kalerkantho

কিশোরগঞ্জে চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জে চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত

কিশোরগঞ্জে চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। জেলার ৩৩ লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক মাত্র ১৪০ জন। ফলে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের এ সময় স্বল্প চিকিৎসক দিয়ে এত লোকের ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ৪৮৫ জন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগী ২০ জন। এ ছাড়া ১৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৪৭ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিতে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তা ছাড়া গতকাল ১২২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। উদ্বেগজনক পরিস্থিতে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।  

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় অবস্থানরত কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। এ কারণে ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গু রোগীর পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈদে রোগীদের সব রকম সুযোগ-সুবিধা দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ডেঙ্গু বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। আপাতত প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। যথারীতি চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২৮৭টি। এর মধ্যে মাত্র ৭০ জনের মতো চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। বাকি পদগুলো খালি। তা ছাড়া সদর জেনারেল হাসপাতালে আরো ৭০ জন চিকিৎসক কর্মরত। তবে জেলার ৩৩ লাখ বাসিন্দার জন্য তা খুবই কম। এ পরিস্থিতিতে ঈদের সময় ডেঙ্গু রোগী বেড়ে গেলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিতে পারে বলে সুধীজনরা মনে করছেন।

জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৬৩ জন, বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, আবদুল হামিদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং তাড়াইল ও হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আছে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতাও বাড়ছে। সর্বত্র চলছে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।’

মন্তব্য