাওলাদার সহকারী শিক্ষক, শহীদ আরজু মনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশাল

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দশম অধ্যায় ‘বাংলাদেশের প্রবীণ ব্যক্তি ও নারী অধিকার’ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি।

১. রেজা সাহেবের বয়স ৭০ বছর। তিনি কোমরের ব্যথার কারণে চলাফেরা করতে পারেন না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে দেশ ছেড়ে আমেরিকায় প্রবাসী ছেলের কাছে আশ্রয় নেন। কয়েক বছর পর ওই দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে তাঁর ছেলের পক্ষে মা-বাবার খরচ বহন কষ্টকর হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে তিনি গ্রিনকার্ড পেয়ে যান। তাতে ছেলের বাসা ছেড়ে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা বাসায় ওঠেন এবং সরকার তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগান দেয়।

ক) প্রবীণ কারা?

খ) প্রবীণদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ) রেজা সাহেব তাঁর সন্তানদের বাসায় অবস্থানের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সমস্যায় পড়েন? পাঠ্য বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

ঘ) রেজা সাহেবের মতো প্রবীণদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার গুরুত্ব অপরিসীম—বক্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) আমাদের দেশে সাধারণত ষাটোর্ধ্ব বয়সের মানুষকে প্রবীণ গণ্য করা হয়।

উত্তর : খ) প্রবীণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার জন্য তাঁদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবীণরা সাধারণত ষাটোর্ধ্ব বয়সের হয়ে থাকেন। তাঁরা তাঁদের কর্মজীবনে অভিজ্ঞতা ও নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতা দিয়ে মোকাবেলা করেন এবং সফল হন। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় তাঁদের মতামত খুব কার্যকর হয়ে থাকে। পরিবারের নানা বিষয় যেমন—কারো বিয়ে, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ কিংবা অর্থনৈতিক বিষয়ে তাঁদের মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দারুণ সহায়ক।

উত্তর : গ) রেজা সাহেব তাঁর সন্তানদের বাসায় অবস্থান করার ক্ষেত্রে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক উভয় সমস্যায় সম্মুখীন হন।

রেজা সাহেব একজন প্রবীণ ব্যক্তি। এ সময়ে তিনি নানা সমস্যা অনুভব করতে শুরু করেন। যেমন—পারিবারিক, অর্থনৈতিক, শারীরিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক। যেমনটি হয়েছে রেজা সাহেবের ক্ষেত্রে, তিনি কোমরের ব্যথায় চলাফেরা করতে পারেন না। তাঁকে পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে ছেলে-মেয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রবাসী ছেলের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে দুটি বিষয় কাজ করেছে; একটি হচ্ছে অর্থনৈতিক সমস্যা এবং অন্যটি পারিবারিক নির্ভরশীলতা। এ বয়সে তাঁর আয়ের উৎস না থাকায় অর্থনৈতিকভাবে ছেলের ওপর নির্ভর করেছেন; কিন্তু আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ছেলের পক্ষেও মা-বাবার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাও অনুভব করেন।

তাই পাঠ্য বইয়ের আলোকে বলা যায়, প্রবীণদের সমস্যা শুধু একটি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে নানা বিষয়ে জড়িয়ে পড়ে। এটাই ঘটেছে রেজা সাহেবের ক্ষেত্রে।

উত্তর : ঘ) ‘রেজা সাহেবের মতো প্রবীণদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার গুরুত্ব অপরিসীম’—বক্তব্যের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।

একজন প্রবীণ যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী থাকেন, তবে তাঁর সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সরকারিভাবে অবসর ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ নারীদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম প্রবীণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেছে। কিন্তু যদি ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়, তবে তা আরো উপকারে আসবে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে প্রবীণ বয়সে সঠিক চিকিৎসাসেবা পাওয়াও সবার জন্য সহজ নয়। উদ্দীপকে যেমন আমেরিকান সরকার প্রবীণদের চিকিৎসার খরচ বহন করছে, তেমনি বাংলাদেশেও যদি এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা প্রবীণদের বেশ উপকারে আসবে।

রাষ্ট্র একটি দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি। তাই প্রবীণদের সমস্যা সমাধানে ব্যক্তি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যতটা কার্যকর, তারচেয়েও অধিক কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। প্রবীণদের সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্র যতটা সহজে নিশ্চিত করতে পারে, তা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তাই রেজা সাহেবের মতো প্রবীণদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার গুরুত্ব অপরিসীম।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা