kalerkantho

সোমবার । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৫  মে ২০২০। ১ শাওয়াল ১৪৪১

এসএসসি ২০২০

বাংলায় ভালো করা চাই?

আল ইমরান কবির, প্রভাষক শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, ঢাকা

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিশ্চয়ই তোমাদের মাথায় এখন ভীষণ চাপ। কী রেখে কী পড়বে বুঝতে পারছ না। এই শেষ সময়ে এসে ভয় না পেয়ে নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে যাও। আজ বাংলায় কিভাবে ভালো ফলাফল করা যায় তা নিয়ে কিছু কথা বলছি

 

বাংলা মাতৃভাষা। এ জন্য বিষয়টিকে আমরা ততটা গুরুত্ব দিয়ে পড়তে চাই না। ফলে মাতৃভাষা হওয়া সত্ত্বেও বাংলা বিষয়ে অনেকেই ভালো ফলাফল করতে পারি না। বাংলায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য হাতের লেখা সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়। খাতার মধ্যে অযথা কাটাকাটি করবে না। কোনো বিষয় বা শব্দ ভুল লিখতেই পারো। ভুল বোঝার পর একটানে ভুল শব্দটি কেটে দেবে। এরপর শুদ্ধ শব্দটি লিখবে।

তোমাদের সাতটি সৃজনশীল প্রশ্ন লিখতে হয়। সঠিকভাবে সাতটি সৃজনশীল প্রশ্ন লিখতে হলে সময়ের সঠিক ব্যবহার করা জরুরি। সাতটি সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার জন্য তোমরা সময় পাও ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। অর্থাৎ ১৫০ মিনিট। তোমাদের একটি স্বাভাবিক জিজ্ঞাসা কি জানো? একটি সৃজনশীল প্রশ্ন কত পৃষ্ঠা লিখতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ নয়। কারণ কারো হাতের লেখা বড় আবার কারো হাতের লেখা ছোট। এখন সবাইকে চার পৃষ্ঠা করে লেখার কথা বলা হলো। এবার তোমরাই বলো, এমন লিখলে সবাই কি সমান নম্বর পাবে? প্রতিটি প্রশ্ন কত পৃষ্ঠা লিখবে, এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কিন্তু প্রতিটি প্রশ্ন কত মিনিট লিখবে, এ উত্তর দেওয়া সহজ।

লক্ষ করো, পূর্বে বলেছি ৭টি সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার জন্য তোমরা সময় পাবে ১৫০ মিনিট। আর ৭টি সৃজনশীলের মোট নম্বর ৭০। তাহলে প্রত্যেকটি ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তোমরা সময় পাবে ২ মিনিটের কিছু বেশি। তাহলে ‘ক’ অর্থাৎ জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরের জন্য সময় পাবে ২ মিনিট। ‘খ’ অর্থাৎ অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরের জন্য সময় পাবে ৪ মিনিট। ‘গ’ অর্থাৎ ‘প্রয়োগমূলক’ প্রশ্নের উত্তরের জন্য সময় পাবে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মিনিট। আর ‘ঘ’ অর্থাৎ ‘উচ্চতর দক্ষতা’ প্রশ্নের উত্তরের জন্য সময় পাবে ৮ থেকে সাড়ে ৮ মিনিট। তাহলে দেখা যাচ্ছে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন লিখতে সময় লাগছে ২০ থেকে ২১ মিনিট। তবে তোমরা ২০ মিনিটের মধ্যেই একেকটি প্রশ্নের উত্তর লেখার চেষ্টা করবে।

তাহলে ৭টি প্রশ্ন লিখতে সময় লাগছে ১৪০ মিনিট। ১৫০ মিনিটের পরীক্ষায় বাকি যে ১০ মিনিট থাকে সেটি সৃজনশীল প্রশ্ন পড়া এবং উত্তরপত্র রিভিশনের কাজে লাগাবে। আশা করি, তোমরা আর কখনো ‘কত পৃষ্ঠা লিখতে হবে স্যার?’ এমন প্রশ্ন করবে না।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবে। উত্তরপত্রের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তরগুলোর মান যেন একই হয়। অনেক সময় দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থী প্রথম ৪টি প্রশ্ন বেশি সময় নিয়ে খুব ভালো লিখেছে। এর পরের ৩টি প্রশ্ন লেখার জন্য সঠিক সময় পায়নি। ফলে যাচ্ছেতাই ভাবে ৩টি প্রশ্ন শেষ করেছে। পরীক্ষার খাতা হাতে পাওয়ার পর দেখা যায় প্রথম ৪টি প্রশ্নে ওই শিক্ষার্থী ৮ করে পেয়েছে। আর শেষের তিনটি খারাপ লেখার জন্য ৪ করে পেয়েছে। তাহলে ৭০ নম্বরের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর হবে ৪৪।

অন্যদিকে আরেকজন শিক্ষার্থী ৭টি প্রশ্নই মাঝারি মানের লিখেছে। আর প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তরে ৭ করে পেয়েছে। তাহলে পরের শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর হবে ৪৯, যা প্রথম শিক্ষার্থীর থেকে ৫ নম্বর বেশি। তাই তোমরা সব সময় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নগুলোর সমানভাবে উত্তর লিখবে। আর পূর্বে উল্লিখিত সময় ধরে প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর লিখলে এমন সমস্যার সম্মুখীনই হতে হবে না।

এবার সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার বিষয়ে কথা বলা যাক। সৃজনশীল প্রশ্নের ‘ক’ নম্বর প্রশ্ন হলো জ্ঞানমূলক প্রশ্ন। তোমরা অনেকেই জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরে শুধু একটি শব্দ দিয়েই উত্তর লিখে থাকো। তোমাদের জন্য পরামর্শ হলো, এমনটি আর করবে না। একটি পরিপূর্ণ বাক্যে জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর লিখবে। ‘খ’ নম্বর প্রশ্ন হলো—অনুধাবনমূলক প্রশ্ন। এই প্রশ্নের বেশির ভাগ সময়ই একটি জ্ঞানমূলক উত্তর থাকে। এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এক বাক্যে প্রশ্নে কী জানতে চেয়েছে বা কী বোঝাতে চেয়েছে তার উত্তর লিখবে। এরপর একটি প্যারা করে ৫ থেকে ৬টি বাক্যে বিস্তারিত উত্তর লিখবে।

‘গ’ ও ‘ঘ’ নম্বর প্রশ্ন হলো প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা। এ প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখবে। প্রথমত, উদ্দীপকটি ভালোভাবে পড়বে। এরপর পাঠ্য বিষয়ের সঙ্গে উদ্দীপকটির কোনো সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য রয়েছে কি না তা খেয়াল করবে। প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় পাঠ্য বিষয়ের মূল বক্তব্য আগে লিখবে। তারপর উদ্দীপকে কী বলা আছে তা লিখবে। সব শেষে তোমার মতামত উপস্থাপন করে প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ করবে।

এবার বহু নির্বাচনী প্রশ্নের কথা বলি। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলে ৬০ মার্কের বহু নির্বাচনী প্রশ্ন থাকে। এখানে শতভাগ নম্বর পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে যে যত ভালো করবে বাংলায় তার ফলাফল তত ভালো হবে। বহু নির্বাচনী প্রশ্নগুলোতে ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য পাঠ্য বই ভালোমত পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রঙিন কলম দিয়ে দাগিয়ে পড়বে। পরীক্ষার আগে দাগানো অংশগুলো একবার হলেও দেখে যাবে। বহুপদী বা উচ্চতর দক্ষতা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে ও বুঝে উত্তর দেবে। এ প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দেওয়ার জন্য পাঠ্য বইয়ের বিকল্প নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা