kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ড্রিমলাইনারের নতুন বহরে জাগরণ হবে বিমানের

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ড্রিমলাইনারের নতুন বহরে জাগরণ হবে বিমানের

ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

নতুন প্রজন্মের সর্বাধুনিক চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারসহ বহরে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ দিয়ে পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন বহরে বিমানকে এখন বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্পের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী বলেই মনে করছেন রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনসটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মাসুদ রুমী

 

এক নজরে

-           প্রতিষ্ঠা : ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২

-           যাত্রা শুরু : ডিসি-৩ উড়োজাহাজ দিয়ে

-           স্লোগান : আকাশে শান্তির নীড়

-           উড়োজাহাজের সংখ্যা : ১৬

-           পাবলিক লিমিটেড কম্পানি : ২০০৭ সালে

-           ২০১৮ সালে যাত্রী পরিবহন : ২৮ লাখ

 

স্বাচ্ছন্দ্য ও আরামদায়ক ভ্রমণে বিশ্বের সবচেয়ে জ্বালানিসাশ্রয়ী ও অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’, ‘হংসবলাকা’, ‘গাঙচিল’—এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে বিমানের বহরে। সর্বশেষ উড়োজাহাজ ‘রাজহংস’ আসবে ১২ সেপ্টেম্বর। দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট সর্বাধুনিক এই উড়োজাহাজে আসনসংখ্যা হবে ২৭১। আর ড্রিমলাইনারে জ্বালানি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজের চেয়ে ২০ শতাংশ কম লাগবে। এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থার সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে বলে জানান ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল। তিনি বলেন, ‘তারল্য সংকট, উচ্চ পরিচালন ব্যয়সহ নানা সীমাবদ্ধতায় আমরা ৪৭ বছর পার করেছি। এ সময় বিমান পাঁচ কোটি ৭১ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। তবে এবার নতুন ও সুপরিসর বহরে নতুন জাগরণ হবে বিমানের।’

বিমানের বহর আধুনিকায়নে যাত্রীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানালেন ভারপ্রাপ্ত এমডি। তিনি বলেন, ‘গত বছর ২৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছি আমরা। অভ্যন্তরীণ রুটেও আরো ভালো সেবা দিতে আমরা আরো তিনটি ড্যাশ কিউ-৪০০ উড়োজাহাজ কিনেছি, যা এসে পৌঁছাবে আগামী বছর। তাহলে বিমান সব সেক্টরেই যাত্রীদের ভালো সেবা দিতে আরো সক্ষমতা অর্জন করবে। গত বৃস্পতিবার তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫টি।

তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়, এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮। এরই মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে চারটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং আজকেরটিসহ বিমান বহরে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটি। চতুর্থ এবং শেষ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বিমান বহরে যুক্ত হবে।

ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই বিমানের ২৭২ কোটি টাকা মুনাফা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল। তিনি বলেন, ‘বিমান যে লাভ করেছে, এর পেছনে টিম এফোর্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের বোর্ড এবং মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সহযোগিতা ও পরামর্শ ছিল। কিছু জনবলের অভাব ছিল বহুদিন। জনবলের অভাব পূরণ করা হয়েছে। আমরা এ বছর হজ ফ্লাইট নির্বিঘ্ন করতে পেরেছি।’

টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম ড্রিমলাইনার দূরপাল্লার উপযোগী উড়োজাহাজ। তার জন্য আমেরিকা, ইউরোপসহ নতুন রুট খোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন রুট ইচ্ছা করলেই খোলা যায় না। আমরা লন্ডনে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়াব। যেখানে যে রকম ডিমান্ড, আমরা সেখানে জাহাজের ফ্লাইটগুলো বাড়াব। এই মুহূর্তে নতুন গন্তব্যে বাড়াব না। আগামী বছর হয়তো করতে পারি। গন্তব্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন রুট গুয়াংজু নিয়েই ভাবছি আপাতত। অক্টোবর থেকে আমরা এই রুটে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, যেখানে আমাদের মার্কেট চাহিদা আছে, যেখানে আমরা উড়োজাহাজের জন্য মার্কেট ধরতে পারছিলাম না, আমরা সেই মার্কেটগুলোই এখন ধরব। নতুন মার্কেট ধরতে গেলে লাভ-লোকসানের ব্যাপার আছে।

বিমানের সঙ্গে বেসরকারি এয়ারলাইনসের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘আমরা তো এখানে ব্যবসা করছি। আমাদের অনেক বড় নেটওয়ার্ক। আমরা অন্যান্য দিক থেকে আয় করে অভ্যন্তরীণ রুটে কিছুটা সুবিধা দিলে যাত্রীরা এর সুফল পাবে। আমরা জ্বালানি তেলসহ সিভিল এভিয়েশনের সব পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করছি। তারা আমাদের ছাড় দিচ্ছে না।’

বিমান যে লাভ করছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অন টাইম পারফম্যান্সের উন্নতি হয়েছে। আগে উড়োজাহাজ কম থাকায় তা অর্জন করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন সেই সমস্যা কমে যাওয়ায় আমাদের সময়মতো উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণ আরো সহজ হবে। জাহাজ এলেই আবার হবে না, সেটার যথাযথ ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় কাজ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা