kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

বরিশালে পরীক্ষায় দুই রকম ফল!

বরিশাল অফিস   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশাল সদরের শায়েস্তাবাদ এলাকার আড়াই বছরের শিশু মিমি রহমানের চার-পাঁচ দিন ধরে সামান্য জ্বর থাকায় গত মঙ্গলবার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরদিন বুধবার আরেকটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করে জানা যায় তার ডেঙ্গু হয়নি। রিপোর্ট দুটি দেখে চিকিৎসক মিমিকে বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। বরিশালে ডেঙ্গু নিয়ে এ অবস্থা মিমির একার নয়, দুই রকমের রিপোর্ট নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে একাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিশু ওয়ার্ডে এক সহকারী রেজিস্ট্রার বলেন, ‘একই দিনের দুই প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া রিপোর্টে দুই ধরনের ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে হেলথ হ্যাভেন থেকে করানো রিপোর্ট অনুযায়ী মিমির প্লাটিলেট এক লাখ ৯০ হাজার। আবার মেডিনোভার রিপোর্ট অনুযায়ী তিন লাখ ৮০ হাজার। এক দিনের মধ্যে এতটা উন্নতি সম্ভব নয়। চিকিৎসক যেহেতু হাসপাতালে ভর্তি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, তাই আমরা মিমির ভর্তি নিয়েছি। মিমি শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তালুকদার মোহম্মদ মুজিদের অধীনে চিকিৎসাধীন।’

চিকিৎসাধীন মিমির মা তন্নি বেগম বলেন, ‘হেলথ হ্যাভেন ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করানো টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হলে মেডিনোভা থেকে পরীক্ষা করানো হয়। সেখান থেকে ডেঙ্গু নেই বলে জানানো হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মিমিকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।’

শিশু ও নবজাতক বিভাগের প্রফেসর ডা. তালুকদার মো. মুজিদ বলেন, মিমির দুটি রিপোর্টই দেখেছি। দুটি রিপোর্ট নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। তাই সে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। পাশাপাশি আবার তার ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই রিপোর্ট দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে একাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণসহ আবারও ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হচ্ছে। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে রিপোর্ট বলছে ডেঙ্গু নেই। এটা অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন কোনো জায়গা থেকে পরীক্ষা করানো উচিত।

২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৭৪ জন : হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৫ জন, নারী ২০ জন ও শিশু ৯ জন। তা ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ জন রোগী। বর্তমানে ২৫৭ জন চিকিৎসাধীন। ১৬ জুলাই থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত শেবাচিমে মোট ৫২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা