kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

শহরের মধ্যে আরেক শহর

৩১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শহরের মধ্যে আরেক শহর

মোহাম্মদ জাকির হোসেন অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার, নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড

রাজধানীর মিরপুর-১৫-তে নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্ট ‘নাভানা সিটি উইথইন’। থাকছে ৫২ শতাংশ খালি জায়গাসহ সামাজিক সব সুযোগ-সুবিধা। অ্যাপার্টমেন্টের ডিজাইনও বেশ আকর্ষণীয়। প্রজেক্টটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (সেলস্) মোহাম্মদ জাকির হোসেন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

আপনাদের কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্ট সম্পর্কে জানতে চাই।

আমাদের কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্টে প্রায় সাড়ে আটাশ বিঘা জায়গা। আমরা এখানে তিনটি সেগমেন্ট করেছি। পাঁচ বিঘার ওপর একটি, ৯ বিঘার ওপর একটি, আরেকটি সাড়ে চৌদ্দ বিঘার ওপর। এখানে ১৪৭৩টি অ্যাপার্টমেন্ট। বিভিন্ন সাইজের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। সর্বনিম্ন সাইজ ১৩২৮ বর্গফুট এবং সর্বোচ্চ সাইজ ২০৪৮ বর্গফুট। ডুপ্লেক্স ডিজাইনে ২৬০০ বর্গফুট। সিপ্লেক্ট ডিজাইনের অ্যাপার্টমেন্ট সাইজ ৩৫০০ বর্গফুট। এখানে রয়েছে তিন ও চার বেডরুমের ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট।

কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্টের মূল থিম বা বিষয় কী?

আমাদের এই প্রজেক্টের মূল থিমটা হলো মধ্যবিত্তরা সামাজিক যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, সেসব সুযোগ-সুবিধা এখানে যাতে দিতে পারি। এখানে আমরা বিশেষ কিছু করছি না, আমাদের প্রচলিত আইন বা নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকেই সুযোগ-সুবিধাগুলো যুক্ত করতে পারছি। ঢাকা শহরে যে সুবিধাগুলো পাওয়ার কথা যেমন—বাচ্চাদের জন্য খেলার মাঠ, নিজের হাঁটার জন্য জায়গা, কমিউনিটি হল ইত্যাদি সুবিধা সঠিকভাবে পাচ্ছি না। আমরা এসব সুবিধাকে আমাদের কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্টে যুক্ত করেছি যেমন—খেলার মাঠ, সুইমিংপুল, জগিং ট্র্যাক, কমিউনিটি স্পেস, মেডিক্যাল কর্নার ইত্যাদি সুবিধা। যেটাকে আমি বলতে পারি শহরের মধ্যে একটা শহর। কারণটা হলো, শহরে আমরা কেন যাই? শহরে সব সুযোগ-সুবিধা আর কর্মসংস্থানের জন্যই যাই। আর আমাদের প্রজেক্টে সব সুবিধাই যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের এখন কাজের ক্ষেত্রে মুভমেন্ট কমেছে, মাথার ওপর চাপ বেড়েছে। এ জন্য আমাদের ব্যায়াম দরকার। আমরা কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্টে জিম করে দিচ্ছি, ইনডোর গেমস অন্তর্ভুক্ত করে দিচ্ছি। সমাজে একটা মানুষের যে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া দরকার, সে সুযোগ-সুবিধাগুলো এখানে পর্যাপ্তভাবে করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এখানকার অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটের দরদাম কেমন?

আমাদের সর্বনিম্ন প্রাইস প্রতি বর্গফুট পাঁচ হাজার ৮০০ টাকা। সর্বোচ্চ প্রাইস প্রতি বর্গফুট সাত হাজার টাকা। নানাবিধ ভিন্নতার ধরন অনুযায়ী এই রেঞ্জের মধ্যেই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর দাম।

আরো তো অনেক রিয়েল এস্টেট কম্পানি রয়েছে। গ্রাহক কেন ওগুলো থেকে না কিনে আপনাদের থেকে ফ্ল্যাট কিনবে? বিশেষত্ব কী?

আমরা এই প্রজেক্টটি নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে থেকে বাস্তবায়ন করছি। এখানে সরকারের যে আইন-কানুন আছে, সব পালন করা হচ্ছে। যে কারণে আমাদের এই প্রজেক্টে এখনই ব্যাংক লোন দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত ব্যাংক লোন দেয় হস্তান্তর পরিস্থিতিতে। কিন্তু আমাদের সবগুলো লিগ্যাল দিক যেহেতু পরিষ্কার আছে এবং সরকারের বিভিন্ন এজেন্টের (যেমন—রাজউক) আইন মেনে চলছি, তাই আমাদের প্রপার্টিতে ব্যাংকগুলো লোন দিতে দ্বিধা করে না। আমরা সঠিকভাবে লিগ্যালিটি মেইনটেইন এবং হ্যান্ডওভার করি। নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান সব সময় মেনে চলি।

গ্রাহকদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

বাংলাদেশের মানুষ খুব পরিবারকেন্দ্রিক। যে কারণেই তারা স্থায়ী একটা ঠিকানায় থাকতে চায়। ঢাকা শহরে যেহেতু জমির দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই জমি কিনে নিজে বাড়ি করা এবং পরবর্তীকালে বাড়ির ব্যবস্থাপনা করা অনেক ব্যয়সাধ্য ব্যাপার। সুতরাং এখান থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ অ্যাপার্টমেন্ট কিনছে। যেহেতু এটি সুবিধাসমৃদ্ধ একটি প্রজেক্ট, যারা একবার ভিজিট করে তারা কষ্ট হলেও কেনার চিন্তা করছে। আমাদের কাছে প্রতি মাসে গড়ে ১৫০-২০০ কাস্টমার আসে। এই কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্টে গড়ে ১৫-২০টি ইউনিট বিক্রি হয় প্রতি মাসে।

আর কোথায় কোথায় প্রজেক্ট আছে?

আমরা এখন তিনটি জায়গায় কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্ট করছি। মিরপুর-১৫, মিরপুর-১১ এবং মোহাম্মদপুরে। মিরপুর-১১-এর কাজ চলছে। মোহাম্মদপুরেরটি মিনি কন্ডোমিনিয়াম। ওটার কাজও সম্প্রতি শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা শহরের বেশির ভাগ এলাকায় আমাদের প্রজেক্ট রয়েছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে আমাদের প্রজেক্ট রয়েছে।

আপনাদের এখানে কোন ধরনের কাস্টমার বেশি আসছে?

আমাদের এখানে করপোরেট কাস্টমার বেশি আসছে। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে ভিজিট করে। আরেক ধরনের কাস্টমার আছে, যারা স্থানীয়। কিন্তু তাদের বাসাগুলো ঘিঞ্জি। তাদের পরিবারের সদস্যরা চাচ্ছে এলাকায়ই থাকব; কিন্তু একটা সুন্দর পরিবেশে। তারাও কিনছে।

আরো যা বলতে চান

আমার কাছে যেটা মনে হয়, আবাসন খাতে আমাদের দেশে অসামঞ্জস্যতা রয়ে গেছে। আমরা উচ্চবিত্তদের আবাসনের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি, মধ্যবিত্তদের জন্য সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে দাম সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের আগের যে পদক্ষেপ ছিল, কয়েক কাঠা করে প্লট আকারে মানুষকে দিয়ে দেওয়া। বাস্তবিক পক্ষে ওই এলাকাগুলোতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার সমন্বয় করে উন্নয়ন হয়নি। এভাবে যদি জমি না দিয়ে কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্ট করা যেত কিংবা সেটা যদি বেসরকারি খাতেও নির্ধারিত দাম লিমিটেশন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া যায়, তাহলে মধ্যবিত্তরাও সুযোগ-সুবিধাটা নিতে পারে। পরিবারকে যদি সামাজিক সব সুবিধা দিতে চায়, মধ্যবিত্তদের আমি পরামর্শ দেব কন্ডোমিনিয়াম প্রজেক্টে হাউস করার জন্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা