kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

উচ্চশিক্ষা

পুরকৌশল বিভাগের প্রস্তুতি

দেশে ডিপ্লোমাধারীদের উচ্চশিক্ষায় একটি নামই উঠে আসবে সবার আগে, ডুয়েট— ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পলিটেকনিকগুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের অন্যতম সরকারি প্রতিষ্ঠান এটি। এর ২০১৯-২০ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে ৩ ডিসেম্বর থেকে। ডুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ভর্তির প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন এ বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজ আহমেদ সা’দ

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরকৌশল বিভাগের প্রস্তুতি

ভর্তি পরীক্ষার বাকি আর মাত্র কয়টা দিন। পুরকৌশল (সিভিল) বিভাগে যারা পরীক্ষা দেবে তাদের জন্য কিছু কথা। শেষ কয়েকটি দিন তোমাদের প্রস্তুতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো পড়াগুলো ভালো করে রিভিশন দেওয়ার জন্য হাতে ন্যূনতম সাত-আট দিন রাখতেই হবে। আগে থেকেই প্ল্যান করে নাও এ সময়ে কী করবে। কোন কোন টপিকস রিভিশন দেবে।

ডুয়েটে চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে রিভিশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যার যত রিভিশন, তার চান্স তত বেশি। কারণ পরীক্ষায় যা আসবে তার বেশির ভাগই তোমার জানা। তাই রিভিশনের অভাবে সেটা ভুলেও বসতে পারো।

পুরকৌশল বিভাগে আসনসংখ্যা ১২০। মোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা। নন-টেকনিক্যাল বা নন-ডিপার্টমেন্ট বিষয়ে ১৫০ নম্বর। এর মধ্যে গণিত, পদার্থ, রসায়ন প্রতিটিতে ৪০ নম্বর করে। ইংরেজিতে থাকবে ৩০ নম্বর। টেকনিক্যাল অর্থাৎ ডিপ্লোমায় পঠিত বিষয়গুলো থেকে আসবে ১৫০ নম্বর। সময় পাবে ২ ঘণ্টা।

পদার্থবিজ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য আবু ইসহাক-নূর নবী তালুকদার স্যার ও শাহাজান-তপন স্যারের লেখা বইটির অঙ্কগুলো শেষ সময়ে দেখে নাও। পদার্থবিজ্ঞানের চেয়ে রসায়নে নম্বর তোলা সহজ। জৈব যৌগ, ধাতু-অধাতু, বিক্রিয়া থেকে প্রশ্ন আসে। গাণিতিক সমাধানগুলোর জন্য মূল বইয়ের উদাহরণই যথেষ্ট। সম্ভব হলে মমিনুল হকের গাণিতিক রসায়নের উদাহরণগুলো দেখতে পারো। এর বাইরে সহায়ক বইয়ের প্রয়োজন নেই। বিক্রিয়া ও সংকেতগুলোয় প্রতিদিন একবার করে চোখ বোলাও।

গুরুত্বপূর্ণ ছোট ছোট বিক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব বেশি দাও। রসায়নের জন্য বর্তমান ইন্টারমিডিয়েটের সিলেবাসের বই ও হাজারী নাগ স্যারের বইগুলো বেশ ভালো। রসায়নে ভালো করার ওপরই কিন্তু চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

গণিতের প্রস্তুতির জন্য মূল বই ভালোভাবে শেষ করতে থাকো। কারণ গণিতের সমস্যাগুলো খুব একটা পরিবর্তন করে দেওয়া হয় না। এ জন্য এ বিষয়ে ১০০ ভাগ নম্বর তোলা যায়। কোনো অধ্যায়ের কোনো উদাহরণ যেন বাদ না যায়। মূল বইয়ের বাইরে সহায়ক কোনো বই পড়ার দরকার নেই। নতুন সিলেবাসের কেতাব উদ্দিনের বইটি পড়তে পারো।

ইংরেজিতে ভালো করতে বিগত প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে। গ্রামারের জন্য চৌধুরী এবং হোসাইন, ফ্রেন্ডস গ্রামার ও এপেক্স গ্রামার থেকে যেকোনো একটা ফলো করলেই হবে।

প্রতিদিনের শুরু এবং শেষের অন্তত এক ঘণ্টা করে সময় ইংরেজি ও রসায়নে দাও। এতে রিভিশন দেওয়া ও মার্ক তোলা তোমার জন্য সহজ হবে। আর ডিপার্টমেন্ট প্রস্তুতির জন্য গাণিতিক ও থিওরি পার্ট ভালোভাবে বুঝে করতে হবে। সিভিল ডিপার্টমেন্টের জন্য বাজারে অনেক বই আছে; যেমন—প্রযুক্তি, অপটিমাম, ইকুয়েশন, কমফোর্ড ইত্যাদি।

ডিপার্টমেন্টে ম্যাথ পার্ট ও থিওরি পার্ট থাকে। সিভিলে ডিপার্টমেন্টের সিলেবাস খুব ছোট। তাই থিওরি পার্টটা ভালো করে আগে থেকেই পড়তে হবে। এখান থেকে দুটি প্রশ্ন থাকবে। তাই কোনোভাবেই মিস করা যাবে না।

ম্যাথ পার্টের জন্য সূত্র বুঝে সমাধান করতে হবে। এটা বেশি বেশি প্র্যাকটিস করতে হবে, যেন প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে পারো। নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের জন্য ডিপার্টমেন্টে ভালো কনসেপ্ট রাখা চাই। আগের পরীক্ষার প্রশ্নগুলো দেখলেও ভালো করবে। এ ছাড়া বাজারে hzdration নামে একটি বই পাওয়া যাচ্ছে। সেখান থেকে কমন পড়ার সম্ভাবনাও বেশি। কিন্তু থিওরি বা গণিতের জন্য ওটার প্রয়োজন হবে না।

প্রতিটি পার্টের জন্য শেষের ১০ মিনিট রাখো রিভিশনের জন্য। চেষ্টা করবে প্রতিটি প্রশ্ন লেখার পর দুইবার করে দেখে নিতে। প্রশ্ন যেমনই হোক ঘাবড়ানো যাবে না। কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে দিতে হবে। কোনো প্রশ্নে আটকে গেলে দ্রুত সেটা স্কিপ করে অন্য প্রশ্ন ধরতে হবে।

সর্বোপরি এ কয়টা দিন রিলাক্স থাকার চেষ্টা করো। দুশ্চিন্তাও একটা বাধা। নতুন করে এই কয় দিন কিছু না দেখে আগের পড়াটাই রিভিশন দিতে থাকো।

অনুলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা