kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়াই আমাদের পরিকল্পনা

৩১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়াই আমাদের পরিকল্পনা

জিল্লুল করীম ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ক্রিডেন্স হাউজিং লিমিটেড

অল্প সময়ের মধ্যেই প্রথম শ্রেণির নির্মাণপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ক্রিডেন্স হাউজিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির এমডি জিল্লুল করীম-এর সঙ্গে কথা বলেছেন মেহেদী আল মাহমুদ

 

নির্মাণপ্রতিষ্ঠান শুরু করার পেছনে উদ্দেশ্যটা কী ছিল?

ক্রিডেন্স শুরু করার পেছনে মূল উদ্দেশ্যটাই ছিল মানুষের সেবা করা এবং এর মধ্য দিয়ে আবাসন ব্যবসাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

 

প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান এই মুহূর্তে কেমন?

এককথায় বলতে গেলে বলতে হয়, ভালো। চার বছর আগে আমরা এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলাম। এই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বেশ কিছু প্রজেক্ট হস্তান্তর করেছি। ৩৮টির মতো সাইটে আমাদের কাজ চলমান আছে। প্রতিনিয়ত গ্রাহক ও ল্যান্ড ওনাররা আসছেন আমাদের সঙ্গে কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে। ভালো অবস্থানে না থাকলে এটা সম্ভব হতো না।

কোন কোন এলাকায় আপনারা এখন কাজ করছেন?

আমরা মূলত ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, কলাবাগান, গ্রীনরোড, উত্তরা, মিরপুর—এসব এলাকায় কাজ করছি। এর পাশাপাশি ঢাকার অন্যান্য এলাকায়ও আমাদের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। অচিরেই হয়তো সেসব এলাকায়ও আমরা ব্যবসা সম্প্রসারণ করব।

কাজের গুণগত মান কিভাবে বজায় রাখছেন?

একটি ভবনের কাজ শুরু হয় আসলে সয়েল টেস্ট থেকে। এটা যদি যথাযথভাবে না করা যায়, তাহলে স্ট্রাকচারাল ডিজাইনটি প্রপারলি হয় না। তাই ওখান থেকে আমাদের কাজ শুরু হয়। আমরা নিপুণতার সঙ্গে সয়েল টেস্ট করে ভবন ডিজাইনের কাজে হাত দিই। ডিজাইনে লক্ষ রাখা হয়, যেন আলো-বাতাসের স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত থাকে। এরপর আমরা চলে যাই স্ট্রাকচারাল ডিজাইনে। এটা যদি প্রপারলি না হয়, তাহলে ভবন ফল্টি হবে। এটা নির্ভর করে সেই সয়েল টেস্টের ওপর। এর পরেই আমাদের মূল কাজ শুরু হয়। আমরা শুধু মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেই দায়িত্ব শেষ করি না। এটা ভালোভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না তা-ও খেয়াল রাখি। যেমন ভালো মানের রড ব্যবহার করেই আমরা সন্তুষ্ট থাকি না। রডটি ঠিকভাবে বাঁধা হচ্ছে কি না সেটাও নজরে রাখি। অল্প কিছু নির্মাণপ্রতিষ্ঠান—যাদের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট আছে, আমরা তাদের মধ্যে একটি। আমাদের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট এ ব্যাপারগুলো মনিটরিং করে। ভবনটা ফিনিশিংয়ের পর্যায়ে যখন চলে আসে, তখন টাইলসের এলাইনমেন্ট থেকে শুরু করে কাঠের কাজ—সব কিছু পর্যবেক্ষণ করা হয়। ইলেকট্রো মেকানিক্যাল ফ্যাক্টরগুলো যেমন—লিফট, জেনারেটর, সাব-স্টেশন ইত্যাদি আমরা তৈরি করি না, তবে বাজার থেকে সেরা মানেরগুলো সংগ্রহ করে আমাদের ভবনগুলোতে ব্যবহার করি। এর পরেই আমাদের একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এভাবেই আমরা আমাদের মান বজায় রাখি।

ভবনের নিরাপত্তার জন্য আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন?

ভূমিকম্পের বিষয়ে রাজউকের একটি নিয়ম আছে। যেমন ভবন ৯ তলার ওপর হলে আগুন লাগার সময় বের হওয়ার জন্য আলাদা সিঁড়ি দিতে হবে। এ রকম আরো কিছু নিয়ম আছে রাজউকের গাইডলাইনে। সেটা ফলো করলেই কিন্তু ভবন অগ্নিনিরাপদ হয়। আমরা সেটা মেনে চলি।

এ ছাড়া আমরা ভবনে ফায়ার অ্যালার্মিং সিস্টেমও রাখছি। আর ভূমিকম্পের ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ফলো করে গৃহ নির্মাণ করি বলে আমাদের ভবনগুলো ভূমিকম্প সহিষ্ণু।

আপনাদের ফ্ল্যাটের এত বেশি চাহিদা কেন?

আমরা গ্রাহকদের মনে আস্থা সৃষ্টি করতে পেরেছি। তাঁরা আমাদের ফ্ল্যাট কিনে সন্তুষ্ট। তাঁরাই আমাদের প্রশংসা অন্য গ্রাহকদের কাছে করছেন বলে আমাদের ফ্ল্যাটের এত চাহিদা।

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়াই আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তাঁরা যেন আমাদের একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ভাবে—সেটাই আমরা চাই। পাশাপাশি আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের বেকার সমস্যা দূর করাও আমাদের একটি স্বপ্ন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা