kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ফাইনালের জন্য তৈরি?

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুরুত্বপূর্ণ অংশ রঙিন কালি দিয়ে দাগিয়ে পড়ছি

ফারহান আবির ফারাবী, ষষ্ঠ শ্রেণি উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

হোমওয়ার্ক সময়মতো শেষ করছি। টিচাররা অনেক অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেন। সেগুলো করতে যেয়ে ওই বিষয়ের পড়াটাও হয়ে যাচ্ছে। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রঙিন কালি দিয়ে দাগিয়ে পড়ছি, যাতে পরে চূড়ান্ত রিভিশন দেওয়ার সময় সহজে চোখে পড়ে। আপাতত কোনো গাইড বই পড়ছি না। মূল বইয়ের পেছনের অনুশীলন অংশটাই প্র্যাকটিস করছি। কোনো বিষয় না বুঝলে ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখছি। কোনো না কোনো ভিডিও থাকেই। স্কুল চলে সকাল ৭টা ৪০ থেকে দেড়টা পর্যন্ত। বাসায় এসে গোসল করে খেয়েদেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিই। উঠে আবার পড়া। একটানা অনেকক্ষণ পড়ছি না। ফাঁকে ফাঁকে একটু ব্রেক। তবে বেশি রাত জাগি না।

 

প্রতিদিনের রুটিনে ইংরেজি গণিত

মিহরানুর রহমান ইহফায, ষষ্ঠ শ্রেণি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল

আমার মতে, পড়া হলো ঘুমের সমানুপাতিক। যখন বেশি ঘুম আসে, হোমওয়ার্ক লিখে ফেলি। কারণ লিখলে ঘুম চলে যায়; কিন্তু যদি হোমওয়ার্ক করা থাকে তবে বই নিয়ে হাঁটি আর একটু পর পর পানি খাই। বেশির ভাগ সময়ই বারান্দায় দৌড়ে হাঁটি যেন ঘুম কেটে যায়। এটা হলো আমার পড়ার সময় ঘুম থেকে বাঁচার ট্রিক। গণিত আমার খুব প্রিয়। ইংরেজিতে আমি খানিকটা দুর্বল। আমি যেটা পারি না সেটা নিয়ে সারা দিন ঘাঁটি, যতক্ষণ না সমাধান করতে পারছি। প্রতিদিনের রুটিনে ইংরেজি আর গণিত রাখছি। এতে পরে আলাদাভাবে চূড়ান্ত রিভিশন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে না। পরীক্ষার আগে চেষ্টা করি সিলেবাসের পুরোটাই শেষ করতে। আর পরীক্ষার আগের রাতগুলোতে কোনো পড়া নয়, শুধু চোখ বুলাই।

 

দুর্বোধ্য টপিকে গোল চিহ্ন

রাইসুল ইসলাম আসাদ, দশম শ্রেণি পটুয়াখালী ওয়ায়েজীয়া কামিল মাদরাসা

আরবিটাই বেশি কঠিন। এতে ঘণ্টাখানেক সময় দিতে হয়। লিখেও অনুশীলন করতে হয়। একগাদা প্রশ্ন আরবিতে নির্ভুলভাবে লেখা কম কষ্টের নয়। একঘেয়েমি চলে এলে ঘরের মধ্যে হাঁটি। দ্বিতীয় দফায় চলে ইংরেজি চর্চা। লিখিত অংশটা বেশি কঠিন। অনুশীলনে সময় দিতে হয় বেশি। মাঝেমধ্যে কিছু টপিক দুর্বোধ্য লাগে। সেগুলোকে পেনসিল দিয়ে গোল চিহ্ন করে রাখছি। পরে স্যার কিংবা অন্য কোনো বন্ধুর কাছ থেকে জানার চেষ্টা করব। দুপুরে গণিত ধরি। বীজগণিত বারবার অনুশীলন করতে হয়। প্রথমে একটু বিরক্তি লাগে; কিন্তু ধীরে ধীরে মজা পাওয়া যায়। আগের বছরের প্রশ্ন ঘেঁটে একটা ধারণা নিই। রাতের বেলায় চলে রিভিশন। বইতে আগে থেকে যেগুলো হাইলাইটার দিয়ে মার্ক করে রাখা আছে, সেগুলোর ওপরই জোর দিচ্ছি বেশি।

 

বড় ভূমিকা রাখছে সময়ানুবর্তিতা

নাফিসা তাসনিম নোসিন, বি এ এফ শাহীন কলেজ, এসএসসি পরীক্ষার্থী

আমার পছন্দের সাবজেক্ট গণিত। ম্যাথ অনেকেই ভয় পায়। আসলে সবচেয়ে মজার ও সহজ এটি। অনেকেরই গণিতের সূত্র ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। আমারও যে নেই তা নয়। তাই এখন বেশি বেশি অনুশীলন চলছে। পড়ালেখা নিয়ে এত ভারী ভারী কথা বললাম দেখে আবার ভেবে বোসো না যে সারা দিন আমি পড়ি। পড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও চলছে। এখন একটু কম চলছে যদিও, তবে এটি কখনোই পড়ার ক্ষতি করে না। প্রয়োজন হলো দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা। এসএসসির প্রস্তুতি মোটামুটি ভালো। পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সময়ানুবর্তিতা। দিনের পড়া দিনে শেষ করলে সবই সহজ হয়ে যায়।

 

অ্যাকাউন্টিংয়ে এক ঘণ্টা

লামিশা জামান, নবম শ্রেণি, বাণিজ্য বিভাগ, হলিক্রস উচ্চ বিদ্যালয়

ক্লাস এইটে কিছু ভুল করেছিলাম। কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি। তাই নতুন প্ল্যান সাজিয়েছি। এসএসসি লেভেলে যে সমস্যা সবার হয়, হুট করে অনেক বেশি পড়া চলে আসে। চাপ সবাই নিতে পারে না। প্রতিদিনই পড়া জমতে থাকে। আমি ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থী। প্রধান বিষয় হলো অ্যাকাউন্টিং। এতে প্রতিদিন এক ঘণ্টা দেবই দেব। কমার্সে জেনারেল ম্যাথকে প্রথমে কেউ নজর না দেওয়ায় এটাও পরে ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়। তাই এখন থেকেই প্রতিদিন আলাদা করে গণিত ও অ্যাকাউন্টিংয়ের জন্য সময় দিই। বাকি বিষয়গুলোতে মোটামুটি চার-পাঁচ ঘণ্টা করে সময় দিই। আর পরীক্ষার আগে একটু চোখ বুলাই নোট খাতা ও বইয়ের পাতায়। পরীক্ষার হলে তাই আমার সিলেবাসের কমতি নিয়ে যেতে হয় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা