kalerkantho

কিট সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ ঘণ্টায় ২৮ রোগী শনাক্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিট সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে টিএ রোডের রেলগেটসংলগ্ন এলাকায় গতকাল ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে অংশ নেন জেলা প্রশাসক হায়াৎ-উদ-দৌলা খান (সবুজ টি-শার্ট পরা) ও পৌর মেয়র নায়ার কবীর (শাড়ি পরা)। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৮ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলে জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৩ জন। এর মধ্যে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা আখাউড়ার মসজিদপাড়ার আয়ান নামে ১৩ মাসের এক শিশু এলাকায় বসেই আক্রান্ত হয়েছে। তবে শিশুটির অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানা গেছে। আয়ান বাদে আক্রান্ত অন্য সবাই ঢাকাফেরত।

ঈদ সামনে রেখে ঢাকাফেরত ডেঙ্গু রোগী আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু শনাক্তের উপকরণ কিটের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আগামী রবিবারের মধ্যে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

জেলার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষার মেশিন নষ্ট থাকার পরও সংশ্লিষ্টদের অবহিত না করায় টেকনিশিয়ান মনির হোসেনকে গতকাল বৃহস্পতিবার কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মেশিন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালসংলগ্ন একটি বেসরকারি মেডিক্যাল হল থেকে বিনা মূল্যে ডেঙ্গুসংক্রান্ত রক্ত পরীক্ষা করানো হবে।

এদিকে জেলার সবখানে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পৌর মেয়র নায়ার কবিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আখাউড়া পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন অভিযানে মেয়র তাকজিল খলিফা কাজলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে শিশু আয়ানের এলাকায় বসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেলায় এডিস মশার অস্তিত্ব আছে জেনে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক প্রতিষ্ঠান এক রকম রিপোর্ট দিচ্ছে তো আরেক প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে অন্যরকম। গত ৩ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পাইকপাড়ার লিটন মজুমদারের স্ত্রী শিল্পী সরকার (৩০) প্রথমে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু পজিটিভ পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে হাসপাতালে ফের পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়েনি।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন জানান, হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার করা হয়েছে। ভর্তি থাকা রোগীদের আলাদা যত্ন নেওয়া হচ্ছে। ঈদে হাসপাতালে কর্মরত কাউকে ছুটি দেওয়া হচ্ছে না। ঈদে অনেকে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিরবে বলে আগাম সতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে রাখা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ‘ঈদের বাড়তি চাপ সামলাতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ইতিমধ্যেই কিট সরবরাহ করা হয়েছে।’

মন্তব্য