kalerkantho

সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

পরীক্ষা আর রিপোর্ট পেতে উদ্বিগ্ন মুখের সারি

২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৩৮ জন, মোট চিকিৎসাধীন ৪৭৯ জন

জহিরুল ইসলাম   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষা আর রিপোর্ট পেতে উদ্বিগ্ন মুখের সারি

সকাল থেকে ২০২ নম্বর কক্ষের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা। একসময় রিপোর্ট দেওয়া শুরু হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টায়ও যেন লাইন আগায় না। কেউ কেউ লাইনে না দাঁড়িয়ে আগে রিপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করায় লাগে হট্টগোল। ২০৩ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার জন্য রক্ত জমা দিতেও লম্বা লাইন। লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে ভয় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট না আবার ফুরিয়ে যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে বলছে, তিন হাজার ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সংগ্রহে আছে। চলবে আরো এক সপ্তাহ। গতকাল বুধবার এ চিত্র ছিল রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নতুন ভবন-২-এর ২০৩ নম্বর কক্ষে রক্ত পরীক্ষার নমুনা জমা দেওয়ার জন্য রোগীদের যথেষ্ট ভিড়। এই সময়ের মধ্যে পাশের এনএসওয়ান পরীক্ষার কক্ষে ৪০টি নমুনা জমা পড়ে। দুজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট রিপোর্ট দ্রুত তৈরি করতে চেষ্টা করলেও বাইরে ২০২ নম্বর কক্ষের সামনে রোগীর স্বজনরা রিপোর্ট দিতে দেরি করার অভিযোগ তোলে।

নতুন ভবনের সপ্তম তলায় মেডিসিন বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৬ বেডের বিপরীতে মোট ভর্তি রোগী ১২২ জন। যার মধ্যে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী। ষষ্ঠ তলায় ৭৬ বেডের বিপরীতে রোগী ১০৫ জন। ডেঙ্গু রোগী ৬১ জন (নতুন ভর্তি একজন)। ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় ভবনের পঞ্চম তলায় নতুন ১০০টি শয্যা পাতা হয়েছে। সেখানে পুরুষদের জন্য তিনটি এবং নারীদের জন্য করা হয়েছে দুটি ওয়ার্ড। গতকাল দুপুর ১টা পর্যন্ত এই নতুন ওয়ার্ডগুলোতে নতুন ভর্তি হওয়া ১৪ জনসহ মোট ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওয়ার্ডটির সিনিয়র স্টাফ নার্স পুষ্প বলেন, ‘এই ওয়ার্ডের অধিকাংশ রোগী দুই-এক দিনের মধ্যে ভর্তি হওয়া। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়াতে এই বাড়তি ব্যবস্থা। তার পরও স্থান সংকুলান হতে চায় না।’

মাহমিদা হক নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গতকাল তাঁর বান্ধবী নূরে তাঈয়েবার ডেঙ্গুর এনএসওয়ান পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা জমা দেন। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে রিপোর্ট হাতে পেয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরীক্ষার রিপোর্ট যদি আগে পাওয়া যেত তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে তবে একটু দেরিতে। ডেঙ্গু না হলে তো সমস্যা নেই। কিন্তু ধরা পড়লে তো চিকিৎসা দেরিতে শুরু করতে হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা