kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আকাশে ‘পাঁচতারা’ সেবা দিচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আকাশে ‘পাঁচতারা’ সেবা দিচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

জয়প্রকাশ নায়ার, কান্ট্রি ম্যানেজার, কাতার এয়ারওয়েজ

পারস্য উপসাগরের দেশ কাতারের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনস কাতার এয়ারওয়েজ আড়াই শর বেশি উড়োজাহাজ অত্যাধুনিক ফ্লিট দিয়ে ১৬০ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রীদের আরামদায়ক হোটেল ও অত্যাধুনিক লাউঞ্জ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি আকাশেও পাঁচতারা মানের সেবা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাতার এয়ারওয়েজ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জয়প্রকাশ নায়ার।

 

ঢাকা থেকে দোহা রুটে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এবং এয়ারবাস ৩০০-২০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে এই বিমান সংস্থা প্রতিদিন তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। পাঁচ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এই ফ্লাইটে ঢাকা থেকে ভোর ৪টা ১৫, সকাল সাড়ে ১১টা এবং সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে দোহা ছেড়ে যায় কাতার এয়ারওয়েজ। এরপর দোহা থেকে কানেক্টিং ফ্লাইটে বিশ্বের বেশির ভাগ গন্তব্যে যাত্রীদের পৌঁছে দিচ্ছে বিমান সংস্থাটি। এ দেশের বহু মানুষ এখন ভ্রমণে উৎসাহী হচ্ছে উল্লেখ করে জয়প্রকাশ নায়ার বলেন, ‘এখন ছুটি পেলেই বাংলাদেশের মানুষ ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের উড়োজাহাজে যাত্রীদের আগ্রহ বাড়ছে বলেই ফ্লাইট বাড়ানো হয়েছে।’  

আকাশপথে চলাচলের ২০ বছরে উদ্যাপন করছে এই বিমান সংস্থা। এই সময়ে বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত কাতার এয়ারওয়েজ। এ বছরও ভ্রমণকারীদের ভোটে বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনসের স্বীকৃতি পেয়েছে তারা। এর মাধ্যমে এক বছর পর পঞ্চমবারের মতো এই স্বীকৃতি পেল বিমান সংস্থাটি। ২০১৯ সালের সেরা বিমান সংস্থার নাম ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন রেটিং সংস্থা ‘স্কাইট্র্যাক্স’। এর আগে ২০১১, ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৭ সালেও কাতার এয়ারওয়েজ শ্রেষ্ঠত্বের এ স্বীকৃতি পায়। এই প্রথম বিশ্বের কোনো বিমান সংস্থা স্কাইট্র্যাক্সের ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইনস অ্যাওয়ার্ডসে পাঁচবার বিশ্বসেরা হলো। এসব সাফল্যের কারণ জানতে চাইলে জয়প্রকাশ নায়ার বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রাহকদের সবচেয়ে সেরা মানের সেবা নিশ্চিত করি। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। এসব কারণেই বিশ্বসেরা বিজনেস ক্লাস কেবিন, বিশ্বসেরা বিজনেস ক্লাস আসন ও মধ্যপ্রাচ্যের সেরা বিমান সংস্থার পুরস্কার তিনটি জিতেছে কাতার এয়ারওয়েজ। ক্রমাগত নতুনত্ব ও মানসম্পন্ন সেবার মাধ্যমে এভিয়েশনশিল্পে বেঞ্চমার্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আমাদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। আমাদের সন্তুষ্ট গ্রাহকরাই আমাদের উড়োজাহাজে অন্যদের ভ্রমণের জন্য সুপারিশ করেন।’

কাতার এয়ারওয়েজ প্রথম উপসাগরীয় বিমান সংস্থা, যেটি বৈশ্বিক বিমান সংস্থার অ্যালায়েন্সে যুক্ত হয়ে যাত্রীদের বিশ্বের ১৬০ দেশের হাজারের বেশি বিমানবন্দরের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ বিমান সংস্থার যাত্রীরা ইনফ্লাইট বিনোদনে ব্লকবাস্টার মুভি, টিভি বক্স সেট, মিউজিক, গেমসহ আরো নানা কিছু বেছে নিতে পারেন। এ ছাড়া উড়োজাহাজে যাত্রীরা ওয়াই-ফাই এবং জিএসএম সেবা ব্যবহার করে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। এ বিমান সংস্থাটি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার অফিশিয়াল অংশীদার। কাতারে অনুষ্ঠেয় ২০২২ ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলেরও অন্যতম স্পন্সর কাতার এয়ারওয়েজ।

সম্প্রতি কাতার এয়ারওয়েজ ঢাকা থেকে প্রথমবারের মতো লিসবনে ফ্লাইট উদ্বোধন করেছে বলে জানালেন জয়প্রকাশ নায়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা লিসবনে সরাসরি সেবা চালু করতে পেরে আনন্দিত। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দিয়ে পরিচালিত হবে, যাতে রয়েছে ২২টি বিজনেস এবং ২৩২টি ইকোনমি ক্লাস আসন। কাতার এয়ারওয়েজে বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণকারী যাত্রীরা আকাশে সবচেয়ে আরামদায়ক, পুরোপুরি শোয়ানো বিছানায় শিথিল হতে পারবে। পাশাপাশি একটি পাঁচতারা পানভোজন সেবা উপভোগ করবে, যেখানে ‘চাহিদা অনুযায়ী খাবার’ পরিবেশিত হবে। এই পরিষেবাটি কাতার এয়ারওয়েজের ঢাকা থেকে লিসবন এবং ফিরতি গ্রাহকদের ভ্রমণের জন্য একটি বিশ্ব উন্মুক্ত করেছে।’

বৈশ্বিক বিমান পরিবহনে অন্যতম কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠা কাতারের হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (এইচআইএ) বিশ্বের পঞ্চম সেরা বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পেয়েছে। স্কাইট্র্যাক্সের ২০১৮ সালের বৈশ্বিক বিমানবন্দর অ্যাওয়ার্ডে এ সম্মান অর্জন করে অন্যতম বৃহৎ এ বিমানবন্দরটি। এমনকি এটি বিশ্বের শীর্ষ দশে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরে কাতার এয়াওয়েজের যাত্রীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলে জানান জয়প্রকাশ নায়ার। 

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন কাতার এয়ারওয়েজের এই কর্মকর্তা। তাঁর মতে, ‘প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশও হতে পারবে পর্যটন শিল্পের একটি সফল দেশ।’

বিশ্ব যত দ্রুত এগোচ্ছে, বাংলাদেশকেও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও যাত্রী সেবা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি। এই সেবার মান বাড়াতে এই বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

> সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসুদ রুমী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা