kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ক্লাসরুম

চটজলদি ভিটামিন

ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে ভিটামিন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ভিটামিন হলো খাদ্যে অতি অল্প মাত্রায় বিদ্যমান জৈব পদার্থ, যা মানবদেহের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ভিটামিনকে আলাদা কোনো খাদ্য মনে করবে না। প্রতিদিন আমরা যেসব খাবার খাই তাতেই ভিটামিন থাকে।

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চটজলদি ভিটামিন

ভিটামিনের অভাবে আমাদের দেহে নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেগুলো জানার আগে জেনে নিই ভিটামিন দুই ধরনের হয়। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো— ভিটামিন ‘বি’ ও ভিটামিন ‘সি’। চর্বিতে দ্রবণীয়—ভিটামিন ‘এ’, ‘ডি’, ‘ই’, ‘কে’।

ভিটামিন ‘এ’ : ভিটামিন ‘এ’-এর একটা অন্য নাম আছে। সেটা হলো রাসায়নিক নাম—রেটিনল। গাজর, কলিজা, মিষ্টি আলু, ডিম, মাখন, পেঁপেসহ অনেক ধরনের খাবার থেকেই ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। এর অভাবে রাতকানা, শুষ্ক ত্বক, শুকনো চোখ, দেহের বৃদ্ধিজনিত সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স : ‘বি১’-‘বি১২’ পর্যন্ত ভিটামিনগুলো একত্রে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। কলিজা, দুধ, ডিম, বাদাম, শিম, পনির, লাল চাল, গম, মাংসসহ অন্যান্য খাদ্য এ ভিটামিনের উৎস। এর অভাবে বেরিবেরি, রক্তশূন্যতা, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগ দেখা দেয়।

ভিটামিন ‘সি’ : এই ভিটামিনের রাসায়নিক নাম এসকরবিক এসিড। ভিটামিন ‘সি’ শরীরে মজুদ থাকে না। তাই এটা নিয়মিত খেতে হয়। এর উৎসগুলো হলো পেয়ারা, আমলকী, কমলা, লেবু, জাম্বুরা, টমেটো, কচুশাক ইত্যাদি। এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ, দুর্বল হাড়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়।

ভিটামিন ‘ডি’ : এর রাসায়নিক নাম ক্যালিসফেরল। মানবদেহে ভিটামিন ‘ডি’ দুইভাবে উৎপন্ন হতে পারে। খাদ্য গ্রহণের ফলে, আবার সূর্যের আলোর প্রভাবে তৈরি হয় ত্বকে। এ ছাড়া গরুর কলিজা, দুধ, মাখন, ডিমসহ আরো কিছু খাদ্যে ভিটামিন ‘ডি’ থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দুপুরের সূর্যালোক ত্বকে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরিতে বেশি উপকারী। ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে রিকেটস, অস্টিওপরোসিস, ক্রনিক পেইন, ক্যান্সার, হার্ট ফেইলিওরসহ নানা ধরনের রোগ হতে পারে।

ভিটামিন ‘ই’ : ভিটামিন ‘ই’-এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল। বাদাম, দুধ, ডিম, সবুজ শাকসবজি, সূর্যমুখীর বীজ, ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদি খাদ্যে ভিটামিন ‘ই’ থাকে। এই ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে যায়। এ ছাড়া হৃদযন্ত্রের রোগ ও ক্যান্সার হতে পারে।

ভিটামিন ‘কে’ : পালং শাক, শালগম, সরিষা শাক, মুরগি, যকৃত, মাছ, মাংসসহ অন্যান্য খাদ্যে ভিটামিন ‘কে’ থাকে। ভিটামিন ‘কে’ রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এই ভিটামিনের অভাবে ব্লিডিং ডায়াথিসিস নামের একটি রোগ হয়।

গ্রন্থনা: জাহিদুল ইসলাম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা