kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এ বছরই আবুধাবি, চেন্নাই ওগোয়াংজুতে যাত্রা

আসিফ সিদ্দিকী   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আন্তর্জাতিক রুটে ধারাবাহিক সাফল্যের পর সংযুক্ত আরব-আমিরাতের আবুধাবি ও ভারতের চেন্নাই এবং চীনের গোয়াংজুতে উড়বে দেশের শীর্ষ বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ার। চলতি ২০১৯ সালের মধ্যেই উড়াল দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বিমান সংস্থাটি। কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বললেন বিমান সংস্থার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সালমান হাবিব।

তিনি বলেন, ‘রিজেন্টের বহরে থাকা বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ দিয়েই আমরা বিদ্যমান ছয়টি আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি আরো নতুন তিনটি রুটে যাত্রীসেবা দিতে পারব। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে নিরবচ্ছিন্ন ও অনটাইম যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ২০২০ সালের শুরুতে দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ যোগ করব রিজেন্টের বহরে। এর পর থেকে আমরা বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াব, একই সঙ্গে নতুন রুটে যুক্ত হবো।’

লন্ডনের বিখ্যাত কুইন মারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পড়া তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা সালমান হাবিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় আমরা বোয়িং ৭৩৭-কে এগিয়ে রাখছি। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ভবিষ্যতে আমরা এটিআর-কে বেছে নিচ্ছি; ড্যাশ-এর তুলনায় এটিআর অনেক সাশ্রয়ী।’

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক গন্তব্যে আগে নয়টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করলেও এরই মধ্যে দুটি রুট নেপাল ও দাম্মাম ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট পরিচালনার পর দেখা গেছে দুটি রুট লাভজনক হচ্ছে না। ফলে সেই দুটি রুট বন্ধ রেখে আমরা অন্য রুটে মনোযোগ দিয়েছি।’

চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক সালমান হাবিব বলেন, ‘এখন সাতটি রুটের মধ্যে ভারতের কলকাতা, কাতারের দোহা এবং ওমানের মাসকাটে ফ্লাইট পরিচালনায় শীর্ষে আছে রিজেন্ট এয়ার। এই রুটে দেশি-বিদেশি অনেক বিমান সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমরা বেশ ভালো করছি; যাত্রীদের সর্বোচ্চ সাড়া পাচ্ছি।’

সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরে বিশ্বখ্যাত বিমান সংস্থার সঙ্গে আমরা প্রতিযোগিতায় বেশ ভালো করছি উল্লেখ করে সালমান হাবিব বলেন, ‘ব্যাংককে আমরাই সবচেয়ে ভালো করেছিলাম; কিন্তু থাই ভিসা ইস্যু কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে ফ্লাইট কমানো হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব সুবিধা নিশ্চিত হলে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ‘আঞ্চলিক হাব’ বানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যাত্রী পরিবহন করতে চায়। রিজেন্টের অনেক ফ্লাইটকে এখন ঢাকায় যাওয়ার দরকার হয় না; কিন্তু সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঢাকায় গিয়ে থাকতে হয়। সুবিধা নিশ্চিত করলে চট্টগ্রাম থেকেই ফ্লাই করা সম্ভব, আর পরবর্তী সময়ে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো সে সুবিধা নিতে পারবে।

সালমান হাবিব বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে প্রতিবছর যে হারে যাত্রী বাড়ছে তাতে চট্টগ্রামকে হাব বানানো সম্ভব। আমরা চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংকক যাচ্ছি, সেখানে প্রচুর ট্রানজিট যাত্রী আছে, যারা ব্যাংকক হয়ে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যেও প্রচুর ট্রানজিট যাত্রী আছে; কিন্তু অনেকেই ঢাকা হয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে হাব বানানো গেলে সব যাত্রী চট্টগ্রাম থেকেই যেত। ঢাকা বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমত, সময়ও ঢাকার চেয়ে কম লাগত।’

সালমান হাবিব বলেন, ‘বিমানবন্দরে দুটি বোর্ডিং ব্রিজ আছে, পিক আওয়ারে আমরা শত চেষ্টা করলেও সেগুলো পাই না। যাত্রীরা হেঁটে বিমানে ওঠে। যে হারে যাত্রী বাড়ছে বোর্ডিং ব্রিজ অন্তত ছয়টি করা উচিত।’

তিন বলেন, স্বয়ংসম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ওঠার জন্য এখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান রাখার জন্য একটি হ্যাঙ্গার নির্মাণ, বিমানে খাবার সরবরাহের জন্য ক্যাটারিং সার্ভিস তৈরি, আমদানি-রপ্তানি পণ্য রাখার জন্য একটি কার্গো কমপেক্স নির্মাণ, বিমান রাখার পার্কিং স্পেস আরো একটু বড় করা এবং একটি প্যারালাল রানওয়ে নির্মাণ করতে হবে। এতে পণ্য আসা-যাওয়া যেমন বাড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা